বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ইট তৈরিতে বাধা কোথায়?

ছবির কপিরাইট Shahnaz Parveen
Image caption প্রচলিত পদ্ধতির ইটভাটায় ব্যাপক বায়ুদূষণ হয়

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ইট তৈরি এবং এর ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় আজ সরকারের পক্ষ থেকে একটি সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে সরকারীভাবে পুরনো পদ্ধতির ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া বন্ধ রেখেছে সরকার। কিন্তু তারপরও পরিবেশবান্ধব ইট তৈরিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

পরিবেশবিদ ড. আতিক রহমান বলছেন, পরিবেশবান্ধব ইট ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেক কমবে।

প্রচলিত ইটভাটায় তৈরি ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইট তৈরির বিষয়ে একটি প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। এ উপলক্ষে রোববার 'গ্রিন ব্রিক কনভেনশন ২০১৬' নামে একটি সম্মেলনও আয়োজন করেছে সরকারী সংস্থা, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড।

আইনের আওতায় পুরনো প্রযুক্তির ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার এবং পুরনো ইটভাটাগুলোকে ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রচলিত ইটভাটায় উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করায় জমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে ইটভাটা মালিকরা এখনো পর্যন্ত নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে খুব বেশি আগ্রহ দেখাননি।

"একটা সাধারণ ইটের ভাটায় যদি ১ কোটি টাকা খরচ হয়, তবে এসব ইটের ভাটায় ৪০-৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। মালিকদের এজন্যে সরকার স্বল্পসুদের ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করছে"। বলেন ড. আতিক রহমান। তিনি গ্রিন ব্রিক সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

মূলত: পরিবেশবান্ধব ইট তৈরিতে ইটভাটা মালিকদের আগ্রহী করে তোলা এবং এসংক্রান্ত ঋণ বিষয়ে ইটভাটা মালিকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে এই সম্মেলন থেকে।

পরিবেশবান্ধব ইটের কারণে নির্মাণের খরচও বাড়বে না বলে জানান ড. রহমান।

ড. রহমান বলেন, বর্তমানে সাধারণ ইটের দাম পড়ে ৬ টাকা, সেখানে পরিবেশবান্ধব ইটের দাম পড়ছে ৮ টাকা।

"যেহেতু এই ইট পলিশড অবস্থায় থাকে, এজন্যে এগুলো সহজেই ব্যবহার করা যেতে পারে।"

তিনি বলেন, চাহিদা আরো বাড়লে এই দাম আরো কমে আসবে এবং নির্মাণ খরচও আরো কমে যাবে।