উরির হামলাকারীরা উচ্চ-প্রশিক্ষিত: রাজনাথ সিং

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption উরির এই ঘটনা সাম্প্রতিককালে কাশ্মীরে সবচেয়ে বড় মাপের আক্রমণ

ভারত নিয়ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে এক সেনাঘাঁটিতে চার বন্দুকধারীর হামলায় ১৭ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হবার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আক্রমণকারীরা ছিল উচ্চস্তরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তাদের সাথে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ছিল।

কাশ্মীরের ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখার কাছেই এ আক্রমণ ঘটে। রাজনাথ সিং টুইটারে এক বার্তায় আরো বলেছেন, আক্রমণকারীরা যে উচ্চ প্রশিক্ষিত ছিল এবং তাদের সাথে বিশেষ ধরণের যন্ত্রপাতি ছিল - তার সুনির্দিষ্ট আভাস পাওয়া গেছে।

তিনি ওই বার্তায় পাকিস্তানকে 'একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র' বলে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি ক্ষুব্ধ যে তারা (পাকিস্তান) এখনো সন্ত্রাসবাদকে অব্যাহত এবং প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে চলেছে।

তবে পাকিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র বিবিসির কাছে এ ঘটনায় 'তাদের জড়িত থাকার ভারতীয় দাবি' সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ভোর পাঁচটার দিকে ওই আক্রমণ চালানো হয়। সে সময় আক্রান্ত সৈন্যরা তাঁবুতে ঘুমাচ্ছিল এবং গ্রেনেড আক্রমণে তাদের তাঁবুতে আগুন ধরে গেলে তারা নিহত হয়।

আক্রমণে অন্তত ৩০ জন সৈন্য আহত হয়েছে। এর পর প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে ভারতীয় সৈন্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ চলে এবং তাতে আক্রমণকারীরা সবাই নিহত হয়।

ছবির কপিরাইট টুইটার
Image caption ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টুইটার বার্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে এক বার্তায় এ আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন।

উরির ওই ঘাঁটিটি রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে । হামলাযর পর পাকিস্তানের সাথে নিয়ন্ত্রণ-রেখা বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত প্রায় দু-মাস ধরে সহিংস বিক্ষোভ চলছে এবং এতে ৮০ জনেরও বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই হামলাকে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা বলা হচ্ছে।

এর আগে কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরে ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া এক স্কুল ছাত্রের মৃতদেহ পাওয়া যাওয়ার পর পুরো রাজ্য জুড়ে জারি করা হয়েছে কঠোর সান্ধ্য আইন।

সেখানে লোকজনের চলাফেরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

কাশ্মীরে সম্প্রতি এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে গুলি করে হত্যার পর সেখানে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে আবারও ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।

সম্পর্কিত বিষয়