আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যাসিক

বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান কয়েকটি দেশের জোট দাবী করছে, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে উন্নত দেশগুলোর চেয়েও তারা অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে।

এই দেশগুলো হচ্ছে- ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং চীন। জোটের নাম ব্যাসিক।

এই জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে উন্নত দেশগুলো তাদের লক্ষ্যমাত্রা খুব নিচুতে রেখে দিয়েছে।

উন্নত দেশগুলো পাল্টা বলছে, চীন ও ভারতের মতো দেশ ব্যাপক পরিমাণে কার্বন নির্গমন জন্যে দায়ী।

ছবির কপিরাইট Thinkstock

সারা বিশ্বে যতো কার্বন নির্গত হয়, তার মধ্যে এই দুটো দেশের কার্বনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য রকমের।

উন্নত দেশগুলোর সাথে ব্যাসিক জোটের এই মতবিরোধ চলছে বহু বছর ধরেই।

আর একারণে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে এই দুটো পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না।

ভারতের পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকার এই জোটের পক্ষে বলেছেন যে তারা যথেষ্ট করেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের উপর আগামী মাসে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনের আগে ভারতের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হলো।

এই বৈঠকের লক্ষ্য হচ্ছে- কার্বন নির্গমনের ব্যাপারে আগামী বছরের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি আদায় করা।

এই সমঝোতার ব্যাপারে এর আগে যতো আলোচনা হয়েছে, তার কোনোটাই সফল হয়নি, এই মতবিভেদের কারণে।

ব্যাসিক জোটের বক্তব্য হচ্ছে, কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমাতে তাদেরকে বাধ্য করা উচিত নয়, কারণ তারা যথেষ্ট কমিয়েছে, এখন এই কাজটা করতে হবে উন্নত দেশগুলোকে।

তারা বলছে, উন্নত দেশগুলো অতীতে শিল্প বিপ্লবের সময় যে পরিমাণে কার্বন দূষণ ঘটিয়েছে, এখন তারা ইতিহাসের সেই দায় অন্যদের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করছে।

প্রেসিডেন্ট ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের কার্বন নির্গমনের মাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্যে নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করেছেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এই লক্ষ্যমাত্রা কুড়ি শতাংশ থেকে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে বৃদ্ধি করার কথা বলছে।

পৃথিবীতে সবচে বেশি কার্বন দূষণের জন্যে যারা দায়ী তাদের শীর্ষে চীন। এবং তারপরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কমিটি আইপিসিসি বলছে, প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে।

উড়ন্ত গাড়ি

সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনীতে বহুদিন ধরেই উড়ন্ত গাড়ির কথা বলা হচ্ছে।

বিশ্বের বেশ কিছু কোম্পানি এখন এধরনের গাড়ির নকশা নিয়ে কাজ করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার জরুরি বিভাগ- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস- এধরনের গাড়ির কথা কল্পনা করে আসছিলো। আর এখন এই গাড়ির কথা ভাবছে মানবিক ত্রাণ-সাহায্য বিষয়ক সংস্থাগুলিও, যাতে তারা দুর্গম এলাকাগুলোতে যেতে পারেন। বিশেষ এই যানের নাম- ম্যাভেরিক। এই যানটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে আইটেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

ছবির কপিরাইট BBC World Service

প্রস্ততকারকরা বলছেন, প্রথমত এতে খরচ পড়বে কম। কারণ উড়তে গেলে খরচ হয় বেশি। তাই যেখানে সড়কে চলা যায় সেখানে সড়কেই চলবে। আর যেখানে উড়ার কেনো বিকল্প নেই, সেখানে উড়ে যাওয়ায় সম্ভব। হেলিকপ্টারে খরচ বেশি।

প্রয়োজন পেশাজীবী একজন পাইলটের। কিন্তু ম্যাভেরিকের জন্যে দরকার শুধু একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এধরনের একটি গাড়ির দাম খুবই বেশি- বর্তমান মূল্য ৯৪ হাজার ডলার। তবে এই গাড়িতে জ্বালানী পুড়বে খুব কম, এমনকি উড়ার সময়েও। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এই গাড়ি লাভজনক।

নির্মাতারা বলছেন, গাড়িতে একটি গ্যাস ট্যাঙ্ক আছে যাতে ১৭ গ্যালন তেল ধরে। গাড়ি চালিয়ে গেলে এক গ্যালনে যাওয়া যাবে ২৫ মাইলের মতো। আর উড়তে গেলে এক ঘণ্টায় তেল পুড়বে ৫ থেকে ৬ গ্যালন। ফলে ট্যাঙ্কে যে পরিমাণ তেল থাকবে

সেটা দিয়ে আপনি তিন ঘণ্টার মতো উড়তে পারেন। এক ঘণ্টায় উড়ে যেতে পারেন ৪০ মাইল। ফলে আপনি এক যাত্রায় উড়তে পারবেন ১২০ মাইলের মতো।

গাড়িটি দেখতে একটি সাধারণ গাড়ির মতো। কিন্তু এটি ঝুলে থাকে একটি প্যারাসুটের সাথে। এটা কেনো হেলিকপ্টার নয়, আবার এটা কেনো গাড়িও নয়- এই দুটোর মাঝামাঝি।

মহাকাশ গবেষণায় আশঙ্কা

পূর্ব ইউক্রেনের আকাশ থেকে মালয়েশিয়ার একটি বিমান নামিয়ে আনার ঘটনায় অ্যামেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা নতুন এক মাত্রায় পৌঁছেছে।

রাশিয়ার ওপর ইতোমধ্যেই আরোপ করা হয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। রাশিয়াও এখন তার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটা হতো পারে মহাকাশ বিজ্ঞানের গবেষণায়।

ছবির কপিরাইট

নীল আর্মস্ট্রং যখন ১৯৬৯ সালে প্রথম চাঁদের পিঠে পা রাখেন তখন মহাকাশ গবেষণায় একটা প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছিলো। বলা হলো যে, চাঁদে তৎকালীন সোভিয়েতকে পরাজিত করেছে অ্যামেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে এটা ছিলো জাতীয় গর্বের বিষয়।

কিন্তু প্রতিদ্বন্ধী এই দুটো দেশ শীঘ্রই বুঝতে পারলো যে মহাকাশ গবেষণায় তারা অনেক কিছু অর্জন করতে পারবে যদি তারা একসাথে কাজ করেন। কিন্তু এখন অ্যামেরিকা

শুধু রাশিয়ার সাথে কাজই করে না, এই মহাকাশ গবেষণার জন্যে তারা অনেকটাই নির্ভর করে রাশিয়ার ওপর।

যেমন ডিসকভারি শাটল। ৩০ বছর ধরে নভোচারীরা এই যানে করে মহাকাশ পাড়ি দিয়েছেন। বর্তমানে এটি রাখা আছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাদুঘরে।

এখনও এই মহাকাশ যানের কোনো বিকল্প যান তৈরি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের নভোচারীদের মহাকাশে পাঠাতে এখন ব্যবহার করছে রাশিয়ার সোয়েজ।

মাত্র একটি আসনের জন্যে রাশিয়াকে দিতে হচ্ছে ৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক এই মহাকাশ স্টেশন ছিলো মহাকাশে আন্তর্জাতিক ঐক্যের প্রতীক।

কিন্তু এখন রাশিয়া হুমকি দিয়েছে যে তারা মার্কিন নভোচারীদের নিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।

আবার যে রকেটের মাধ্যমে অ্যামেরিকা তার স্যাটেলাইট, এমনকি প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে সেটা কেনা হয়েছে রাশিয়া থেকে।

অর্থাৎ রাশিয়ার ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন রাশিয়ার প্রযুক্তি। এখন এই প্রযুক্তি সরবরাহও হুমকির মুখে পড়েছে।

মহাকাশে আন্তর্জাতিক এই সহযোগিতা এর আগেও রাজনৈতিক টানাপড়েনকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনা যদি আরো বাড়তে থাকতে তাহলে সীমান্ত-বিহীন মহাকাশ যে এখনকার মতোই থেকে যাবে সেটা বলা কঠিন।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান