BBC navigation

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা না করা নিয়ে বিতর্ক

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 27 নভেম্বর, 2012 11:14 GMT 17:14 বাংলাদেশ সময়

পর্ব-২

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা উচিত কি না সেটি নিয়ে বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে তীব্র বিতর্ক হয়।

দেখুন:

ক্লিক করুন ইউটিউব

ক্লিক করুন ভিমিও

বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব-২

বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব-২

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পুলিশের সাথে যদি জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সহিংসতা অব্যাহত থাকে তাহলে তাদেরকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। ঢাকায় বিবিসির ‘বাংলাদেশ সংলাপে’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা উচিত কি না সেটি নিয়ে শনিবার বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপের দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে তীব্র বিতর্ক হয়।

আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী

"যুদ্ধাপরাধের বিচার বাংলাদেশে হবেই। তারা যদি এটাকে মেনে না নেয় এবং এই পথে যদি তারা চলতে থাকে তাহলে অবশ্যই জাতিকে সেটি বিবেচনা করতে হবে এবং এই ধরণের রাজনৈতিক দল আমাদের নিষিদ্ধ করতে হবে।"

বাংলাদেশ সংলাপের এবারের প্যানেল সদস্যরা ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. কাবেরী গায়েন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রতি পুলিশের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে এমন প্রেক্ষাপটে দলটিকে নিষিদ্ধ করা উচিত কি না সে নিয়ে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশ সংলাপে আসা একজন দর্শক। মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন। সেই সাথে তিনি বলেন, ''অপরাধী যারা তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি কেউ অপরাধ করে থাকেন, আইন শৃঙ্খলার বাইরে যেয়ে থাকেন, দেশের আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে থাকেন, তার বিচার অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হতে হবে।''

একই ভাবে কোন দলকে নিষিদ্ধ না করার পক্ষে মত দিলেন কাবেরী গায়েন। তিনি মনে করেন, নিষিদ্ধ করা হলে গোপন সংগঠন হিসেবে তাদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।

তিনি বলেন, ''এসব দল দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় পেয়েছে, তাদের শক্তি-সমর্থ অর্জিত হয়েছে, এখন যদি তাদের নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে গোপনে তারা কি কাজ করবে, সেটা পর্যন্ত জানা যাবে না।''

তবে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা বা না করা প্রসঙ্গে দর্শকদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। একজন দর্শক মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা উচিত।

ড. আব্দুল মঈন খান

"দল নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে- এটা কোন কথা নয়। এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রবাহমান রাখতে হলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে"

ওই দর্শক বলেন, ''হিজবুত তাহরীর নামে একটি সংগঠনকে তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০০৯ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। হিজবুত তাহরীরের কার্যকলাপের চাইতে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ আরো বেশি ভয়াবহ। তাই আমি মনে করি তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।''

তবে আরেকজন দর্শক বলেন, বর্তমান সরকারের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়নি বলেই তারা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ''বর্তমান সরকারের শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামীকে কোন ধরনের মিছিল মিটিং করতে দেয়া হয়নি। আমার মনে হয় জামায়াতকে অন্য দশটি রাজনৈতিক দলের মতোই বিবেচনা করা উচিত।''

অনুষ্ঠানে আরেকজন প্যানেল সদস্য বিএনপি নেতা আব্দুল মঈন খান বর্তমান সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর, তাঁর ভাষায়, অপরাধমূলক কার্যকলাপের সাথে জামায়াতে ইসলামীর একটি তুলনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে কোন একটি দলকে নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

sanglap_ep2_audience

বাংলাদেশ সংলাপে আগত দর্শকগণ।

মি. খান বলেন, ''দল নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে- এটা কোন কথা নয়। এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রবাহমান রাখতে হলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।''

জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে এমন অভিযোগ এনে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দলটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমা অতিক্রম করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মি. রাজ্জাক বলেন, ''যারা পুলিশ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অর্থাৎ যে বাহিনী দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে তাদের ওপর আক্রমণ করছে। এই দলকে যারা প্রশ্রয় দেয়, অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে আমরা তাদের নিষিদ্ধ করব কি করবো না।''

আদিলুর রহমান খান

"অপরাধী যারা তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি কেউ অপরাধ করে থাকেন, আইন শৃঙ্খলার বাইরে যেয়ে থাকেন, দেশের আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে থাকেন, তার বিচার অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হতে হবে।"

তিনি আরো বলেন, ''যুদ্ধাপরাধের বিচার বাংলাদেশে হবেই। তারা যদি এটাকে মেনে না নেয় এবং এই পথে যদি তারা চলতে থাকে তাহলে অবশ্যই জাতিকে সেটি বিবেচনা করতে হবে এবং এই ধরণের রাজনৈতিক দল আমাদের নিষিদ্ধ করতে হবে।''

বাংলাদেশ সংলাপে এ ছাড়াও আরও ক'টি সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা (টিআইবি) সংসদ সদস্যদের কর্মকান্ড নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে সে প্রসঙ্গ।

টিআইবি’র প্রতিবেদনের গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কাবেরী গায়েন। তিনি মনে করেন, গবেষণা প্রতিবেদনটি যে ৬০০ মানুষের সাথে কথা বলে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাদের বাছাই করার প্রক্রিয়া পরিস্কার নয়। তবে একই সাথে তিনি এ গবেষণার সুত্র ধরে টিআইবিকে বন্ধ করে দেয়ার যে দাবি উঠেছে সেটিকে সমর্থন করেন না বলে জানালেন।

আদিলুর রহমান খান যথেষ্ঠ তথ্য উপাত্ত না নিয়েই রাজনীতিবিদদের ঢালাওভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার পক্ষে নন। তবে তিনি মনে করেন, টিআইবির রিপোর্টটি আরো বেশি যুক্তিগ্রাহ্য করা যেত।

এসময় এক দর্শক মন্তব্য করেন, টিআইবি বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্বকে কলঙ্কিত করতে চেষ্টা করছে এবং এর প্রতিবাদ করা উচিত। তবে অন্য একজন দর্শক জানান, সংসদ সদস্যদের কাজ লুকিয়ে রাখার জিনিস নয় এবং টিআইবির রিপোর্টকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে নেয়ার আহ্বান জানান।

ড. কাবেরী গায়েন

"এসব দল দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় পেয়েছে, তাদের শক্তি-সমর্থ অর্জিত হয়েছে, এখন যদি তাদের নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে গোপনে তারা কি কাজ করবে, সেটা পর্যন্ত জানা যাবে না"

এদিকে, ড. মইন খান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে জরিপের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছোট পরিসরেও গবেষণা করে যুক্তিগ্রাহ্য গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব।

এসময় সংলাপে উপস্থিত টিআইবির গবেষণা বিভাগের পরিচালক তাদের গবেষণার নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, তাদের এ গবেষণার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় তিন বছরের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও তারা কাজ করেছেন এবং সেগুলো মাঠ পর্যায়েও যাচাই বাছাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করার পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে মত দিয়েছে, সে প্রসঙ্গেও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। দর্শক জানতে চান, এসব মামলা প্রত্যাহারেও কি রাজনৈতিক বিবেচনাই অগ্রাধিকার পাবে কি না?

খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমনটি হবে না বলে জানান। কাবেরী গায়েন বলেন, এমন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা থাকা উচিত হবে না। বিএনপি নেতা আব্দুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় এখন পর্যন্ত ৭৫০০ মামলা প্রত্যাহার করেছে যার মধ্যে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলার সংখ্যা মাত্র তিনটি। মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছ থেকে এধরণের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হলে কমিশনটি ঢাল তলোয়ার বিহীন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

বার্মার রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে পরের প্রশ্ন করেন একজন নারী দর্শক। তিনি জানতে চান এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন? এ বিষয়টির আন্তর্জাতিক সমাধান হওয়া উচিত বলে মনে করেন কাবেরী গায়েন। অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের উচিত আগে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া তারপর বিষয়টির আন্তর্জাতিক সমাধান খোঁজা। তাঁর সাথে একমত পোষন করেন বিএনপি নেতা মইন খান।

তবে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে মত দেয়ার সুযোগ পান তাঁরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বিষয়টি নিয়ে বার্মা সরকারের ওপর চাপ দেয়া। খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ''এখন আবার যদি তাদের আশ্রয় দেয়া হয় তাহলে যে সমস্যা সৃষ্টি হবে তা সামলানোর সংগতি বাংলাদেশের নেই।''

এ ছাড়া ক'দিন আগে স্শস্ত্র বাহিনী দিবসের এক অনুষ্ঠানে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার কথা বলা উচিত ছিল বলে অনুষ্ঠানের উপস্থিত বেশিভাগ দর্শক মনে করেন।

আপনাদের মতামত:

The AL, being in govt, is in the driving seat of our politics. They must follow democratic political norms, create democratic environment for other political parties. But unfortunate and apparently deliberately the AL has not been practicing democratic politics. They have been trying to impose their terms on other political parties. As a result at one point of time some reactions are inevitable and gradually the repercussions will grow to a point of no return.

-- Abdullah, Dhaka

Theoratically, the `Non-Party Caretaker Government' makes sense for a fair election. But we have seen the result of 13th Amendment and President Dr. Yeazuddin Ahmed's `Non-Party Caretaker Government'. As a result, the nation got the 1/11 and 2 years of an army-backed `Non-Party Caretaker Government,' lead by Chief Adviser Dr. Fakhruddin Ahmed!!! Then who was the Prime Minister ? (Answer: Army Chief General Moin U Ahmed & Co.) Should `BNP- Jaamat' leaders want this? EC should be made stronger.

-- Mohiuddin Kader, Dhaka

আমি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে।

-- শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা

সাধারণ বুদ্ধিতে বলে, যে কোনো সরকারই জনঅসন্তোষ সৃষ্টি অথবা আন্দোলন হতে পারে এমন ইস্যুর সংখ্যা যথাসম্ভব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। স্বাধীন বাংলাদেশের গত চল্লিশ বছরের ইতিহাসে মহাজোটের নামে প্রথমবারের মতো এমন এক সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে, যারা রাষ্ট্র পরিচালনাকে ছেলেখেলা মনে করে একের পর এক ইস্যু তৈরি করেই চলেছে। I agree with Dr. Abdul Muyeen Khan.

-- শেখ মোহাম্মদ, টরন্টো

আমাদের সব সময় অন্যের সব মতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। যদি সেটা দেশের মঙ্গলের জন্য হয় তাহলে মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। নিষিদ্ধ করবেন জামাতকে কিন্তু লাভ কি? তারা তো আবার অন্য নাম দিয়ে নতুন দল গঠন করবে। তাই নিষিদ্ধ করে কোনো কিছুর সমাধান হয় না। মাথা ব্যাথা করলে মাথা কাটলে তো হবে না। এখানে জামায়াতের একজন প্রতিনিধি থাকা দরকার ছিলো। তাহলে বুঝতে পারতাম যে তারা কি বলতে চায়। তাই ভবিষ্যতে আশা করব যাদের নিয়ে আলোচনা হবে তাদের একজন প্রতিনিধি যেন থাকে।

-- ম. আরমান চেীধুরী, ঢাকা

গতকাল চ্যানেল-আইতে অনুষ্ঠানটি দেখলাম। একটি বিষয় খেয়াল করলাম। এই অনুষ্ঠানেও যেমনটি দেখেছি, বিবিসি'র অনুষ্ঠানগুলো একটু গতিসম্পন্ন হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীদের সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালক যদি অনুষ্ঠানের গতি আরেকটু শ্লথ করেন, সেক্ষেত্রে এই সমস্যাটি কমতে পারে। ভেবে দেখবেন কি?

