'আমার পরিবারও চায় আমি যেন নিরাপদে বাড়িতে যাই'

ছবির কপিরাইট HAFIZ AL ASAD
Image caption ঢাকার গাবতলীতে র‍্যাব-পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে।

হাতে লাঠি-সোটা নিয়ে ১০-১২ জনের একদল যুবক যাত্রীবাহী একটি বাসের গতিরোধ করলেন। কয়েকজন যুবক আবার দূর থেকে ঢিল ছুঁড়ছেন।

বাসে থাকা যাত্রী এবং চালককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হলো। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালের অদূরে এ ঘটনা।

পরিবহন শ্রমিকদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চরম বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য চোখে পড়লো ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালের আশ পাশের এলাকায়। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে হাতে লাঠি-সোটা নিয়ে অনেক শ্রমিক রাস্তায় মহড়া দিচ্ছে।

গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত পরিবহন শ্রমিকদের দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলার পর বুধবার সকালে আবারো সে সংঘর্ষ শুরু হয়।

শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক'শ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস এবং কিছু রাবার বুলেট ছুঁড়েছে পুলিশ। ঘন্টাখানেক সংঘর্ষ চলার পর পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

একজন পরিবহন শ্রমিক রফিকুল ইসলাম জানালেন, তাদের দাবী না মানা পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালাবেন। শুধু অ্যাম্বুলেন্স এবং সংবাদমাধ্যমের গাড়ি তাদের এ ধর্মঘটের আওতাভুক্ত। তিনি মনে করছেন, দু'জন চালককে 'অতিরিক্ত সাজা' দেয়া হয়েছে।

ছবির কপিরাইট FOCUS BANGLA
Image caption পরিবহন ধর্মঘটে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ

রফিকুল ইসলাম বলেন, "কোন ড্রাইভার ইচ্ছা করে এক্সিডেন্ট করেনা। আমাদেরও পরিবার আছে। আমার পরিবারও চায় আমি যেন নিরাপদে বাড়িতে যাই।"

রফিকুল ইসলাম যখন কথা বলছিলেন, তখন আরো অন্তত ৫০জন পরিবহন শ্রমিক তাকে ঘিরে ছিলেন। রফিকুল ইসলামের কথায় সবাই চিৎকার করে শ্লোগান দিয়ে তাকে সমর্থন জানালেন।

তবে যাত্রীরা পরিবহন শ্রমিকদের এ ধর্মঘটের কড়া সমালোচনা করছেন। একজন যাত্রী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, " পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের জিম্মি করছে। ওরা নিজেদের আইনের উর্ধ্বে মনে করে। তারা মনে করে গাড়ি বন্ধ করে দিলেই সব দাবী আদায় হবে।"

দু'টো সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় সম্প্রতি একজন চালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপরজনকে মৃত্যুদণ্ড দেবার প্রতিবাদে দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জে একটি দুর্ঘটনায় ২০১১ সালে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনির নিহত হয়। অপর আরেকটি ঘটনায় সাভারে এক নারী ট্রাক চাপায় নিহত হয়।

এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে শুধু যে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে তা নয়। ঢাকা শহরের পণ্যের সরবরাহে মারাত্নক ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে অনেক বাজারে শাক-সবজির দাম বেড়ে গেছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন।

পরিবহন খাতে অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে বুধবার সকালে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন সরকারের কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী।

ছবির কপিরাইট BBC BANGLA
Image caption যাত্রী নেই ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং সড়ক পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের কয়েকজন প্রতিনিধি এ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাও বটে। এছাড়া স্থানীয় সরকার এবং সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন শীর্ষ নেতা।