বাংলাদেশে নির্বাচনের পালে হাওয়া, নেই আগাম ভোটের ইঙ্গিত

  • ৮ মে ২০১৭
ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption তৎপরতা বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন হবে আগামী বছর অক্টোবরের ৩০ তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে।

আগাম নির্বাচনের কোনো ইঙ্গিত নেই। বিরোধী বিএনপিও সেই আশা করছে না।

কিন্তু দেড় বছরের মত বাকি থাকতেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করেছে প্রধান দলগুলো।

লেখক ও রাজনীতির গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, দলগুলো 'গা ঝাড়া' দিয়ে উঠেছে।

"বোঝাই যাচ্ছে দলগুলো নির্বাচনের জন্য তৈরি হচ্ছে...নির্বাচনের আগে আমরা যেসব আগাম আলামতগুলো দেখি, সেগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে।"

রাজনৈতিক দলগুলোও তা অস্বীকার করছে না।

নাম প্রকাশ না করে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির শীর্ষ একাধিক নেতা বিবিসিকে বলেছেন, এমনকী ভেতরে ভেতরে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী সনাক্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

"মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়েছে। তিনবছর কেটে গেছে। বাকি আছে এক বছর কয়েক মাস.. আমরা দল গোছাতে শুরু করেছি।"

রোববার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের সাবধান করেছেন আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচনের মত সহজ হবেনা। তিনি ইঙ্গিত করেছেন বিএনপি সামনের নির্বাচনে যোগ দেবে এবং সেজন্য শক্ত লড়াইয়ের জন্য এমপিদের কাজ শুরু করতে বলেছেন।

আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তাদের কমিটিগুলোকে চাঙ্গা করতে শুরু করেছে।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ফটো)

আগামী নির্বাচন নিয়ে তারা কি করছেন? বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসিকে বলেন, "বিএনপি সবসময়ই একটি নির্বাচন-মুখি দল, তবে মূল কথা হচ্ছে সেই নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে কিনা।"

নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না - এ নিয়ে বিএনপি এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। তবে দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানো হচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন বুধবার তারা বাংলাদেশের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের একটি রূপরেখা প্রকাশ করবেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন এই রূপরেখার সাথে নির্বাচনের সম্পর্ক স্পষ্ট।