'থাপ্পড়ের' ঘটনায় জেল খাটলেন সাবেক সিভিল সার্জন

ছবির কপিরাইট Google
Image caption লক্ষীপুরের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

একজন সরকারি কর্মকর্তাকে চড় মারার ঘটনায় ২৪ ঘন্টা জেল খেটে মঙ্গলবার সকালে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের লক্ষীপুর জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফ।

এদিকে, মি. সালাহ উদ্দিনকে সাজা কেন অবৈধ নয় তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামকেও আগামী ১৩ ডিসেম্বর আদালতে তলব করা হয়েছে।

সোমবার সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকার প্রাথমিক স্কুলে প্রবেশ মুখে মি. মুর্শিদুলের সাথে ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বাকবিতণ্ডা "হাতাহাতি"র পর্যায় চলে গিয়েছিল। মি. শরীফ সেসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।

পরে পুলিশ তাকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

সেখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন লক্ষীপুর সদর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ)সহ স্থানীয় ডাক্তাররা ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

তারা জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগমের কাছে সালাহ উদ্দিন শরীফের মুক্তির দাবি জানান। তাদের আশ্বস্ত করা হলে চিকিৎসক নেতারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর হাসপাতালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আলোচনা সভায় জেলা বিএমএ ও স্বাচিপ নেতারা মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

দুপুর ১২টার মধ্যে মুক্তি না দিলে কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন চিকিৎসক নেতারা।

আজ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চিকিৎসকের পক্ষ থেকে আপিলের পর তাকে জামিন দেয় নিম্ন আদালত, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম।

এ ব্যাপারে আর কথা বাড়ান নি তিনি।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে পুরো ঘটনাকে "অনাকাঙ্খিত ও অপ্রীতিকর" হিসেবে উল্লেখ করেন সালাহ উদ্দিন শরীফ।

"এমন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন হয়রানি দুঃখজনক। বিষয়টা ঠিক হয়নি। এটা বিদ্যমান আইনের অপব্যবহার", বলছিলেন তিনি।

এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

"ডিসি সাহেব প্রজ্ঞার পরিচয় দেননি।"

এদিকে জেলা বিএমএ'র সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন জানান, আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছে নিম্ন আদালত।

"সেখানে অভিযোগ উঠিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আমাদের," বলছিলেন তিনি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নি।

সম্পর্কিত বিষয়