BBC Bangla

মূলপাতা > খবর

পুলিশের ওপর জামায়াত শিবিরের হামলা, ভাঙচুর

Facebook Twitter Google+
28 জানুয়ারি 2013 16:33

কাদির কল্লোল

বিবিসি বাংলা, ঢাকা

jamat activists attacked police

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা পুলিশের ওপর ঝটিকা হামলা চালিয়েছে।

ভাঙচুর করা হয়েছে বহু যান-বাহন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের পিক-আপ ভ্যানসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি।

হামলায় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দুপুরের কিছু আগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল ও তার আশেপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

জামায়াতের নেতারা বলছেন, কারা এই সহিংসতা চালিয়েছে সেটা তারা জানেন না। তাদের কোনো নেতা কর্মী এই হামলার সাথে জড়িত নয়। বরং বলছেন যে, পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে, এমনকি রাবার বুলেটও ছুঁড়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলছেন, সরকারের দমন নীতির কারণেই সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মি. ইসলাম অভিযোগ করেন, "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার আমাদেরকে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা শুধু বাধাই দিচ্ছে না, এখন রীতিমত গুলিও করছে।'

সংবাদদাতারা বলছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দলের নেতাদের মুক্তির দাবিতে এই হামলা চালানো হয়।

তাদের অনেকেরই বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে।

রাজশাহী, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামেও একই রকমের হামলা চালানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলছেন, জামায়াত শিবিরের কর্মীরা যে এ ধরনের সহিংসতা চালাতে পারে গোয়েন্দা বিভাগের কাছে সেই তথ্য ছিল এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মি. আলমগীর বলেন, "যেখানে যেখানে আমরা চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা করেছিলাম সেখানে আমরা তা বন্ধ করতে পেরেছি। এসব জায়গার বাইরেও তারা হামলা চালিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

সংবাদদাতারা বলছেন, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে একযোগে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।

ঢাকার মতিঝিল এলাকায় সকালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক ও কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বরে করে।

পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া।

শিবিরের কর্মীরা এসময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে ও পুড়িয়ে দেয়।

এসময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।

এই ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী ৩১ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বুকমার্ক করুন

Email Facebook Google+ Twitter
রিফ্রেশ