আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

  • ২০ ডিসেম্বর ২০১৩
Image caption বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির চারতিকে ঘুরতে থাকা ইউরোপা নামের একটি উপগ্রহে প্রাণ সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ আছে - এমন প্রমাণ পেয়েছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।

সান ফ্রান্সিসকোতে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের বার্ষিক বৈঠকে এই আবিষ্কারের কথা জানান বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে এক নিবন্ধে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তারা আরো বলছেন ইউরোপার ব্যাপারে এখন আরো গবেষণা এবং অনুসন্ধান চালানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

মহাশূন্যে পরিভ্রমণরত হাবল নামের টেলিস্কোপের তোলা ছবি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা আভাস পাচ্ছেন যে, বরফ-শীতল গ্রহটির ওপরের স্তর ভেদ করে পানির ধারা নি:সরণ হচ্ছে বলে তারা আভাস পাচ্ছেন।

Image caption ইউরোপা

মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইউরোপার দক্ষিণ গোলার্ধে অতিরিক্ত পরিমাণ হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি হচ্ছে এমন একটি লক্ষণ যা থেকে বোঝা যায় এখানে অতিক্ষুদ্র প্রাণীর অস্তিত্ব থাকার মতো পরিবেশ রয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার জেমস গ্রীন বলছেন, মূলত পানির অস্তিত্ব আছে দেখেই তারা মনে করছেন যে এখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব।

প্রাণের উদ্ভব এবং বিকাশের জন্য পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এখন দেখতে হবে যে ইউরোপাতে কোন অরগ্যানিক অর্থাৎ জৈব পদার্থের উপস্থিতি আছে কিনা।

নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এখন পরিকল্পনা করছেন এই সম্ভাব্য যাত্রার নানা দিক নিয়ে।

Image caption বৃহস্পতির উপগ্রহ

যখন এরকম কোন অভিযান চালানোর মতো বাজেট পাওয়া যাবে, তখনই তারা এ অভিযানের বাস্তব কাজ শুরু করতে চান , বলছেন তারা।

পৃথিবীর শীতলতম স্থান

পৃথিবীর শীতলতম স্থানটি চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা এবং সেটি হচ্ছে এন্টার্কটিকায়। আর সেখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ৯৩ ডিগ্রি অর্থাৎ শূন্যের ৯৩ ডিগ্রি নিচে।

২০১০ সালের ১০ই আগস্ট এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এন্টার্কটিকার মাঝামাঝি একটি জায়গায়।

Image caption এন্টার্কটিকা

এর আগে পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় - ৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাশিয়ার ভস্টক নামের ঘাটিতে ১৯৮৩ সালে।

সেটা ছিল বাতাসের তাপমাত্রা অর্থাৎ মাটি থেকে এক দেড় মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের তাপমাত্রা। আর -৯৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাটি থেকে যাকে বিজ্ঞানী বলেন স্কিন টেম্পারেচার। ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্নো এন্ড আইস ডাটা সেন্টারের গবেষক টেড স্ক্যাম্বস বলছেন, আমি নিশ্চিত যে আমরা পৃথিবীর শীতলতম স্থানটি চিহ্নিত করেছি। ফারেনহাইটের হিসেবে এই তাপমাত্র শূন্যের ১৩৫ ডিগ্রি নিচে।

নভোচারী ক্রিস হ্যাডফিল্ড

Image caption ক্রিস হ্যাডফিল্ড, নভোযানের মধ্যে

মহাশূন্যে পৃথিবীর চারদিকে পরিভ্রমণরত আইএসএস বা আন্তজাতিক মহাকাশ স্টেশনের কথা আমরা অনেকেই জানি।

এই আইএসএসসের সাবেক কমান্ডার হচ্ছেন ক্রিস হ্যাডফিল্ড - যিনি একনাগাড়ে প্রায় ছমাস কাটিয়েছেন মহাশূন্যে এবং মহাকাশ স্টেশন থেকে তিনি তার প্রতিদিনির জীবনের নানা খুটিনাটি অনলাইনে পৃথিবীতে পাঠাতেন।

বিশেষ করে ওজনহীন অবস্থায় ভাসতে ভাসতে গাওয়া তার গানের ভিডিও ইউটিউবে জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে প্রায় বৈশ্বিক সুপারস্টারে পরিণত করে।

ক্রিস হ্যাডফিল্ড সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, মহাশূন্যে এতদিন বসবাস করার অভিজ্ঞতা পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণাই বদলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, "মহাকাশ স্টেশনে প্রায় ছ মাস কাটানোর সময় আমরা প্রতিদিন ১৬ বার করে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরেছি। পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখেছি। মহাশূন্য থেকে সবই এক রকম দেখায়।"

"আমরা পৃথিবীতে বসে হয়তো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করি। সীমান্ত তৈরি করি। কিন্তু মহাকাশ থেকে দেখলে এগুলো অর্থহীন মনে হয়। তখন আপনি বুঝবেন - পৃথিবীটা আসলে একটি মাত্র জায়গা, আর আমরাও সবাই এক, শুধুই মানুষ।"