খোলামাঠে টয়লেটের বিরুদ্ধে গোলাপ ফুল হাতে সংঘমিতার অভিযান

সকালবেলায় খোলা মাঠে টয়লেট সারতে গিয়েছিলেন এক বৃদ্ধ, হাতে পেলেন একটা গোলাপফুল!

বৃহস্পতিবার ভোরে এই ঘটনা কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়ায়।

কয়েকদিন ধরেই শ্যামপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে শৌচাগার ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করতে কাক-ভোরে অভিযান চালাচ্ছেন স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সংঘমিতা দাস।

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption বাড়িতেই টয়লেট তৈরি এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সংঘমিতা দাসের অভিযান

আজও তিনি হাজির হয়েছিলেন একটি গ্রামে। সেখানেই 'মাঠ' সারতে এসেছিলেন ওই বৃদ্ধ, বদলে পেলেন একটি গোলাপফুল।

সংঘমিতা দাস বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "আমার এলাকায় দুটো পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়িতে শৌচালয় তৈরীর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও এখনও ছটা গ্রাম পঞ্চায়েতে বাকি রয়েছে। তাই গ্রামে গ্রামে সচেতনতা গড়ে তুলতে ভোরবেলায় বেরচ্ছি।"

"ওই গোলাপফুলের ব্যাপারটা না হয় আর নাই বা লিখলেন!" হেসে বলছিলেন তিনি।

২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের সব গ্রামীণ এলাকার বাড়িতে শৌচাগার তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত সরকার। দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই পরিকল্পনা স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে চলে, তবে পশ্চিমবঙ্গে এর নাম 'নির্মল বাংলা'।

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২০০১ সালে মাত্র ২২% গ্রামীণ বাড়িতে শৌচাগার ছিল, তবে ২০১১ সালের সর্বশেষ জনগণনা অনুযায়ী সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩২.৭% আর ২০১২-তে ৪০.৬% গ্রামীন বাড়িতে শৌচাগার রয়েছে।

২০১২ থেকে ২০১৪-র অক্টোবর সময়ের মধ্যে গ্রামীন এলাকায় এক কোটি নয় লক্ষ ৫৮ হাজার শৌচাগার তৈরী হয়েছে ব্যক্তিগত বাড়িগুলিতে। ওই একই সময়কালে এক লক্ষ ২২ হাজার আটশোর বেশী শৌচাগার হয়েছে স্কুলগুলির জন্য।

তবে বাড়িতে শৌচাগার থাকলেও অনেকে পুরণো অভ্যাস মতো মাঠেই প্রাত:কৃত্য সারতে যান, বাড়ির টয়লেট বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

মিজ. দাস বলছিলেন যে এটা তাঁর এলাকাতেও একটা সমস্যা। আর তাই এবার একটু কঠোর হচ্ছে তাঁর প্রশাসন।

"একটা স্লোগান ঠিক করেছি, যাতে বলা হবে এবার থেকে মাঠে গেলে জরিমানা হবে, সঙ্গে সব সরকারী সাহায্য-অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সরাসরি কথা বলায় অনেকেই বুঝতে পারছেন এর গুরুত্বটা, ভুলও স্বীকার করে নিচ্ছেন। সচেতনতা যে বাড়ছে, সেটাই মনে হচ্ছে," বলছিলেন হাওড়া জেলার ওই প্রশাসনিক আধিকারিক সংঘমিতা দাস।

এর আগেও ভারতে শৌচাগার ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করে তুলতে নানা অভিনব উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে সরকারী আধিকারিকদের। কোথাও রেল পুলিশ প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করার জন্য প্রতীকী গ্রেপ্তার করেছে, কোথাও 'হল অফ ফেম'-এর আদলে 'হল অফ শেম' নামে একটা দেওয়ালে মাঠে প্রাত:কৃত্যকারীদের ছবি সহ তালিকা প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার প্রাত:কৃত্য করার পরেই কোদাল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই ব্যক্তিকেই তা মাটি চাপা দেওয়ার জন্য।