জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মুসলিম তরুণদের ওপর 'নজরদারিতে কাজ হচ্ছে'

ছবির কপিরাইট PA
Image caption পুলিশ কর্মকর্তা সাইমন কোল

ব্রিটেনে জঙ্গিবাদ রোধে প্রধানত মুসলিম কিশোর-তরুণদের ওপর নজরদারির এক বিতর্কিত ব্যবস্থাকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন সিনিয়র একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

ব্রিটেনের লেস্টারশায়ার পুলিশের প্রধান কনস্টেবল সাইমন কোল বলেছেন প্রিভেন্ট কর্মসূচিকে 'গোয়েন্দাগিরি' তকমা দিয়ে অনর্থক বিতর্কিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ রুখতে দারুণভাবে কাজে লাগছে এই কর্মসূচি।

প্রিভেন্ট কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে, হাসপাতালে, কেলার মাঠে কিশোর, তরুণ, যুবকদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তাদের আচরণে সন্দেহজনক কিছু দেখলে তা পুলিশকে এবং অভিভাবকদের জানানো হচ্ছে।

অনেক রাজনীতিক, শিক্ষক এবং মুসলমানদের প্রধান একটি সংগঠন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এই কর্মসূচির প্রতিবাদ করছে। তাদের বক্তব্য এতে মুসলিম সম্প্রদায়কে মনস্তাত্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে যা জঙ্গিবাদ দমনের লড়াইতে উল্টো ফল দেবে।

কিন্তু সাইমন কোল বলছেন, প্রিভেন্টকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। "আমরা চেষ্টা করছি, তরুণদের মনোভাব বদলের চেষ্টা করছি, তাদের সামনে সুযোগ তুলে ধরছি যাতে তারা বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।"

বিবিসি বাংলার আরও খবর পড়ুন:

'ঢাকার আত্মঘাতী বোমারু নারীর নাম শাকিরা'

স্বামীদের চাপেই কি নারীরা জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে?

২০১৬ সালে বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গিবাদ

ছবির কপিরাইট PAUL ELLIS
Image caption প্রিভেন্ট কর্মর্সূচি নিয়ে ব্রিটেনে মুসিলমদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে

প্রিভেন্ট কর্মসূচির আওতায় গত এক বছরে ৭৫০০ কিশোর- তরুণ-যুবককে 'রেফার' করা হয়েছে অর্থাৎ কট্টর মনোভাব ধারণ করার সন্দেহে তাদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশের হিসাবে তাদের ১০ শতাংশ জঙ্গিবাদে জড়ানোর বড় ধরণের ঝুঁকিতে ছিল।

কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রিভেন্ট কর্মসূচির কারণে সিরিয়ায় এবং ইরাকে গিয়ে আই এসের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য অন্তত দেড়শটি উদ্যোগ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়