আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

Image caption ধূমকেতু আইসন

আশা করা হচ্ছিল, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দেখতে পাওয়া যাবে ধূমকেতু আইসনকে। কিন্তু সূর্যের বেশী কাছে চলে যাওয়াতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তা ।

আকাশে ধূমকেতু দেখতে পাওয়াটা এমনিতেই বিরল সুযোগ – যা সাধারণ জীবনে একবার-দুবারই আসে। যেমন হ্যালির ধূমকেতুকে দেখা যায় প্রতি ৭৫ বছরে একবার।

গত কিছুদিনে আইসন নামে একটি ধূমকেতুর আবির্ভাবকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্বাভাবিক ধূমকেতু যেমন দেখতে হয় – আইসনও তেমনি, অনেকটা ঝাঁটার মতো।

এর মাথাটা তৈরি হয়েছে প্রায় দুই কিলোমিটার চওড়া একটা বরফের খন্ড এবং মহাজাগতিক ধূলিকণা দিয়ে। আজ লেজের দৈর্ঘ্য কয়েক মিলিয়ন কিলোমিটার।

মহাকাশপ্রেমীদের আশা ছিল যে ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিক থেকে এই ধূমকেতুটিকে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো থেকে দেখতে পাওয়া যাবে। শুধু একটাই কিন্তু ছিল – সেটা হলো ধূমকেতুটি যেহেতু সূর্যের বেশ কাছে দিয়ে যাবে – তাই সেই সময় সূর্যের প্রচন্ড তাপে এটা ধ্বংস হয়ে যায় কিনা।

Image caption সূর্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ধূমকেতু আইসন

শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, তাই হয়েছে।

সূর্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকা আইসন ধূমকেতুর ওপর টেলিস্কোপে নজর রাখছিলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেল, সূর্যের পেছনে অদৃশ্য হয়ে গেল ধূমকেতুটি - কিন্তু তার ঘন্টা দুয়েক পর যখন আবার তাকে দেখা গেল, তখন দেখা গেল ধূমকেতুটির প্রায় কিছুই নেই, শুধু খুবই হালকা একটি আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের প্রচন্ড তাপে এবং মহাকর্ষের টানে ধূমকেতুটির মাথার অংশটি বাষ্পীভুত হয়ে উবে গেছে।

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানমন্দিরের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক টিম ও ব্রায়েন বলছেন, "ধূমকেতুটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতাশ। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ধূমকেতুটির মাথার দিকটা – যাকে বলে নিউক্লিয়াস - সেটা ভেঙেচুরে গেছে এবং এর গুঁড়ো হয়ে যাওয়া টুকরোগুলো বাষ্পীভূত হয়ে গেছে। আমার অনেকেরই এ জন্য মন খারাপ হবে।

Image caption আইসন: হাবল টেলিস্কোপ থেকে তোলা ছবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার কিট পিট মানমন্দিরের একজন মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. ম্যাথিউ নাইট ব্যাখ্যা করছিলেন, "আসলে ধূমকেতুটি সূর্যের এত কাছে চলে গিয়েছিল - এটা একটা অনন্য ব্যাপার। ধূমকেতুর ক্ষেত্রে এটা খুবই দুর্লভ ঘটনা। আমরা এটা কখনো দেখিনি যে সৌরজগতের একেবারে দূরতম প্রান্তে যে উর্ট মেঘমালা – সেখান থেকে একটি ধূমকেতু পথ চলতে চলতে সূর্যের এত কাছে চলে এলো। এর যে কক্ষপথ ছিল, তা গেছে সূর্যের খুবই কাছে দিয়ে। তখন ধূমকেতুটি এত গরম হয়ে গিয়েছিল যে আক্ষরিক অর্থেই তার পাথরগুলো গলে যাচ্ছিল, এবং তার পর তা গ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল, বা ধূলোর মতো আলগা হয়ে খসে পড়ছিল।"

এই একই মানমন্দিরের মহাকাশবিষয়ক পদার্থবিজ্ঞানী কার্ল ব্যাটামস বলছিলেন, "সূর্যের পাশ দিয়ে যাবার সময় ধূমকেতুটি যখন অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন আমরা ভেবেছিলাম এটাকে আর দেখতে পাওয়া যাবে না। কিন্তু কিছু সময় পরে আমরা দেখলাম কিছু একটা জিনিস যেন আবার দেখা যাচ্ছে, এবং তা ক্রমশ উজ্জ্বলতর হচ্ছে। ধূমকেতুটার কিছু অংশ হয়তো বেঁচে গেছে। তবে নিশ্চিতভাবে জানতে আরো কয়েকদিন লাগবে। আমাদেরকে মহাকাশযান থেকে তোলা ছবিগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সেগুলো পেলে আমরা জিনিসটার উজ্জ্বলতার পরিমাপ করতে পারবো, বুঝতে পারবো সেটার কোন পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, এটা কি দিয়ে তৈরি এবং আগামি দিন বা সপ্তাহগুলোতে তার গতিবিধি কি হবে।"

আগে মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, ডিসেম্বরের তিন-চার তারিখ নাগাদ একে পৃথিবীর আকাশ থেকে দেখা যাবে। কিন্তু এখন তা আদৌ ঘটবে কিনা তাই হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত।

নারীপুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি 'আপনার মন যা বলছে' – সে অনুযায়ী চলাই ভালো?

