BBC navigation

ব্রিটেনে বুকিং পদ্ধতিতে কোরবানি

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 25 অক্টোবর, 2012 14:58 GMT 20:58 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ক্রমশ:ই জনপ্রিয় হচ্ছে এই প্রথা

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

qorbani_in_london

পূর্ব লন্ডনের দোকানে কোরবানির বিজ্ঞাপন

ব্রিটেনে লন্ডন ও অন্যান্য শহরের মুসলিমরা শুক্রবার পালন করবেন ঈদুল আজহা - যার প্রধান দিক হলো পশু কোরবানি।

কিন্তু ব্রিটেনের মতো দেশে - যেখানে কসাইখানার বাইরে পশু কোরবানির অনুমতি নেই - সেখানকার মুসলিমরা কিভাবে পালন করেন এই ধর্মীয় বিধানটি?

তাদের জন্যই, বেশ কিছুকাল ধরে ব্রিটেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'বুকিং পদ্ধতি' - যাতে মাছ-মাংস বিক্রির দোকানের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত কসাইখানায় কোরবানির ব্যবস্থা করা যায়।

পূর্ব লন্ডনে - যেখানে ব্রিটেনের বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের একটা বড় অংশ বাস করেন - সেখানে এমন অনেক দোকান রয়েছে যার মাধ্যমে কোরবানি বুকিং দেয়া যায়।

কিভাবে এই পদ্ধতি কাজ করে, আর তাতে প্রবাসী মুসলিমরা কতটুকু সন্তুষ্ট - তা জানতে বাংলাদেশী অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেশ কয়েকটি দোকানে আমি গিয়েছি এবং অনেকের সাথে কথা বলেছি।

qorbani_in_london

একসময় লন্ডনের বাসিন্দা মুসলিমরা কোরবানির ঈদ এলে যার যার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে নিজের দেশে যে পারিবারিকভাবে কোরবানি দেয়া হয় - তারই অংশীদার হতেন।

কিন্তু সে পরিস্থিতি এখন অনেকটা বদলে গেছে, লন্ডনেই চালু হয়েছে বুকিং-এর মাধ্যমে কোরবানির ব্যবস্থা। কোরবানির ইদ আসার কিছুদিন আগে থেকেই লন্ডনের মুসলিম অধ্যুষিত অনেক পাড়াতে মাংসের দোকানে বিজ্ঞাপন দেখা যেতে থাকে 'এখানে কোরবানির বুকিং নেয়া হয়... ইত্যাদি'।

পূর্ব লন্ডনের বাঙালি পাড়ায় বাংলা সিটি নামের একটি মাছ-মাংস সবজির দোকানের কর্মচারী শামিম আহমেদ বলছিলেন, আমাদের এখানে এসে লোকেরা নাম লিখিয়ে বা ফোনের মাধ্যমেও কোরবানির বুকিং দিতে পারেন। কেউ কেউ গরু বা ভেড়ার জন্য দামও অগ্রিম পরিশোধ করেন। ঈদের দিনে তাদের নামে কসাইখানার ভেতরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী কোরবানি হয় এবং তার পর সেদিন বা তার পরের কয়েকদিনের মধ্যে মাংস ডেলিভারি দেয়া হয়।

qorbani_in_london

পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা আহমেদ কামাল আমার সামনেই কোরবানির বুকিং দিলেন। বললেন, এভাবে কোরবানি দিলে ঠিক ঢাকার মতো আনন্দ হয়তো পাওয়া যায় না কিন্তু তবু ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে এক প্যাকেট মাংস নিয়ে গেলে ভালো লাগে।

শুধু ব্রিটেনে নয়, ইউরোপের অন্যন্য দেশেও এভাবে বুকিং প্রথায় কোরবানি চালু হয়েছে। দু দশকেরও বেশি সময় ইতালিতে থেকে সম্প্রতি ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছেন আবদুল হালিম । তিনিও থাকেন পূর্ব লন্ডনে।

