আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ইতিহাসের সাক্ষী

  • ৯ জুলাই ২০১৩

পঞ্চাশ বছর আগে দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে স্থানীয় এক বাস কোম্পানির বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের ছোট একটি দল।

মার্টিন লুথার কিং-এর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত এই তরুণদের সফল আন্দোলনের পথ ধরে ব্রিটেনের প্রথম বর্ণবৈষম্য-বিরোধী আইন পাশ হয়েছিল।

১৯৬৩ সালের জুন মাসে ব্রিস্টল শহরে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের ছোট একটি দল ব্রিটিশ সমাজে সে সময়কার প্রকট বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ব্রিস্টলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সমাজকর্মী পল স্টিফেনসন বলেছেন সে সময় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার বলতে কিছু ছিল না।

সকলের জন্য উন্মুক্ত পানশালায় তিনি বসতে চেয়েছিলেন বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। বাস চালক, পুলিশ বা দমকলকর্মীর মত জনসেবামূলক কোনো কাজে চাকরি করার অধিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ছিল না।

আমেরিকায় নাগরিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্টিন লুথার কিং । তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্ররা দলে দলে মিছিলে যোগ দিচ্ছে স্বাধীনতার দাবিতে – বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।

কিং-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত পলেরও মনে হল ব্রিস্টলেও এধরনের একটা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ।

তাদের লক্ষ্য ছিল ব্রিস্টল অমনিবাস্ – কোম্পানি। ওই বাস কোম্পানি নতুন চালক ও কন্ডাক্টার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিল । কিন্তু বিজ্ঞাপনে খুবই স্পষ্ট করে লিখে দিয়েছিল যারা অশ্বেতাঙ্গ তারা যেন ওই চাকুরির জন্য আবেদন না করে ।

পল ও তার সহযোগীরা ঠিক করলেন শহরে বাস চলাচল বন্ধ করে দেবেন।

ব্রিস্টলে তখন পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের জামাইকা থেকে নবাগত ১৮ বছরের গাই বেইলি, বাসচালকের কাজের জন্য আবেদন করেছেন।

চাকুরি ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বৈষম্যের সূত্র ধরে টানা ৬০ দিন ধরে চলল প্রতিবাদ - বাস বয়কট।

পেছনে ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং সেইসঙ্গে ব্র্রিটেনে লেবার পার্টির সেসময়কার নেতা হ্যারল্ড উইলসনের সমর্থন ।

অবশেষে ব্রিস্টল বাস কোম্পানি মাথা নোয়াতে বাধ্য হল এবং অশ্বেতাঙ্গদের ওই বাস কোম্পানিতে কাজ দিতে সম্মত হল।

রঘ্‌বির সিং নামে একজন শিখ ব্রিস্টলের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ বাস কন্ডাক্টারের কাজ পান।

১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন হ্যারল্ড উইলসন হলেন । তিনি পল স্টিফেনসনকে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি বর্ণবৈষম্যকে বেআইনী ঘোষণা করবেন ।

সেই বছরই ব্রিটেনের সংসদে প্রথম বর্ণবাদ বিরোধী আইন পাশ হয় ।