ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক নারী কনস্টেবল ডায়েরিতে লিখে গেলেন আত্মহত্যার কারণ

  • ২৫ এপ্রিল ২০১৭
মহিলা পুলিশ সদস্যদের হাত ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption একটি সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে পুলিশ বিভাগে নারীদের ১০ ভাগের বেশি সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হন।

বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার ব্যারাকে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন পুলিশের কনস্টেবল হালিমা বেগম।

চলতি মাসের দুই তারিখের ঘটনা এটি। এরপর তাঁর বাবা হেলাল উদ্দিন আকন্দ সাংবাদিকদের কাছে তার ডায়েরি প্রকাশ করেছেন।

সেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি লিখে রেখে গেছেন তার আত্মহত্যার কারণ।

মি. আকন্দ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "ওর মৃত্যুর পর পাঁচ দিনের মাথায় আমরা যখন ওর মালপত্র আনতে যাই, তখন সেখানে লাগেজের মধ্যে ঐ ডায়েরি ও দুই কপি কাগজ পেয়েছি"।

"অনেক গোপন কথা আপনাকে বলতে হবে, কী করে যে এসব বলি" - অনেকটা অসহায়ভাবে বললেন এই পিতা।

তারপর তিনি জানালেন, হালিমা বেগম ডায়েরিতে লিখেছেন তাকে তাঁর এক সহকর্মী, একই থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর ধর্ষণ করেছেন।

মি. আকন্দ বলছেন, "কিভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেটিও সে লিখেছে। তাকে বলা হয়েছিলো ইয়াবা বিক্রি করে এরকম এক মেয়ে আসামি ধরার জন্য মহিলা পুলিশ লাগবে। তাই বলে আমার মেয়েকে নিয়ে যায় মিজান। তারপর এই ঘটনা"।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ফেসবুক লাইভে মেয়েকে হত্যা করে বাবার আত্মহত্যা

'পাঁচশ কেজি মহিলার ওজন কমে নি': বোনের দাবি

দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে মার্কিন সাবমেরিন

কাশ্মিরে পাথর ছোঁড়ায় যোগ দিচ্ছে মেয়েরাও

পুলিশের কর্মকর্তারা ঐ সাব-ইন্সপেক্টরকে মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম নামে চিহ্নিত করেছেন।

হালিমা বেগম তাঁর ডায়েরিতে আরো লিখেছেন তিনি যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যান, সেটি তিনি গ্রহণ করেননি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, "আমার কাছে সে ধর্ষণের অভিযোগ করেনি। উল্টো মিজান আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে হালিমা তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলো"।

হালিমা বেগমের অভিযোগ তিনি কেন গ্রহণ করেননি, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "একথা পুরো অসত্য। আমার কাছে সে কোন অভিযোগ করেনি"।

এ ঘটনায় হালিমার বাবা বাদী হয়ে ঐ সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

এসআই মিজানুল বর্তমানে কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন দেলোয়ার আহমেদ।

গত বছর শেষের দিকে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ নামে একটি সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুলিশ বিভাগে কর্মরত নারী সদস্যদের মধ্যে ১০ ভাগের বেশি সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হন।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বিভাগে তাদেরই এক কর্মকর্তার হাতে আর এক পুলিশ সদস্যের এমন ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

নারী পুলিশদের জন্য গঠিত বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মিলি বিশ্বাস বলছেন, "তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আমরা ওয়াকিবহাল আছি। ভিকটিমের বাবা হেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ পূর্বক তদন্তের অগ্রগতিতে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে"।

পুলিশ বিভাগে সাধারণত নারী সদস্যরা কী ধরনের অভিযোগ করেন বা কী পরিমাণে অভিযোগ তারা পান, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সাধারণত পুলিশের নারী সদস্যগণ তাদের প্রশাসনিক সমস্যার কথাই বেশি উল্লেখ করেন। অভিযোগের মাত্রা আসলে খুব বেশি নয়, মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে আছে। বিষয়টি আসলে অভ্যন্তরীণ এবং গোপনীয়"।

এর চেয়ে বিস্তারিতভাবে তিনি আর কিছু বলতে চাননি।