আবদুল হালিম বলছেন, লন্ডনে এটাই আমার প্রথমবার ঈদ। ইতালিতে থাকতে আমরা এভাবেই কোরবানি দিয়েছি। তবে সেখানে আমরা কসাইখানার কাজে খানিকটা হলেও অংশ নিতে পারতাম, এখানে ব্রিটেনে হয়তো সেটা পারবো না।

লন্ডনের অভিবাসী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোরবানি দেবার ব্যবস্থা যে ঠিক কবে প্রথম চালু হয় তা সঠিক জানা যায় না।

qorbani_in_london

মধ্য লন্ডনের গুজ স্ট্রিট মসজিদের ইমাম আজমল মাসরুর বলছিলেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হালাল মাংস পাবার সুযোগ আগে ছিল খুবই সীমিত। ধর্মীয় রীতিতে হালাল করা মাংস পেতে তাদের পূর্বপুরুসদের শরণাপন্ন হতে হতো ইহুদি কসাইদের। তখন বাঙালিরা প্রবাস থেকেই দেশে পারিবারিক কোরবানিতে অংশ নিতেন ।

পরবর্তীকালে লন্ডন এবং ব্রিটেনের অন্যত্র মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মুসলিমদের মধ্যে থেকেই গড়ে ওঠে হালাল মাংসের দোকান এবং তার পর বুকিং ব্যবস্থায় কোরবানির পদ্ধতি।

মি. মাসরুর বলছেন, বুকিং প্রথা চালু হওয়ায় মুসলিমরা এখন ব্রিটেনে এবং নিজ দেশে দু জায়গাতেই কোরবানি দিতে পারছেন, প্রবাসীরা যে কোরবানির ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে চান তার প্রতিফলন এতে দেখা যায়।

পূর্ব লন্ডনের বেশ কয়েকটি মাছমাংসের দোকানের মালিকের সাথে আমি কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন যত দিন যাচ্ছে বুকিং প্রথায় কোরবানি জনপ্রিয়তা ততই বাড়ছে, এবং বছরের এ কয়েকটা দিন তাদের প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে কাটাতে হয়।

qorbani_in_london

বাংলাটাউন ক্যাশ এন্ড ক্যারির স্বত্বাধিকারী রফিক হায়দার বলছিলেন, এখানকার এক একটি দোকানে অন্তত: শ'দেড়েক বুকিং পড়ে, এবং সব মিলিয়ে লন্ডনে অন্তত: ২০ হাজার কোরবানির অর্ডার দেয়া হয় বলে তার ধারণা।

ইলফোর্ড এলাকার মনির জামান ও তার পরিবারের সাথে কথা হলো। মি. জামান বললেন, মূলত ছেলেমেয়েরা যেন ধর্মীয় ঐতিহ্যের ব্যাপারে জানতে পারে সে কথা ভেবেই তিনি বুকিং প্রথায় কোরবানি দিচ্ছেন। তার স্ত্রী এদিবা জানালেন, তারা চেষ্টা করেন যেন দেশে তারা যেভাবে ঈদ করতেন - তার যতটুকু সম্ভব এখানেও পালন করার জন্য।

মনির জামানের কন্যা লিজা বললেন, এই কোরবানির ঐতিহ্য ও আদর্শিক দিকটা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে না জানলেও ঈদের দিনটি তার আনন্দের মধ্যেই কাটে।

বাংলাসিটি নামের গ্রসারির অন্যতম পরিচালক হেলাল আহমেদ বললেন, এই বুকিং প্রথায় কোরবানির আয়োজন করে তারা আর্থিকভাবে খুব বেশি মুনাফা করেন না।

তিনি বলেন, তাদের আসল পুরস্কার হলো প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটা ভুমিকা রাখতে পারার আনন্দ।

যদিও সবাই আমাকে বলেছেন যে দেশের ঈদুল আজহার আনন্দ প্রবাসে পাওয়া অসম্ভব, তবুও ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বুকিং পদ্ধতিতে কোরবানি দেয়া।

ভিন্ন দেশে, ভিন্ন পরিবেশে, নিজের দেশের কোরবানির ইদের আনন্দর ছোঁযা যতটুকু সম্ভব পাওয়া - এটাই যেন সবার চাওয়া।

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