BBC navigation

শাহবাগের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হরতালের দিন কি শেষ হবার পথে?

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 18 ফেব্রুয়ারি, 2013 12:28 GMT 18:28 বাংলাদেশ সময়

সোমবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের সময় ঢাকার সব চেয়ে বড় শপিং মল বসুন্ধরা সিটি খোলা ছিল।

সোমবারের হরতালটা ব্যতিক্রমী ছিল, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

সাধারণত যখন কোন বড় দল হরতাল ডাকে, বিশেষ করে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর হরতালের সময় জনমনে এক ধরনের আতংকের সৃষ্টি হয়।

এই আতংক সৃষ্টির জন্য হরতালের আগের দিন এবং হরতালের দিন গাড়ী ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপর হামলা করা হয়।

কাজেই, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও এটা বোঝা মুশকিল যে হরতাল কি সফল হল, নাকি মানুষ শুধু মাত্র ভয়ে বের হল না।

সোমবারে দেখা গেল, প্রচুর দোকানপাট, শপিং মল খোলা ছিল, অনেকে স্কুল-কলেজ খোলা ছিল যদিও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে কম।

রাস্তায় যান-বাহনের সংখ্যা অনেক বেশি এমনকি বেশ কয়েকটি প্রাইভেট গাড়ীও দেখা গেছে যেটা আর চারটা হরতালের দিন অকল্পনীয়।

হরতালের দিন এই ব্যতিক্রমী চিত্র সৃষ্টি করার পেছনে মূলত: কাজ করেছে ঢাকার শাহবাগে ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে লাগাতার বিক্ষোভের প্রভাব।

রোববার শাহবাগের সমাবেশ থেকে জামায়াতে ইসলামীর হরতাল প্রতিরোধ করার ডাক দেবার পর পরিবহন মালিক সমিতি, দোকান-পাট মালিক সমিতি, তারা ব্যবসা খোলা রাখার ঘোষণা দিলেন।

অর্থাৎ এখানে দলমত নির্বিশেষ ব্যবসায়ীরা শাহবাগের আন্দোলনের সাধে একাত্মতা ঘোষণা করলেন। সরকারী এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোও একই ভাবে হরতাল অগ্রাহ্য করার ঘোষণা দেয়।

ভবিষ্যতের হরতাল

হরতালের সমর্থনে ঝিনাইদহে জামায়াতের মিছিল

ঢাকায় বিভিন্ন বানিজ্যিক এলাকায় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি জনমনে নিরাপত্তার আশ্বাস কিছুটা হলেও সৃষ্টি করতে পেরেছিলো।

এর ফলে, হরতালে ঢাকা শহর অচল তো হয়নি, বরং হরতাল অকার্যকর করার একটি নতুন দিক-নির্দেশনা তৈরি হল।

সোমবারের ঘটনা প্রমাণ করলো, ব্যবসায়ীরা যদি চান, জনমত যদি তাদের সাথে থাকে এবং প্রশাসন যদি তাদের নিরাপত্তা দেয় তাহলে এভাবে হরতালকে ক্রমশ: অকার্যকর করে দেয়া সম্ভব।

তার মানে কি এই, যে ভবিষ্যতেও হরতাল এভাবে প্রতিহত করা যাবে? সমস্যা হল এখানেই।

বাংলাদেশে এই মুহুর্তে জামায়াত-বিরোধী একটি ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে, বিশেষ করে শাহবাগের আন্দোলন শুরু হবার পর থেকে।

এমনকি জামায়াতের মিত্র বিএনপিও কিন্তু শাহবাগের বিরুদ্ধে বা জামায়াতের হরতালের পক্ষে অবস্থান নিতে পারছেনা, এবং তাদের অনেক নেতা-কর্মী জামায়াতকে সমর্থন করতে চাইছেনও না।

কিন্তু যখন দেশের দুই বৃহৎ দল, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি, তাদের নিজস্ব দলীয় কর্মসূচী এগিয়ে নেবার জন্য ভবিষ্যতে হরতাল ডাকবে, তখন ব্যবসায়ী সমিতিগুলো এবং স্কুল-কলেজের পক্ষে সোমবারের মত হরতাল বিরোধী অবস্থান নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

সেখানে নিজেদের মধ্যে বিভেদ দেখা যেতে পারে, যেটা আমরা জামায়াত ইস্যুতে দেখছি না।

অন্যদিকে, শাহবাগ আন্দোলনের ফলে রাজনীতিতে জনমতের প্রভাব সৃষ্টিতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে গিয়ে জনমত সৃষ্টির বিষয় আমরা এখানে লক্ষ্য করছি।

ভবিষ্যতে যদি এভাবেই হরতালের বিরুদ্ধে জনমত প্রকাশ পায় এবং তা সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে, তাহলে ব্যবসায়িক এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে হরতালের বিরুদ্ধে একটি নৈতিক অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে।

সেটা হতে হয়তো এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, তবে তখন বলা যাবে যে শাহবাগ আন্দোলনে মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে হরতালের রাজনীতি শেষ করার সূচনা হয়েছিলো।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