সেমিফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত প্রায় নিশ্চিত

ছবির কপিরাইট DIBYANGSHU SARKAR
Image caption নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ এর আগেই সেমিফাইনালে তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।

রবিবার লন্ডনের ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আট উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ বি-তে নিজেদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া একরকম নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। ফলে গ্রুপ এ-তে রানার আপ বাংলাদেশের সঙ্গে সেমিফাইনালে তাদের দেখা হচ্ছে।

এখন গ্রুপ বি থেকে অন্য কোন দল সেমিফাইনালে যায়, তা দেখার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে সোমবারের শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচের দিকে। একটি করে ম্যাচে জিতে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান, তবে রানরেটে সামান্য এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মধ্যে কোনও একটি দল যদি অবিশ্বাস্য রকমের বিরাট ব্যবধানে জিতে রানরেটে ভারতের চেয়েও এগিয়ে যেতে পারে, তবেই একমাত্র তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশের সামনে পড়ার সুযোগ থাকছে। তবে সেই সম্ভাবনা বলা যায় একেবারেই ক্ষীণ।

ফলে মোটামুটি ধরেই নেওয়া হচ্ছে, বার্মিংহামের এজবাস্টনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১৫ জুন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আর ভারতই খেলতে নামছে। ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় (বাংলাদেশে বিকেল তিনটে, আর ভারতে আড়াইটায়)।

এর আগে এই টুর্নামেন্টে ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে এই এজবাস্টনেই পাকিস্তানকে অনায়াসে হারিয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য তাদের তিনটি ম্যাচ খেলেছে লন্ডনের ওভাল ও কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে - ফলে বার্মিংহামে তাদের এখনও খেলার কোনও সুযোগ হয়নি।

রবিবার ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দলের জন্যই ওভালে ছিল টুর্নামেন্টে মরণ-বাঁচনের লড়াই। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এবং ৪৪ ওভার ৩ বলে মাত্র ১৯১ রানেই তারা অল আউট হয়ে যায়।

জবাবে ভারত পুরো বারো ওভার বাকি থাকতেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। সেই সঙ্গে তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও এক রকম নিশ্চিত হয়ে যায়। বড় রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ভিরাট কোহলি ও ওপেনার শিখর ধাওয়ান।

সোফিয়া গার্ডেন্সে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ এর আগেই সেমিফাইনালে তাদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছিল। এখন মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যে দ্বিতীয়বার কোনও আইসিসি টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্যায়ে তারা ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যে ওয়ান-ডে বিশ্বকাপ হয়েছিল, তার কোয়ার্টার ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দেশ।

তবে সেই ম্যাচে আম্পায়ারের বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্যই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠা সম্ভব হয়নি - সে দেশের ক্রিকেট অনুরাগী ও এমন কি ক্রিকেট কর্মকর্তারাও এমন অভিযোগ তুলেছিলেন।

তার পরের বছর ২০১৬-তে আইসিসি-র টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচেও ব্যাঙ্গালোরে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও বাংলাদেশ। চরম উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচের ফয়সালা হয়েছিল ম্যাচের একেবারে শেষ বলে - নাটকীয়ভাবে ম্যাচটি এক রানে জিতে নিয়েছিল ভারত!