BBC Bangla

মূলপাতা > খবর

আসামে ট্রেনে দাঙ্গার পর হাইলাকান্দিতে 'উত্তেজনা'

Facebook Twitter Google+
20 অগাষ্ট 2012 00:11

অমিতাভ ভট্টশালী

সংবাদদাতা, কলকাতা

আসামে ট্রেনে দাঙ্গার পর হাইলাকান্দিতে 'উত্তেজনা'

ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্য আসামের পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে শনিবার যে চারজনকে পশ্চিমবঙ্গে একটি ট্রেনে হত্যা করে রেল লাইনে ফেলে দেয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে তিনজন আসামের হাইলাকন্দি জেলার বাসিন্দা এবং তাঁরা মুসলমান৻

চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় সম্বন্ধে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়৻

তবে এই ঘটনায় আহতরা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সূত্রগুলি আগেই জানিয়েছিল যে মৃতেরা সবাই আসামের মুসলমান৻ আহতরাও হাইলাকন্দি জেলার মুসলমান৻

এঁরা সকলেই দক্ষিন ভারতের ব্যাঙ্গালোর থেকে আতঙ্কিত হয়ে একটি বিশেষ ট্রেনে পালিয়ে আসছিলেন আসামে৻

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জলপাইগুড়ি জেলার বেলাকোবা ও ফালাকাটা অঞ্চলগুলিতে শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে৻

হাইলাকান্দি জেলার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট ব্রজেনজিত সিংহ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “যে তিনজন মৃতকে শনাক্ত করা গেছে, তাঁদের নাম – আতিকুর রহমান, সাইফুল ইসলাম এবং ইকবাল হোসেন৻''

''চতুর্থ ব্যক্তি ওই জেলারই বাসিন্দা কী না, তা এখনও নিশ্চিত নয়৻''

আহতদের যে তালিকা অনানুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে যে সকলেই মুসলমান এবং এঁদের বয়স ২৬ থেকে ৫০-এর মধ্যে৻

রেলের দুটি পৃথক বিভাগের অন্তর্গত দু'টি স্টেশনে এই ঘটনা ঘটেছে৻

কাটিহার এবং আলিপুরদুয়ার বিভাগের দুই বিভাগীয় ম্যানেজার পৃথকভাবে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, নিজ নিজ এলাকায় তাঁরা দুটি করে মৃতদেহ রেললাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখেছেন৻

আহতরাও লাইনের ধারে পড়ে ছিলেন৻

কাটিহারের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এ. কে. শর্মা বলেন, “এঁদের কেউ ফেলে দিয়েছেন, না তাঁরা পড়ে গেছেন – সে ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করছে পুলিশ৻“

রেল বিভাগ এর বাইরে আর কিছু জানাতে রাজি হয় নি৻

আসামের সাম্প্রতিক জাতিগত দাঙ্গার পর অসমীয়াদের ওপরে হামলা হতে পারে, এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরে এঁরা বিশেষ ট্রেনে করে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে এক সঙ্গেই নিজেদের গ্রামে ফিরছিলেন৻

আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এরকম স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, যে শনিবার রাতে মালদা স্টেশন ছাড়ার পরে ট্রেনেরই কিছু যাত্রী মারধর শুরু করেন৻

এরপর বেশী রাতে, প্রায় দেড়টা নাগাদ, ট্রেন থেকে মৃতদেহ ও আহদের ফেলে দেওয়া হয়৻

মৃতদেহগুলির মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে৻

আসামের পুলিশ বলছে, এই হামলার খবর পাওয়ার পরে তারা একটি দল জলপাইগুড়িতে পাঠিয়েছে – যাঁরা মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের পরে সেখানে নিয়ে যাবেন৻

হাইলাকান্দির পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট মি. ব্রজেনজিত সিংহ বলছেন যে তাঁর জেলায় ''চাপা উত্তেজনা'' রয়েছে৻

''মৃতদেহগুলি গ্রামে ফেরত যাওয়ার পরে কী হয়, সেটাই এখন বড় চিন্তা৻''

বিশেষত সোমবার ঈদ৻ তাই উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হচ্ছে৻ ইতিমধ্যেই সব ধর্মের ও সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে প্রশাসন একটি শান্তি বৈঠক করেছে৻ তৈরি হয়েছে শান্তি কমিটিও৻

কোথাও উত্তেজনামূলক ভাষণ যাতে না দেওয়া হয় তার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে৻ পুলিশ প্রহরাও বাড়ানো হয়েছে৻

অন্যদিকে মুসলমান নিহত হওয়ার খবরে যাতে পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশ-প্রশাসন এবং ধর্মীয় নেতারা সতর্ক রয়েছেন৻

বুকমার্ক করুন

Email Facebook Google+ Twitter
রিফ্রেশ