-- অচিন্ত্য দাস, ঢাকা

জামাতকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক। তারপর দেখুন জামাত কেমন রাজনীতি করে।

--মইনুল, ঢাকা

Jamaat-e Islami and Shibir should get chance to freely express their opinion, but government has been controlling them with police for last 4 years. For that reason, now they are desperate to express opinion.

-- Saeed, Dhaka

Jamaat-e-Islami is an extremely communal political organisation. Main thing is all top leaders of this party are accused of being war criminals. All war criminals in this world must be brought under trial without exception.

-- Keramat Ali Khan, Dhaka

দল নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে - এটা কোন কথা নয়। এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রবাহমান রাখতে হলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। যদি এসব কর্মকান্ডের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে গত চার বছরে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ যেসব সহিংস কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল বা এখনো আছে সেগুলোর জন্য অবশ্যই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

-- ফিরোজ আহমেদ, কাঁঠাল বাগান, ঢাকা

টিআইবি যেসব সিম্পটম দিয়েছে তা ৬০০ জন কেন, ৬০ জন হলেও চলতো।

-- মো. জহুরুল ইসলাম, পাবনা

For free & fare election, the only option remains -- that’s a non-political government.

1) If election takes place under non-political governments, then BNP will win and AL will become the opposition.

2) If AL doesn’t respect majority peoples demand of non-political Government then 2/11 (stronger than 1/11) definitely will come. BNP may also suffer but less than AL. Finally BNP will come in power.

-- Jamal Uddin, Dhaka

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি যদি বিবেচনা করি, তাহলে আমার মনে হয় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা উচিত। যেমনভাবে জিবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সরকার দেশের জনগণকে নিয়ে তার সমাপ্তি ঘটিয়েছিল। তেমনিভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে ঐ একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সেটাও আমাদের মোকাবেলা করতে হবে।

-- এম এম আলমগীর হোসেন, আংকারা, তুরস্ক।

From the very beginning, the Awami League did not allow the Jamaat-e-Islami to demonstrate in the sreet. They showed a lot of patience. They are a registered political party and have the right to express their opinion. But the fact is that the government cannot tolerate free expression of opinion. In a sense, they have no other alternative but to create chaos to express their opinion. If Jamaat-e-Islami is banned, they will regroup with a different name as is seen Turkey. Then what will the government do?

-- Md. Zillur Rahaman, Dhaka

আমার মনে হয় জামাতে ইসলামী যে এত বাড়াবাড়ি করছে তার জন্য সরকারই দায়ী। কেননা ওরা মিছিল করতে চায়, সমাবেশ করতে চায়, করুক, তাতে বাধা দেওয়ার কি দরকার? বাধা দেয় বলেই তো মারামারি হয়। বাধা না দিলে তো আর মারামারি হয় না। আসলে সরকারের ইচ্ছা বিরোধীদল দমন। বিরোধী দল দমনের কৌশলে সরকার প্রথমে জামাতকে দমন করছে। একে একে সবাইকে দমন করবে।

-- এ এইচ এম ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা

The discussion is on whether Jammaat-e Islami should be bannd or not. But the party had no representation in the discussion. I thnik a media such as the BBC should remain impartial.

-- Ridwan Kabir, Chittagong

অতীতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালে অনেক গাড়ী ভাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে যার কিছু সাদৃশ্য জামাত রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে তাই বলে এ দল নিষিদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না। যদি করা হয় তবে অন্য কারণ রয়েছে। যা শুধু আওয়ামী লীগের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

-- মুছা বিন মোহম্মদ, রাজশাহী

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা আদৌ সম্ভব নয়। এদের শিকড় অনেক গভীরে। আমার আশংকা জামাতকে নির্মূল করতে গিয়ে Under ground এ পাঠিয়ে দিলে এরা আরো শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরে আসবে।

