BBC Bangla

মূলপাতা > খবর

পুলিশের ওপর জামায়াতের হামলা অব্যাহত

Facebook Twitter Google+
19 নভেম্বর 2012 19:24

আহরার হোসেন

বিবিসি বাংলা, ঢাকা


বাংলাদেশে পুলিশ বলছে, গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় আজ সোমবারও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মীরা।

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে হামলায় একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে।

হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও।

পুলিশ বলছে, হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এগুলো সবই পূর্বপরিকল্পিত এবং পুলিশই এর একমাত্র লক্ষ্য।

তবে জামায়াত বলছে, সরকারের নানামুখী বাধার পর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এখন তারা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এজন্য আত্মরক্ষার খাতিরে কিছু ঘটে গেলে তার দায়দায়িত্ব তাদের নয়।

বিভিন্ন স্থানে হামলা

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ বলছে, সকালে হঠাৎ একটি মিছিল করে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। মাত্র কয়েক মিনিট ছিলো মিছিলটির স্থায়িত্ব। এবং এরই মধ্যে সামনে পেয়ে একটি পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর চালায় মিছিলকারীরা।

এতে আহত হয় সদর থানার ওসি এবং তার সাথে থাকা পুলিশের কয়েকজন সদস্য।

আহত ওসি মনজুর কাদের বলছেন, হঠাৎ করেই শুনতে পেলাম শিবিরের একটি মিছিল আসছে। খুব তাড়াতাড়ি করে সেখানে গেলাম আমি। তারপর পুলিশ দেখেই তারা অতর্কিতভাবে হামলা চালাতে শুরু করলো। গাড়ি ভাঙচুর করলো।

‘ওদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল স্কুলের ব্যাগ যার ভেতরে ছিল ইটপাটকেল। তাদের কাছে ছিলো কেরোসিনের বোতলও,‘ বলেন তিনি।

একই রকম হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও। অবশ্য এখানে পুলিশের কোনো সদস্য আহত হবার ঘটনা ঘটেনি।

দুটি ঘটনাতেই দেখা যাচ্ছে যে মিছিলগুলো এবং মিছিল পরবর্তী হামলা সব মিলে কয়েক মিনিট স্থায়ী হচ্ছে, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা ব্যাগের ভেতরে ইট-পাটকেল বহন করছে।

রবিবারে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার হামলা এবং তার আগে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে চলা হামলাগুলোতেও দেখা গেছে এই একই রকম চিত্র।

জামায়াতের বক্তব্য

কেনো এমনটি করছে জামায়াত- জানতে চাইলে দলটির একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান বলেছেন, ‘দেওয়ালে মানুষের যখন পিঠ ঠেকে যায়, অধিকার যখন কেউ না দেয় তখন নিজের অধিকার নিজেকেই প্রতিষ্ঠা করে নিতে হয়।‘

পুলিশের ওপর জামায়াতের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন ছাত্রলীগ যুবলীগ তাদের ওপর হামলা করছে এবং তদন্তের পরেই বলা সম্ভব পুলিশের ওপর আসলে কারা হামলা চালাচ্ছে।

‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার আমাদেরকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।‘ বলেন মি. রহমান।

হামলার শুরু যেভাবে

এসব হামলার শুরু হয় গত ৫ই নভেম্বর, ঢাকায় জামাোতে ইসলামীর একটি সমাবেশ থেকে।

ওইদিন জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। উভয় তরফের বহু আহত হয়।

এসব ঘটনায় পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, সোমবারও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক সন্দেহভাজন জামায়াত ও শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুকমার্ক করুন

Email Facebook Google+ Twitter
রিফ্রেশ