হরিণ শিকারের মামলায় অব্যাহতি পেলেন সালমান খান

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আদালতে সালমান খান (ফাইল ছবি)

ভারতে বলিউড তারকা সালমান খান রাজস্থানে উনিশ বছর আগে বিরল প্রজাতির হরিণ মারার এক পুরনো মামলায় আজ অস্ত্র আইনে অব্যাহতি পেয়ে গেছেন।

সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র রেখেছেন এবং হরিণ শিকারে তা ব্যবহার করেছেন।

কিন্তু যোধপুরের আদালত আজ তাকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে জানিয়েছে, সালমানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তিশালী সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করা যায়নি।

এই রায়ের পর ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন - কিন্তু রাজপথে সালমান খানের ভক্তরা আনন্দে ফেটে পড়েছেন। সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সালমান খান নিজে তার অনুগামীদের ধন্যবাদও দিয়েছেন।

১৯৯৮ সালে রাজস্থানে একটি ফিল্মের শ্যুটিংয়ে এসে তিনি ব্ল্যাকবাক ও চিনকারা শিকার করেছেন - এই অভিযোগে করা অস্ত্র আইনের মামলায় যোধপুর কোর্টে সালমান খানের আজ হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল ঠিক বেলা এগারোটায়।

কিন্তু হোটেল থেকে বেরোতেই তাকে ছেঁকে ধরেন ভক্তরা, কোর্টে পৌঁছতেই তার চল্লিশ মিনিট দেরি হয়ে যায়।

তবে এজলাসে তাকে থাকতে হয়েছিল মাত্র ছ'মিনিট - তার মধ্যেই বিচারক তাকে জানিয়ে দেন তিনি নির্দোষ। বেরিয়ে দুয়েকজন ভক্তকে হাসিমুখে অটোগ্রাফ দিয়ে ধুলোর ঝড় উড়িয়ে চলে যায় সালমান খানের কনভয়।

সালমানের আইনজীবী হস্তিমল সারস্বত বলেন, "এই রায় ন্যায়ের জয়। ১০২ পাতার দীর্ঘ রায়ে আদালত এ কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে সালমান খানের বিরুদ্ধে প্রমাণ আদৌ মজবুত নয়। আমি তো বলব এই মামলায় জাল তথ্যপ্রমাণ তৈরি করে দেশের একজন নামী সেলিব্রিটিকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সালমান খান খুবই জনপ্রিয় বলিউড তারকা

সালমান নিজে রায়ের পর মুখ খোলেননি, তবে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই টুইট করে জানিয়েছেন যারা তার জন্য এতদিন ধরে দোয়া করে আসছেন ও শুভকামনা জানিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ।

তবে ফুটপাতে গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ মারা থেকে শুরু করে ব্ল্যাকবাক শিকার, একের পর এক মামলায় সালমান খান যেভাবে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে অবশ্য অনেকেই তার তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন।

কিন্তু রাজপথে সালমানের ভক্তদের মধ্যে ছিল সম্পূর্ণ অন্য ছবি। যোধপুরে স্কুলের ছাত্রী যে কিশোরীরা আজ আদালতের সামনে সালমানকে দেখতে ভিড় করেছিল তাদের বলতে কোনও দ্বিধা নেই তাদের প্রিয় তারকা আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তারা খুশি।

আনন্দের বাড়তি কারণ, তারকার দেখা মিলেছে - এবং আগামী ২৫ জানুয়ারি আরও একটি শুনানিতে তার আসার কথা থাকায় আবার দেখা হওয়ার সুযোগও আছে।

কিন্তু বিপন্ন হরিণ শিকারের এমন একটা মারাত্মক অভিযোগের কোনও সুরাহা না-হওয়া সত্ত্বেও আমজনতা কীভাবে খুশি হতে পারছেন?

সমাজতাত্ত্বিক বুলা ভদ্র মনে করছেন, সালমান খান তারকা বলেই ভারতে তার সাতখুন মাফ। তিনি বলছেন, "ফুটপাতে মানুষ মেরে বা বিপন্ন হরিণ শিকার করেও তিনি যেভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন তারপর তো নির্ভয়া ধর্ষণ মামলাতেও আমরা দোষীদের সাজা চাইতে পারব না!"

কিন্তু হরিণ শিকারে কাউকে যে দোষী প্রতিপন্ন করা গেল না, সেখানে ব্যর্থতাটা কার? বুলা ভদ্র কিন্তু বিচারবিভাগ বা রাষ্ট্রপক্ষের চেয়ে সামাজিক পরিস্থিতিকেই এখানে বেশি দায়ী করছেন।

"সালমান খানের মুক্তিতে যারা আনন্দ করছেন আমি তো বলব তারা চোখে ঠুলি পড়ে আছেন। এটাকে বলা যায় এক ধরনের বলিউডি আফিম। আফিম যেমন বোধবুদ্ধি, চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে দেয় তেমনি এই বলিউডি আফিমও তাদের সালমান খানের কোনও দোষ দেখতে দেয় না!" বলছিলেন তিনি।

ওদিকে মুম্বাইয়ের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে সালমান খানের বাড়ির সামনে ততক্ষণে ভিড় জমে গেছে, সালমানের ভক্তরা তাদের প্রিয় হিরোর বন্দনায় গান গাইছেন, নাচ করছেন।

সালমানের কোনও কোনও ভক্ত এমনটাও বলছেন, "উনি একটু বেশি বিতর্কে জড়ান ঠিকই - কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওর সব কিছু ভালই হয়ে থাকে, এটা আমরা সবাই এতদিনে জেনে গেছি।"

আজকের রায়ের পর সালমান খানও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগোলেন - যে বিপন্ন ব্ল্যাকবাক শিকারের মামলায় তার হয়তো শেষ পর্যন্ত কোনও সাজাই হবে না।

সম্পর্কিত বিষয়