-- মুহাম্মদ মাহমুদুল কবির, চট্টগ্রাম

সরকার যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে তবে দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। তাই সরকারকে বলছি, সাবধান।

-- মো. সেলিম হাওলাদার, ক্যারাকাস।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নত নয়। পুলিশ দিয়ে সরকার অগণতান্ত্রিক ভাবে বিরোধী দল দমন করে। আমার প্রশ্ন সরকার কেন জামাতকে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে চায়? আমি যতটুকু জানি জামাতের জন সমর্থন কম থাকলেও দলীয়ভাবে জামাত অনেক শক্তিশালী । বিগত ১৮ দলের মিছিল-সমাবেশগুলোতে জামাত-শিবিরের উপস্থিতি প্রায় সমান ছিল। দল হিসেবে নিষিদ্ধ করলেও লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে নিয়ে সরকার কী করবে ? তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিন। তারপর দেখি কী হয়।

-- জুবায়ের হাসান, ঢাকা

আইনকে যদি আইনের গতিতে চলতে না দিয়ে সরকারের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ প্রশাসন দ্বারা ভিন্নমতের কর্মী-সমর্থক ও সংসদ সদস্যকে পর্যন্ত রাজপথে পিটিয়ে আহত-নিহত করে, তাদেরকে কি আগে নিষিদ্ধ করা উচিৎ নয়? আমরা যদি ছাত্রলীগ আর ছাত্রশিবিরের তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করি, তাহলে আগে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।গনতন্ত্রকে যদি সুসংহত করতে হয়, সব রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ উপস্থাপণ করার সুযোগ দেওয়াই উত্তম পন্থা। জনগনই নির্ধারণ করবে কোন্‌ দলের আদর্শ উত্তম, গ্রহণযোগ্য কি অগ্রহণযোগ্য।

-- নুর মোহাম্মদ মজুমদার, দোহা, কাতার

আমি সত্যি বুঝতে পারছি না এই প্রশ্নটা আসবে কেন! আমি মনে করি যদি নিষিদ্ধ করতে হয় তাহলে তা করতে হবে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিকে যারা গণতন্ত্রের নামে রাজতন্ত্র কায়েম করে বাংলাদেশটাকে বন্দিশালায় পরিণত করেছে।

-- ফিরোজ, লন্ডন

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে তর্ক বিতর্ক থাকতে পারে। তবে ধর্ম ব্যবসার অজুহাত এনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি করার নৈতিক অধিকার আওয়ামী লীগের নেই। কারণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিও ধর্ম ব্যবসা করে। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-পুলিশের সংঘর্ষ জন্য সরকারের ভূমিকাও কম নয়। তবে পুলিশের উপর হামলার বিচার হওয়া উচিত। অন্যদিকে জামায়াত পুলিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর পিছনের কারণগুলোও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

-- মুহাম্মদ আরীফ হোসাইন, নিউ ইয়র্ক

আমি মনে করি একজন লোক শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে তার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। ঠিক তেমনি ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরও সেই অধিকার থাকতে হবে । তা না হলে এমন পরিবেশ তো সৃষ্টি হবেই।

-- দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর

আপনারা জামায়াত নিষিদ্ধ করা নিয়ে আলোচনা করবেন আর জামায়াতকে আলোচনায় রাখবেন না এটা কোন্‌ ধরনের সাংবাদিকতা? নারী নিয়ে আলোচনা করবেন আর নারী প্রতিনিধি না থাকলে যেমন এই আলোচনার কোনো গুরুত্ত্ব থাকে না ঠিক তেমনিভাব জামায়াত নিয়ে আলোচনা করবেন আর জামায়াত না থাকলে এই আলোচনারও কোনো মূল্য থাকে না।

-- জিসান আহমেদ, ঢাকা

I agree with Dr. Abdul Muyeen Khan. Should not ban Jamaat. If we compare Jamaat-e Islami with Awami League, we will see first we need to ban Awami League.

-- Tufael, London

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