আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মাঠে ময়দানে

  • ৩ অক্টোবর ২০১৩

ভারতের ক্রিকেট বোর্ড থেকে চিরতরে বহিষ্কৃত হয়েছেন ললিত মোদি – যিনি আইপিএলকে পরিণত করেছিলেন শত শত কোটি ডলারের ব্যবসায়, আর ভা্রতকে নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিকেট দুনিয়ার পরাশক্তির স্তরে।

ললিত মোদি ছিলেন ২০১০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচাইতে ধনী ক্রিকেট টুনামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

২০০৫ সালে রাজস্থান ক্রিকেট এসোসিয়েশনের তথনকার নেতা হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে ঢুকে তার সর্বকনিষ্ঠ সহসভাপতি হন ললিত মোদি। এর পর তার উত্থান অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। আইপিএল আয়ো্জনের মধ্যে দিয়ে মাত্র পাঁচ বছরে তিনি পরিণত হন ক্রিকেট দুনিয়ার সবচাইতে আলোচিত এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তায়।

কিন্তু তার পতনও হয়েছে তেমনি নাটকীয়ভাবে, তাকে বিদায় নিতে হচ্ছে গুরুতর সব অভিযোগ মাথায় নিয়ে। বিবিসির রাহুল ট্যান্ডন বলছেন, প্রধান অভিযোগ হচ্ছে যে তিনি ২০১০ সালের আইপিএলের ফ্রান্চাইজির নিলাম প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি করেছিলেন, বোর্ডের সাথে কোন আলোচনা না করে মিডিয়া ও ইন্টারনেট স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছিলেন, এবং ইংলিশ ও ভারতীয় কোনো বোর্ডকে না জানিয়ে ইংল্যান্ডে একটি টি২০ লীগ চালুর চেষ্টা করেছিলেন।

মি. মোদি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু যা উদ্বেগের বিষয় তা হলো মি. মোদি বলছেন যে ভারতীয় ক্রিকেট কর্তাদের অনেক গোপন তথ্য তিনি জানেন এবং তিনি তা প্রকাশ করে দেবেন।

এর আগে আইপিএলের নিলাম প্রক্রিয়ায় একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুরের জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করে দেন মি. মোদি, এবং এর পর ওই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ললিত মোদির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।

কিন্তু ললিত মোদি ২০১০ সাল থেকেই আইপিএলএর সাথে আর নেই, এবং তিনি এখন লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তার পরও কয়েকদিন আগে তিনি যখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ড থেকে বহিষ্কৃত এবং নিষিদ্ধ হলেন, তখনও তা ক্রিকেট জগতে বড় খবর হলো। কেন? এখনো কি ভারতীয় ক্রিকেট বা আইপিএলের ওপর ললিত মোদির এই বহিষ্কার কোন প্রভাব ফেলতে পারে?

কোলকাতায় ক্রিকেট সাংবাদিক অগ্নি পান্ডে বলছিলেন, সরাসরি আইপিএল টুর্নামেন্টের ওপর কোন প্রভাব না পড়লেও, ললিত মোদি বলেছেন যে তিনি আইনী লড়াই চালাবেন।

এই বহিষ্কার দিয়েই কি ললিত মোদি যুগের চুড়ান্ত সমাপ্তি হলো? অগ্নি পান্ডের কথায়, ভারতীয় ক্রিকেটে কিছুই অসম্ভব নয়, আইনী লড়াইয়ে জয়লাভ করলে মি. মোদিকে আবারো ভারতীয় ক্রিকেট জগতে আবির্ভূত হতে দেখা যেতেই পারে।

বিপিএলে ম্যাচ পাতানোর বিচার কবে শুরু?

এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে মাচপাতানোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল যে ৯ জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে, তাদের বিচারের জন্য এখনো ট্রাইবুনাল গঠন করতে পারে নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

আগস্টের ১৩ তারিখ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা ওই ন’জন খেলোয়াড়কে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন – এবং আইন অনুযায়ী তার ৪০ দিনের মধ্যেই ট্রাইবুনালের শুনানী শুরু করার কথা।

কিন্তু শুনানী দূরে থাক, ১০ সদস্যের ট্রাইবুনালই এখনো গঠন করতে পারে নি বিসিবি।

Image caption ললিত মোদি

বিসিবি কর্মকর্তা জালাল ইউনুসের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রাইবুনালে যারা থাকবেন তাদের টার্মস অব রেফারেন্স নানা কারণে চুড়ান্ত করা যায় নি, সে জন্যেই দেরি হয়েছে। তবে আইসিসি এ ব্যাপারে অবহিত আছে এবং তারা অতিরিক্ত কিছু সময় দিচ্ছে বিসিবিকে।

মি. ইউনুস বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব তারা এই ট্রাইবুনাল গঠনের কাজ শেষ করবেন।

ফুটবলে ম্যাচ পাতানো চক্রের নেতা ড্যান ট্যান গ্রেফতার

সিঙ্গাপুরের পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে ফুটবলে ম্যাচ পাতানোর একটি আন্তর্জাতিক চক্রের নেতা ড্যান ট্যানসহ কয়েকজন সন্দেহভাজন লোককে গ্রেফতার করেছে।

শুধু সিঙ্গাপুর নয়, ইতালির কর্তৃপক্ষও এই ড্যান ট্যান-কে অনেক দিন ধরে খুঁজছিল। অভিযোগ, এই ড্যান ট্যানের নেটওয়ার্ক ইতালির দ্বিতীয় সারির ক্লাবগুলোর কিছু খেলোয়াড়কে অর্থ দিয়ে ম্যাচ পাতানোর ব্যবস্থা করতো। কিন্তু এইসব চক্রের কর্মকান্ডের প্রভাব পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ফুটবলের ওপরেও পড়েছে।

এ ছাড়া এই সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়ায় এক পৃথক তদন্তে ৬ জন লোককে গ্রেফতার করেছে সেদেশের পুলিশ। এর মধ্যে একজন গোলরক্ষক এবং একজন কোচ – যারা অভিযোগ অনুযায়ী নিচের সারির লিগে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা করছিল।

এই চক্রের সাথেই আবার জড়িত ছিল সিঙ্গাপুরের ম্যাচ ফিক্সার, এবং ড্যান ট্যানের এক সময়কার সহযোগী উইলসন রাজ পেরুমল। তিনি এখন হাঙ্গেরীতে পুলিশ হেফাজতে আছেন। ফিফার সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ইটন বলছেন , ফুটবলে ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে এ এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

'দি ফিক্স' নামে ফুটবলে ম্যাচ পাতানোর ওপর একটি বহুল আলোচিত বই লিখেছেন ডেকলান হিল। তিনি বলছেন, "এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিঙ্গাপুর থেকে ম্যাচ পাতানোর চক্র কাজ করছে আজ কুড়ি বছর ধরে। তারা সারা দুনিয়ায় শত শত ম্যাচ গড়াপেটা করেছে। ইতালি, জার্মানি, ফিনল্যান্ড , অস্ট্রিয়া্, হাঙ্গেরির পুলিশ শত শত পৃষ্ঠার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। তারা ম্যাচ পাতানো এবং জুয়ার চক্রকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতো। যদি ইউরোপের এই দেশগুলোর কোনো আদালতে তাকে তোলা সম্ভব হয় - তাহলে সে যা বলবে তার প্রতিক্রিয়া হবে সুদুর প্রসারী। কিন্তু তা সম্ভব হবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।"

ডেকলান হিল বলছেন, এগুলো অবশ্যই এখনো শুধুই অভিযোগ - এবং বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে তার মনে হচ্ছে আইনী মারপ্যাঁচে এসব চক্রের প্রকৃত কর্মকান্ড চাপা পড়ে যাবার আশংকা আছে। সেক্ষেত্রে ফুটবলে ম্যাচ পাতানোর কলংক মোচন সহজ খুব সহজ হবে না।

এ সপ্তাহের মাঠে ময়দানে পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।