হাওরে বন্যা-পাহাড়ধসের পর ঈদে উৎসবের রূপ কেমন

ঈদে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption ঈদে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা

ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেছে বাংলাদেশে অর্থাৎ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব পালিত হতে যাচ্ছে কাল সোমবার। কিছু দুর্যোগ এবং দুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে হচ্ছে এবারের ঈদ।

চলতি বছর মার্চ ও এপ্রিল জুড়ে বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা।

প্রায় দুমাস পানিতে তলিয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিশেষ করে দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান।

কিন্তু তারপরেও এবারের ঈদ কতটা উৎসবমুখর হতে যাচ্ছে প্রায় ২ কোটি মানুষের হাওর অঞ্চলে?

বেসরকারি সংস্থা পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মীর রেজা বলেন, "হাওরে এবার ঈদ হবে নিরানন্দের। যেখানে বাবা-মা বাচ্চাদের খেতেই দিতে পারছেন না, সেখানে তাদের নতুন জামা কাপড় কিনে দেবেন বা মিষ্টান্ন খাওয়াবেন- এ ধরনর বিষয় তাদের সামনে এ মুহূর্তে নেই। তাদের জীবন সংগ্রাম কঠিন হয়ে গেছে।"

হাওরের দুর্ভোগ কাটতে না কাটতেই পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসে মারা গেছে ১৫০ মানুষ।

অন্যদিকে হঠাৎ করে চালের দামের বৃদ্ধির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছিলো রোজার আগে থেকেই।

এরপর গত প্রায় তিন সপ্তাহ জুড়ে নগর জীবনের নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে মশাবাহিত চিকনগুনিয়া রোগের প্রকোপ।

এসবের কতটা প্রতিফলন পড়েছে নতুন জামা কাপড়ের কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঈদ উৎসবের প্রস্তুতিতে?

ফ্যাশন হাউজ বাংলার মেলার পরিচালক এমদাদ হক বলেন, "গত বছরের তুলনায় মধ্যবিত্তের আনাগোনা একটু কম মনে হয়েছে । প্রয়োজনের বাইরে বা গিফট কেনার প্রবণতা এবার দেখা যায়নি। ছেলে মেয়েদের জন্য ক্রয় করেছে। কিন্তু নিজেদের বিষয়ে গড়িমসি দেখা গেছে। বেতন বা বোনাস থেকে একটু সঞ্চয়ের চেষ্টাও দেখা গেছে।"

ছবির কপিরাইট SAZAL AMIN
Image caption সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে এবারও কিছু মানুষ রোববার ঈদ উদযাপন করেছেন

গবেষক ও অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ মনে করেন নানা সংকট থেকে কিছুটা ক্ষত তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সব ধরনের সংকটকে কাটিয়ে সাধ আর সাধ্যের মিশেলে আনন্দমুখর পরিবেশেই ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ।

তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে ঈদ নিয়ে উত্তেজনা বা খুশী ব্যাপকভাবেই আছে। হাওর বা পাহাড় অঞ্চলের ঘটনার প্রভাব অঞ্চল বিশেষে আছে। কিন্তু সারাদেশে ঈদের বিষয়ে সবাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ীই প্রকাশ করছেন।"

এবার ঈদের বাজারে শুরুতে কম থাকলেও শেষ দিকে প্রচুর কেনাকাটা একটি উৎসবমুখর ঈদেরই আভাস দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়