আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ইতিহাসের সাক্ষী

  • ২২ ডিসেম্বর ২০১৩

ইয়েমেনের ইতিহাসে বড়ধরনের একটি গৃহযুদ্ধ হয়েছিল ১৯৬৪ সালে যখন দেশটির শেষ রাজা ইমাম আল-বদরের সমর্থক এবং যে প্রজাতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে উৎখাত করা হয়েছিল সেই আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে লড়াই বাঁধে।

Image caption ইয়েমেনের পাহাড়ী ভূখন্ড

সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিবিসিকে শুনিয়েছেন সেসময় রেডক্রসের একজন ফরাসি চিকিৎসক।

নভেম্বর ১৯৬৪- মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন বসতির দেশ ইয়েমেন দুবছর ধরে তখন জড়িত শীতল এক গৃহযুদ্ধে।

লড়াই চলছে উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় । সৌদি আরব ও জর্ডানের সমর্থনপুষ্ট, রাজার অনুগত বাহিনী ব্রিটিশ ভাড়াটে সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে লড়ছে নবগঠিত ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্রের সৈন্যদের সঙ্গে যাদের সমর্থন জোগাচ্ছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট নাসের - রুশ সেনাপুষ্ট তার শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সহায়তা দিয়ে।

ইয়েমেনি রাজার সেনারা ছিল শক্তিধর উপজাতিয় যোদ্ধা- তাদের হাতে অস্ত্র বলতে ছিল বন্দুক এবং ভাগ্য ভাল থাকলে বড় জোর হালকা কামান। তবে তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা ছিল ওই এলাকার সঙ্গে তাদের পরিচিতি।

তবে ১৯৬৪ সালের মধ্যে মিশর ইয়েমেনে বিশ হাজারের বেশি সৈন্য মোতায়েন করে, এবং পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা রাজার অনুগত বাহিনীর ওপর বোমাবর্ষণের জন্য ট্যাংক, ও কামান মোতায়েন এবং বিমান প্রস্তুত করে লড়াইয়ের জন্য।

এই যুদ্ধের কারণে ১৯৬৪ সালে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি অল্প কয়েকজন চিকিৎসকের একটি দলকে ইয়েমেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় । তাদের লক্ষ্য ছিল দুপক্ষেরই আহতদের শুশ্রূষা দেওয়া।

এদের মধ্যে ছিলেন ফরাসি চিকিৎসক- পাস্কাল খালেটি বস্‌ফিয়েল। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু আরেকজন ফরাসি ডাক্তার ম্যাক্স শ্রীক্যামিয়ে আর একজন সুইস নার্স।

মূল লড়াই তখন চলছিল খোদ ইয়েমেনের ভেতরে বেশ অনেক মাইল দক্ষিণে। সেখানে যাওয়াটা ছিল খুবই দুরূহ ।

উট আর গাধা সম্বল করে পাস্কাল ও তার সঙ্গীরা রওয়ানা হলেন ইয়েমেনের অভ্যন্তরে রণাঙ্গনের দিকে। পথে দেখা করলেন ইমাম আল বদরের সঙ্গে যিনি ছিলেন উত্তর ইয়েমেনের মুতাওয়াক্কিলিয়া সাম্রাজ্যের শেষ রাজা।

সানায় তিনি রাজত্ব করেন মাত্র সপ্তাহখানেক। এর মধ্যেই রিপাবলিকানরা অভ্যূত্থান ঘটিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তিনি পালিয়ে এক পর্বতগুহায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

দুর্গম পথে অনেক বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কীভাবে পাস্কাল আর ম্যাক্স পৌঁছেছিলেন রণাঙ্গনে- কীভাবে আহত সৈন্যদের চিকিৎসা করেছিলেন আর কীভাবে তারই সূত্র ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল চিকিৎসা সেবার দাতব্য সংস্থা মেদিসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের - শুনুন এ সপ্তাহের ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানে।

পরিবেশন করেছেন মানসী বড়ুয়া