একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করায় ঢাকায় বিক্ষোভ

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption শ্রাবণ প্রকাশনীকে একুশে বইমেলায় নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বাংলাদেশের একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনী নামে একটি প্রকাশনা সংস্থাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে একদল লেখক ও প্রকাশক আজ (মঙ্গলবার) ঢাকায় সমাবেশ করেছেন।

বাংলা একাডেমী বলছে, গত বছর বইমেলায় ইসলাম ধর্মকে কটূক্তি করে প্রকাশিত একটি বই নিষিদ্ধ করার পর, শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, এতে অমর একুশে বইমেলার নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে।

তবে আজকের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া লেখক ও প্রকাশকরা বলছেন, বাংলা একাডেমীর এই সিদ্ধান্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

ঘটনার শুরু গত বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ইসলাম বিতর্ক নামে একটি বই নিষিদ্ধ করাকে ঘিরে। সেসময় বইয়ের প্রকাশক ও লেখককে গ্রেফতার করা হয় এবং বই মেলায় বইটির প্রকাশনী সংস্থার স্টলটিও বন্ধ করে দেয় বাংলা একাডেমী।

শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান বলছেন তিনি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ করেছেন তা ছিলো বাংলা একাডেমীর বাইরে এবং তার ব্যক্তিগত।

তিনি বলছেন, "একটি বই নিষিদ্ধ হলে তার প্রতিবাদ করতেই পারি। আর যখন আমার কমিউনিটির একজন লেখক, একজন প্রকাশককে গ্রেফতার করা হয় তার পক্ষে আমাকে দাড়াতেই হবে। সেই দাঁড়ানোটা ছিলো বাংলা একাডেমীর বাইরে। ফলে বাংলা একাডেমীর ভেতরে যে নিয়ম আছে সেই নিয়মের বরখেলাপ আমি করিনি"

মি আহসান বলছেন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন নোটিস দেয়া হয়নি তবে মেলায় স্টল বরাদ্দ নেয়ার জন্য কাগজপত্র জমা দিতে গেলে তাকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

একাডেমীর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজকের সমাবেশে আসা লেখক ও প্রকাশকরা বলছেন এতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয়। লেখক ও ব্লগার মারুফ রসুল বলছেন, "মত প্রকাশের স্বাধীনতা বেশ কিছু ভাবে খর্ব হচ্ছে। এখন লেখক লিখছেন কিন্তু সেটা তো প্রকাশ করতে হবে এবং সেটা প্রকাশ করেন হচ্ছে প্রকাশক। সুতরাং প্রকাশকের সংগে কিন্তু লেখকের একটা সম্পর্ক থাকে। কোন একটি প্রতিষ্ঠান যখন বলে যে আপনি এই বইটি প্রকাশ করতে পারবেন না তখন কিন্তু যে মুস্কিলটা হয় লেখকের লেখা ছাপা হয়না"

অন্যদিকে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের পরিষদের নভেম্বর মাসের একটি সভায় শ্রাবণ প্রকাশনীকে দু বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী বইমেলার নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন।

বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলছেন, "শ্রাবণ প্রকাশনীর রবিন আহসান মেলার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। মেলা নিতিমালায় আছে মেলা কমিটির কোন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোন অংশগ্রহণকারী প্রকাশক যদি কোন মতামত দিতে চায় বা প্রতিবাদ করতে তাহলে মেলা কমিটিতেই বলতে হবে। কিন্তু তা না করে তিনি প্রকাশ্যে বাংলা একাডেমীর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাও আবার এমন একটি অশ্লীল বই ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত দেয় তার পক্ষে। সেজন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে"

কিন্তু তাহলে কি কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করাও কি বাংলা একাডেমীর নিতিমালায় নিষিদ্ধ আছে। তার জবাবে মি খান বলেন, "হ্যাঁ নিষিদ্ধ আছে। সেটি সে এখানে এসে বলতে পারে। এখানে তর্ক বিতর্ক হতে পারে। তারপর কমিটির মেজরিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হবে। কিন্তু তিনি তো কমিটির কাছে আসেন নি"

সম্পর্কিত বিষয়