আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

মানবদেহে বার্ড ফ্লু

একজন মানুষের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে এইচ ফাইভ এন ওয়ান ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা বিরল। কিন্তু হয়ে গেলে সেটা জনস্বাস্থ্যের জন্যে বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

Image caption এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস মুরগির মাধ্যমেই ছড়ায়

প্রাণঘাতী বার্ড ফ্লু ভাইরাস- এইচ ফাইভ এন ওয়ান আবারও মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আর এবার সেটা হয়েছে উত্তর অ্যামেরিকায়।

কানাডায় স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা এমাসেই এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই মৃত্যুর ফলে আতঙ্কের কিছু নেই। কারণ এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এই ভাইরাসের উৎস কানাডাতে নয়।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোনা অ্যামব্রোস বলেছেন, বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এই ব্যক্তি সম্প্রতি চীনে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে চীন থেকেই তিনি এই ভাইরাসটি বয়ে এনেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৬শ ৪৮ জন এইচ ফাইভ এন ওয়ান ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৫টি দেশে এই সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এবং তার মধ্যে ৩৮৪ জনই পরে মারা গেছেন।

বাণিজ্যিক-ভিত্তিতে মহাকাশ অভিযান

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে ভার্জিনিয়া থেকে

শুনলে অবাক হবেন না যে বাণিজিক্যভিত্তিতে মহাকাশে অভিযান পরিচালনার কাজ শুরু হয়েছে।

তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র বা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে অ্যামেরিকান অরবিটাল সায়েন্সেস কর্পোরেশন বা ওএসসির একটি রকেট।

চালকবিহীন এই রকেটের নাম সিগনাস যা উৎক্ষেপণ করা হয়েছে ভার্জিনিয়া রাজ্য থেকে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে যেসব নভোচারী অবস্থান করছেন, এই রকেটে করে তাদের জন্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক টনেরও বেশি ওজনের রসদ সামগ্রী। এসবের মধ্যে আছে খাবার দাবার, কাপড় চোপড়, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি। এবং নভোচারীদের জন্যে খৃস্টীয় বড়দিনের কিছু উপহার সামগ্রী।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বর মাসেও আন্তর্জাতিক মহাকাশে স্টেশনে রকেট পাঠিয়েছে ওএসসি। কিন্তু সেটা ছিলো পরীক্ষামূলক। কিন্তু এবার যে রকেট পাঠানো হয়েছে সেটাই প্রথম কার্গো ডেলিভারি। এজন্যে সংস্থাটির সাথে একটি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

ওএসসি ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার ‘স্পেইস এক্স’ নামের আরো একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে নাসা একই ধরনের চুক্তি করেছে।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নাসাকে কেনো এধরনের চুক্তি করতে হলো- এ নিয়ে শুনবেন নাসার একজন গবেষক ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার।

হারিয়ে যাচ্ছে মাংসাশী প্রাণী

সারা বিশ্বে কমছে মাংসাশী প্রাণীর সংখ্যা যার প্রভাব পড়ছে পৃথিবীর প্রতিবেশের ওপর।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption খাদ্যচক্রে এসব মাংসাশী প্রাণীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

সিংহ, বাঘ, নেকড়ে আর ভাল্লুকের মতো বিশ্বে বড়ো বড়ো যেসব মাংসাশী প্রাণী আছে, সেগুলো যতোই শক্তিশালী হোক না কেনো, এদের সংখ্যা এখন ক্রমশই কমছে।

লন্ডনে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী সায়েন্সে এই তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, এর কারণের মধ্যে রয়েছে- এসব প্রাণীর বসবাস উপযোগী বনাঞ্চল ও খাদ্য ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং মানুষের হাতে শিকার হওয়া।

গবেষকরা বলছেন, এটা একটা দুশ্চিন্তার কারণ, কেননা এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে বিশ্বের ইকোসিস্টেম বা প্রতিবেশের ওপর একটা মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষকরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে মাংসাশী প্রাণী প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এরকম ৩১টি প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা যাচ্ছে আমাজন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এবং পূর্ব আফ্রিকায় এসব প্রাণীর ওপর ক্রমশই চাপ বাড়ছে।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক ও এই গবেষণার একজন গবেষক প্রফেসর বিল রিপল প্রতিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে বলছিলেন, এরকম বহু প্রাণী একেবারে বিলুপ্ত হওয়ার মুখে, স্থানীয়ভাবে কিম্বা বিশ্ব পরিমণ্ডলে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে মানুষের পুরনো একটি ধারণা থেকে। আমরা মনে করি, শিকারি এসব প্রাণী আমাদের জন্যে ক্ষতিকর এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্যে হুমকি।

কিন্তু এসব মাংসাশী প্রাণীরও যে খাদ্যচক্রে একটা জটিল ভূমিকা আছে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এসব প্রাণীর জন্যে বাড়াতে হবে মানুষের সহনশীলতাও।

এসব নিয়েই এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর।

পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান: