BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 25 ডিসেম্বর, 2012 15:40 GMT 21:40 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

রোবোটিক আর্ম ব্যবহারে চমকপ্রদ সাফল্য

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

রোবোটিক আর্ম ব্যবহারে চমকপ্রদ সাফল্য

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রোবোটিক আর্ম তৈরি করার যে পদ্ধতি আছে, তাতে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলাফল পেয়েছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী।

ল্যান্সেট মেডিক্যাল জার্নালে একটি নিবন্ধে এই বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, ইয়ান শিউয়ারমান নামে এক মহিলা, যার ঘাড়ের নিচ থেকে শরীরের বাকি অংশটা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিল, তিনি এই পদ্ধতিতে যেভাবে একজন স্বাভাবিক মানুষ হাত দিয়ে একটা জিনিস তুলতে, সরাতে বা অন্য জায়গায় রাখতে পারে ঠিক সেভাবেই তা করতে পারছেন।

এর জন্য শুধু তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, কীভাবে মস্তিষ্ক-নিয়ন্ত্রিত প্রসথেটিক লিম্ব বা কৃত্রিম প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করতে হয়।

braco_robotico

রোবোটিক আর্ম ব্যবহার করছেন ইয়ান শিউয়ারমান

এই রোবোটিক আর্মে পদ্ধতিটা হল, রোগীর মস্তিষ্কের ভেতর মোটর কর্টেক্সে দুটো সেন্সর সংস্থাপন করা হয় – যারা মস্তিষ্কের পাঠানো সিগনাল গ্রহণ করে একটা কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের সাহায্যে তাকে যথাযথ নির্দেশ বা কমান্ডে রূপান্তরিত করে।

এই প্রযুক্তিটার নাম হল ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বা বিসিআই – এবং ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা বলছেন যে সব রোগীর মস্তিষ্কে ডিজেনারেটিভ রোগ আছে বা আঘাত আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ভীষণ কাজে আসবে।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড: অ্যান্ড্রু শোয়ার্টজ বলছিলেন, ইয়ান শিউয়ারমান যে অসাধারণ দ্রুত গতিতে এই প্রযুক্তিটা রপ্ত করেছেন তাতে বিজ্ঞানীরাও অবাক হয়ে গেছেন।

এই গবেষণা কতটা সফল হয়েছে, তা দেখাতে একটি প্রামাণ্য ভিডিও-ও প্রকাশ করেন বিজ্ঞানীরা। মিসেস শিউয়ারমান সেখানে জানান, তাঁর নিজের লক্ষ্য ছিল নিজেরে হাতে নিজেকে চকোলেট খাওয়ানোর স্বপ্নটা পূরণ করা – আর এই রোবোটিক আর্ম তার সেই অনেক দিনের সাধ মিটিয়েছে।

সেখানে তিনি যে মন্তব্য করেন, সেটাই বোধহয় এই গবেষণার মূল কথা : চকোলেটে এই ছোট্ট কামড়টা একজন মহিলার জন্য হয়তো সামান্য ব্যাপার, কিন্তু বিসিআই প্রযুক্তির জন্য এ এক বিশাল কামড়!

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল এব আর ফ্লো

চাঁদের পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো নাসার দুটি স্যাটেলাইট ইচ্ছাকৃতভাবে চাঁদের বুকেই আছড়ে ফেলে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

এই মহাকাশযানদুটির নাম ছিল এব আর ফ্লো – যেগুলো গত এক বছর ধরে চাঁদকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করেছে, আর চাঁদের ভেতরটা সম্বন্ধে আরও বেশি করে জানার চেষ্টায় ক্রমাগত চাঁদের মহাকর্ষ বা গ্র্যাভিটির ফিল্ড পরিমাপ করে গেছে।

সামান্য দুটো ওয়াশিং মেশিনের আকারের এই দুটো প্রোব এতদিন চাঁদের বুকের অসাধারণ আর খুব পুঙ্খানুপুঙ্খ সব ছবি পাঠিয়েছে – কিন্তু সমস্যা হল, তাদের জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল।

sally_ride

স্যালি রাইড, যার নামে নামকরণ হয়েছে চাঁদের বুকের সেই 'দুর্ঘটনাস্থল'

ফলে নাসার বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন, চাঁদের যেটা উত্তর মেরু, তার কাছে একটা পাহাড়ে ধাক্কা মেরে এই যানদুটোকে ভেঙে ফেলা হবে।

চাঁদের বুকে ঠিক যে জায়গাটায় আছড়ে ফেলে এই মহাকাশযানদুটোর জীবনের সমাপ্তি ঘটানো হল, সেই জায়গাটার নামকরণ করা হয়েছে আমেরিকার প্রথম মহিলা মহাকাশচারী স্যালি রাইডের নামে – যিনি মারা গিয়েছেন এ বছরেই।

এব আর ফ্লো-র কর্মজীবন শেষ হয়ে গেলেও চাঁদের রহস্য উন্মোচনে তারা অসাধারণ একটা কাজ করে গেছে – বলছিলেন গ্রেইল বা গ্র্যাভিটি রিকভারি অ্যান্ড ইন্টিরিয়র ল্যাবরেটরির প্রধান নিরীক্ষক ড: মারিয়া জুবের। তাঁর কথায়, 'বলা যেতে পারে এব আর ফ্লো চাঁদের বুকের ওপর থেকে একটা পর্দা সরিয়ে দিয়েছে।'

ফলে চাঁদের বুকে হয়তো এই মহাকাশযানদুটোর শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যু ঘটল, কিন্তু বিজ্ঞানীদের চোখে অন্তত সেই মৃত্যু ব্যর্থ হয়নি!

গ্রেট ফারাওয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ধার

মিশরের শেষ গ্রেট ফারাও তৃতীয় রামসেস ঠিক কীভাবে মারা গিয়েছিলেন – গত প্রায় তিন হাজার বছর ধরে সেই রহস্যের কোনও উন্মোচন হয়নি। কিন্তু এখন ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন তারা সেই রহস্য উদ্ধার করতে পেরেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন কীভাবে আর কেন মিশরের শেষ গ্রেট ফারাওকে হত্যা করা হয়েছিল।

আসলে তৃতীয় রামসেসের যে মমি-করা দেহাবশেষটি পাওয়া গেছে, এই প্রথম বিজ্ঞানীরা তাঁর যথাযথ স্ক্যান করেছেন এবং দেখেছেন গ্রেট ফারাওয়ের ঘাড়ের কাছে একটা সাত সেন্টিমিটার চওড়া গভীর ক্ষতস্থান ছিল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে গলা কেটেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।

pharaoh_ramses

ফারাও তৃতীয় রামসেসের মমি

যে গবেষকরা এই মমির পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের অন্যতম ড: অ্যালবার্ট জিঙ্ক বিবিসিকে বলেন, 'ব্যাপারটা দারুণ আশ্চর্যজনক, আমরা যখন ওই সিটি ইমেজগুলো দেখলাম তখন বুঝতে পারলাম গলা কেটেই তাকে মারা হয়েছিল। কাটার জায়গাটা ছিল খুব গভীর আর চওড়া – আর মনে হচ্ছে আঘাত করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।'

তৃতীয় রামসেস খ্রীষ্টপূর্ব ১১৫০ সাল নাগাদ মারা গিয়েছিলেন। মিশরের এই ফারাও প্রায় ঈশ্বরের মর্যাদায় পূজিত হতেন, দেশকে তিনি বহুবার নানা বৈদেশিক আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

কিন্তু কীভাবে তিনি মারা যান তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিলই, এখন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলের পাঠানো হত্যাকারীরাই তাঁকে খুন করেছিল।

তার ছেলের লোভ ছিল বাবার সিংহাসনের দিকে, আর সম্ভবত সে কারণেই তৃতীয় রামসেসকে অপঘাতে জীবন দিতে হয়েছিল – বলছে এই নতুন ফরেনসিক গবেষণা!

বিশ্বে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ বাড়ছেই

দোহাতে যখন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে, ঠিক তখনই নতুন একটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে পৃথিবীতে এ বছরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন বেড়েছে অন্তত আড়াই শতাংশ।

গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্টের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, বহু শিল্পোন্নত দেশেই কার্বন ডাই অক্সাইড-জনিত দূষণ কমছে ঠিকই – কিন্তু চীন বা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ওই দূষণ এত মারাত্মক হারে বাড়ছে যে বিশ্বে সার্বিকভাবে কার্বন নির্গমন বেড়েই চলেছে।

doha_climate

দোহার জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন

বিশ্ব জুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর ব্যাপারে দোহাতেও যে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে তা নয়, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্লাইমেট কমিশনার কনি হেডেগার্ড বলছেন আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র রাস্তা।

তিনি বলেন, 'আমি বলছি না এটা আদর্শ, কিন্তু আমাদের হাতে এটাই একমাত্র আন্তর্জাতিক উপায়। বটম-আপ বা একেবারে নিচুতলা থেকেও সমস্যাটা ধরলে অনেক কিছু করা যাবে – কিন্তু আমার বিশ্বাস এই বটম-আপ, আর তার সঙ্গে টপ-ডাউন – এক সঙ্গে যদি দুটো দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই আমরা আন্তর্জাতিকভাবে এগোতে পারি, তাহলেই এই প্রক্রিয়াটায় গতি আসবে, সাফল্যের মাত্রা বাড়বে।'

বিশ্ব জুড়ে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ যে কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না, সেটা বিজ্ঞানীদের যেমন – সরকার বা নীতিনির্ধারকদেরও প্রবল দুশ্চিন্তার বিষয়।

আপাতত শুধু আশা করা হচ্ছে – আলোচনায় একদিন নিশ্চয় ফল হবে, আর সেই সঙ্গে বদলাবে কার্বন ফুটপ্রিন্ট নিয়ে সাধারণ মানুষের মানসিকতাও!

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