'হুট করে কিছু করে ফেলো না, যা করবে ভেবে চিন্তে করো।' এমন কেউ কি আছেন যাকে অন্তত একবার হলেও এ পরামর্শটি শুনতে হয় নি?

জীবনের অনেক ক্ষেত্রে নারীপুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা খুব বেশি শো্না যায়। কিন্তু এখন এক জরিপের পর এক দল গবেষক বলছেন, অন্তত নারীপুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার মনের গভীরের যে তাৎক্ষণিক অনুভুতি বা মূল্যায়ন – যাকে আমার বলি গাট ফিলিং - সেটার ওপর নির্ভর করাই ভালো, সেই সিদ্ধান্তই নাকি সাধারণত সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।

এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি সায়েন্স নামে একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা ১৩৫টি দম্পতির ওপর চার বছর ধরে জরিপ চালিয়েছে। প্রতি ছ’মাস পর পর বিভিন্ন ভাবে তাদের ওপর জরিপ করা হয়েছিল – এবং তাদের সঙ্গীদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক মনোভাব এবং সচেতন মূল্যায়নকে আলাদা আলাদা ভাবে নেয়া হয়েছিল।

গবেষকদের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিম ম্যাকনাটি বলছেন, তারা দেখতে পাচ্ছেন যে তারা যেটাকে বলেন স্বয়ংক্রিয় ভাবনা – তা আপনার অজান্তেই মনের ভেতর থেকে কাজ করে । এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে - ‘আপনার মন যা বলছে’ তার ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেটাই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।

" আমরা জরিপে অংশ নেয়া প্রত্যেককে তার স্ত্রী বা স্বামীর একটি ছবি দেখিয়েছি, আর তার পরপরই ‘দারুণ’ বা ‘চমৎকার’ ‘ভালো’ কিংবা ‘বিচ্ছিরি’, ‘ভয়ংকর’, বা ‘বাজে’ এরকম শব্দ দেখিয়েছি । দেখা গেছে যে যাদের সঙ্গীর সম্পর্কে ধারণা ইতিবাচক - তারা খুব দ্রুত ইতিবাচক শব্দগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছে। কিন্তু ধারণা যদি নেতিবাচক হয়, তাহলে তারা নেতিবাচক শব্দগুলো চিহ্নিত করতে অনেক সময় নিয়েছে। এরপর এটাকে আমরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ‘সচেতন ভাবে দেয়া’ জবাবের সাথে তুলনা করেছি। তাতে দেখা গেছে - বিবাহিত জীবনের শুরুতে অধিকাংশ উত্তরদাতাই বলছে ‘তারা খুব ভালো আাছে।‘ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সচেতনভাবে দেয়া এসব জবাব থেকে চার বছর পর তাদের সম্পর্কের অবস্থার সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া যায় নি। কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে যে পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল - সেটাই বরং অনেক নির্ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।"

প্রফেসর ম্যাকনাটি বলছেন, "দেখা গেছে সঙ্গীর ব্যাপারে একজন নারী বা পুরুষের ‘স্বয়ংক্রিয় অনুভুতি’ যত ইতিবাচক - তারাই আসলে বেশি সুখী হয়েছে । তবে এই স্বয়ংক্রিয় অনুভুতি কি তা কিন্তু মানুষ অনেক সময়ই সচেতনভাবে বুঝতে পারে না। কথনো দেখা যায়, বুঝলেও প্রকাশ করতে চায় না। আবার এমনও হতে পারে - তারা জানে যে সঙ্গীর ব্যাপারে তাদের স্বয়ংক্রিয় অনুভুতি কি - কিন্তু জেনেও তা উপেক্ষা করে, বা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় না। এমনও হয়ে থাকে যে সচেতন ভাবনা কখনো কখনো স্বয়ংক্রিয় অনুভুতিকে নষ্ট করে দেয়। "

তার মানে একজন নারী বা পুরুষের সম্পর্ক বা ভবিষ্যত জীবন কতটা সুখের হবে – তা বোঝার ক্ষেত্রে খুব বেশি ভেবেচিন্তে কাজ করলেই যে আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে প্রমাণিত হবে - তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

আপনার ‘মন যা বলছে’- তাই কি সবসময় ঠিক, বা তার ওপর নির্ভর করাই কি সবসময় ভালো? বিজ্ঞানের আসরের এই পর্বে এ বিষয় নিয়ে আরো কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক মেহতাব খানম।

অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।