প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে জানিয়েছেন মীর কাসেম

Image caption ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলী প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না। আজ লিখিতভাবে তিনি একথা জানিয়ে দিয়েছেন কাশিমপুরের কারা কর্তৃপক্ষকে।

কাশিমপুরের জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বিবিসি বাংলাকে জানান, কারা কর্মকর্তারা আজ তৃতীয় দিনের মতো মীর কাসেম আলীর কাছে যান প্রাণভিক্ষার আবেদনের ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত জানতে। এর আগের দুদিনও তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি সময় চেয়েছিলেন।

প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, মীর কাসেম আলী আজ লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না। তার এই চিঠি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশের কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারউদ্দীনও বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোলের কাছে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলো।

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে অপহরণ করে হত্যার দু'টি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে এই মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১৪টি অভিযোগের ১০টি প্রমাণিত হয়েছে।

মি. আলীর বিরুদ্ধে আনা ১৪টি অভিযোগই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নির্যাতন কেন্দ্রকে ঘিরে।

কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে অপহরণের পর নির্যাতন কেন্দ্রে আটকিয়ে রেখে হত্যা করে তাদের মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে, এই অভিযোগে তিন জন বিচারকের সমন্বয়ে আদালত সর্বসম্মতিক্রমে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

মীর কাসেম আলী গ্রেফতার রয়েছেন ২০১২ সালের জুন মাস থেকে।

পরের বছর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

মীর কাসেম আলীকে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম তহবিল যোগানদাতা বলে বিবেচনা করা হয়। জামায়াতেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ছিলেন তিনি।