জাতিসংঘ বলছে সিরিয়ার যুদ্ধে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে শিশুদের। তেমন এক শিশু রৌয়ার গল্প

  • ২৫ এপ্রিল ২০১৭
ছবির কপিরাইট AFP
Image caption জাতিসংঘ বলছে মানবিক ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল কয়েক মিলিয়ন সিরিয় শিশু।

লেবাননের এক শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন ছয় বছরের রৌয়া।

দামেস্কে তাদের বাড়ির কাছে রাসায়নিক হামলা হবার পর, তার পরিবার সিরিয়া ছেড়ে লেবাননে পালিয়ে আসে।

এরপর তাদের ঠাই হয় লেবাননের এক শরণার্থী শিবিরে। এখানে নিরাপত্তা পেয়েছে রৌয়া ও তার পরিবার।

কিন্তু ক্যাম্পের জীবন খুব কঠিন। সেখানে মানিয়ে নেয়া এমনকি বাচ্চাদের জন্যও ভীষণ কষ্টের।

রৌয়া বলছিল, "রাতের বেলায় টয়লেটে যেতে চায়না সে। "ক্যাম্পের কুকুরগুলো দেখলেই আমার ভয় করে। আর টয়লেটগুলোতে ঘর থেকে দূরে। আমি বের হয়ে যদি দেখি, কুকুরগুলো আছে, তাহলে দৌড়ে ফেরত আসি। এরপর..আমি..আমি বিছানায় হিসু করে দিই"।

জাতিসংঘ বলছে ছয় বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে তবে এর সবচেয়ে বড় মূল্যটি দিতে হয়েছে শিশুদের।

মানবিক ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল কয়েক মিলিয়ন শিশু, যাদের প্রায় অর্ধেক নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকা শিশুদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ প্রায় ভুলে গেছে।

নিজের দেশে রৌয়া আর তার বোনকে নিয়ে তাদের ছোট্ট পরিবারটি খুব ভালো অবস্থায় ছিল। কোনকিছুর অভাব ছিল না।

২০১৩ সালে সীমান্ত পেরিয়ে আসার সময় নিজের প্রিয় পুতুলটি ছেড়ে আসতে হয়েছিল তাকে, যার জন্য এখনো মনটা খারাপ হয় তার।

কিন্তু এখানে কয়েকশো পরিবারের সঙ্গে সবকিছু ভাগাভাগি করতে হয় তাদের।

ক্যাম্পে খুব সামান্য অর্থের মধ্যে চালিয়ে নিতে হয় প্রায় সব খরচ।

রৌয়া বলছেন, "এখানকার ধূলা আর ময়লা আমার একদমই পছন্দ হয়না। আর যদি যুদ্ধ না হলে, আমি দেশে ফেরত চলে যেতে চাইতাম। এখন তো সিরিয়ার অবস্থা ভালো না, সব ধ্বংস হয়ে গেছে"।

রৌয়ার কাছে প্রতিবেদক ক্যারোলাইন হোলে জানতে চেয়েছিলেন, সিরিয়ার কি কি জিনিসের কথা তার মনে আছে?

রৌয়া বলছিল তার পরিবারের কথা, তাদের ছোট্ট বাড়ি, বাড়ির কাছে স্কুল আর খেলার মাঠটির কথা।

যেখানে স্কুলের বন্ধু আর প্রতিবেশী পরিবারের সমবয়সী বাচ্চাদের সঙ্গে তারা বিকেলে খেলা করত।

কিন্তু নিজের দেশ নিয়ে সর্বশেষ যে স্মৃতি তার আছে, সেটি বেশ হৃদয় বিদারক।

সে বর্ণনা করে বলছিল, "মা-বাবা দুইজন গাড়ির সামনের সিটে বসে ছিল, আর আমি ছিলাম পেছনে। এরপর বাবার পায়ে গুলি লাগল। রক্তক্ষরণ হয়ে বাবা অজ্ঞান হয়ে গেলেন সেখানে। পরে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল"।

রৌয়া স্কুলে যেতে ভালোবাসে, আর একদিন সে শিক্ষক হতে চায়। এই ক্যাম্পে একটা স্কুল হবে একদিন, এই তার স্বপ্ন।

তাহলে সে আর অন্যরা স্কুলে যেতে পারত, রোজ খেলতে যেতে পারত।

"আমার খুব আশা আমি পড়তে পারব। আর আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন কেউ এখানে এসে একটা স্কুল বানাবে"।

এখানে সমবয়সীদের কাছে রৌয়া খুবই জনপ্রিয়।

ক্যাম্পে খেলাধুলার পাশাপাশি নিজেরা পরস্পরকে নিজেদের দেশে শিখে আসা ছোট ছোট জিনিস যেমন, কেউ আবৃত্তি করে, ইংরেজি শেখায় আরেকজন।

আর নিজেদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের মত এই শিশুরাও অপেক্ষা করে কোনদিন বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা।