আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ইতিহাসের সাক্ষী

১৯৮৪ সালের ৩১শে অক্টোবর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে গুলি করে হত্যা করে তাঁরই দেহরক্ষীরা । সে সময় মিসেস গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন তারই এক সহযোগী আর কে ধাওয়ান। কী ঘটেছিল সেদিন?

Image caption ইন্দিরা গান্ধী

১৯৮৪র অক্টোবর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সঙ্কটময় একটা মূহুর্তের মুখোমুখি।

শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্য দীর্ঘদিনের সংঘাত তখন চরম রূপ নিয়েছে শিখ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মস্থান অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে আশ্রয় নেওয়া শিখ জঙ্গীদের উৎখাত করতে মিসেস গান্ধী সেনা অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর। ওই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে কয়েকশ মানুষ এবং সারা ভারত জুড়ে শিখ সম্প্রদায় তখন ক্ষোভে ফুঁসছে।

মিসেস গান্ধীকে বেশ কয়েকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী সেসব হুমকি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন।

''আমি ঝুঁকির মধ্যেই সারা জীবন কাটিয়েছি। এর মধ্যেই আমি পরিপূর্ণ জীবন উপভোগ করেছি। কাজেই বিছানায় শুয়ে ঘুমের মধ্যে আমি মৃত্যুবরণ করলাম না দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রাণ দিলাম তাতে আমার কিছু আসে যায় না।'' হুমকির জবাবে বলেছিলেন মিসেস গান্ধী।

ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীর কাজে নিয়োজিত সব শিখ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

কিন্তু বিষয়টা জানতে পারার পর মিসেস গান্ধী প্রচন্ড রেগে যান। তিনি নির্দেশ দেন এধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। যেসব শিখ নিরাপত্তা রক্ষীকে ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে হবে।

Image caption ইন্দিরা গান্ধীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তেসরা নভেম্বর ১৯৮৪

৩১শে অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনে একটা ডকুমেন্টারির শ্যুটিং হাওয়ার কথা ছিল। অভিনেতা পিটার উস্তিনভ তার ওপর একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করছিলেন যার জন্য বাগানে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় কিছুটা পেছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যাতে দেওয়ালি উৎসবে পোড়ানো আতসবাজির জঞ্জাল মালিরা বাগান থেকে থেকে পরিষ্কার করার সময় পায়।

সেই সাক্ষাৎকার দিতে বাগানে যাওয়ার সময় দেহরক্ষীর গুলিতে লুটিয়ে পড়ে ভারতের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দেহ।

সেই দিনই ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে রাজীবকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হয়।

ইন্দিরা গান্ধীর শেষকৃত্য হয় ১৯৮৪র তেসরা নভেম্বর। তার হত্যার পর দাঙ্গায় প্রাণ হারায় প্রায় ৩০০০ শিখ। মিসেস গান্ধী রেখে যান বিভক্ত এক লেগাসি।

স্বর্ণমন্দিরে সেনা অভিযান ও তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তার রাজনৈতিক অর্জনের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে থাকে। অবশ্য অনেকে তার আপোষহীন মনোভাব ও রাষ্ট্র হিসাবে ভারত নিয়ে তার দর্শনকে সমর্থনও করেছে ।

মিসেস গান্ধীর মৃত্যুর পর আর কে ধাওয়ান তার ছেলে রাজীব গান্ধীর জন্য কাজ করেন ১৯৯১তে আততায়ীর হাতে রাজীব গান্ধীর মৃত্যু পর্যন্ত। এখনও তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।