বাংলাদেশে ২০০৭ সালের পর থেকে পুলিশ স্বচ্ছতা রেখে কাজ করছে: আইজিপি শহীদুল

আইজিপি একেএম শহীদুল হক।
Image caption সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন জঙ্গি বিরোধী পুলিশের অভিযানকে 'সাজানো নাটক' অভিহিত করে যেসব সমালোচনা হচ্ছে তা অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পুলিশ প্রধান একেএম শহীদুল হক।

'সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা' শিরোনামের এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে মি. হক বলেন, "একটি স্বার্থান্বেষী মহল সম্প্রতি জঙ্গি দমনে পুলিশের সফল অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য গণমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরণের বিতর্কিত অভিমত ব্যক্ত করছেন। এ ধরণের বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত"।

"এ ধরণের বক্তব্যে প্রকারান্তরে জঙ্গিরা উৎসাহিত হতে পারে", বলেও লিখিত বক্তব্যে বলেন মি. হক।

মূলত গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরায় সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পুলিশ ঢাকার কল্যাণপুরে ও নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় দুটি অভিযান চালিয়ে ১২ জন অভিযুক্ত জঙ্গিকে হত্যা করে।

এদের মধ্যে গুলশান ও শোলাকিয়া ঈদগাহে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হয় এমন এক ব্যক্তি তামিম চৌধুরীও রয়েছেন।

এই তামিম চৌধুরী একজন ক্যানাডিয়ান নাগরিক এবং পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী সে বাংলাদেশে বছর চারেক আগে মাথাচাড়া দেয়া 'নব্য জেএমবি' নামের ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা।

কিন্তু এসব খবর প্রকাশ হওয়ার পর বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এগুলো সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেছে।

নারায়ণগঞ্জের অভিযানের পর নিহত জঙ্গিদের ময়নাতদন্তে প্রাপ্ত ফলাফল বিবিসির যে খবরটিতে প্রকাশ করা হয়েছে, ফেসবুকে সেই খবর শেয়ার করার পর সেখানে আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "আমার মনে হয় এটা সাজানো নাটক। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তো আমরা নতুন নতুন নাটক দেখছি"।

মাসুম বিল্লাল নামে আরেকজন লিখেছেন, "আরে ভাই, মারছে আগেই। পরে শুধু ড্রামাটা করেছে"।

বগুড়ার শেরপুরে 'বন্দুক যুদ্ধে' জেএমবির দুই সদস্য নিহত, বিবিসির সাম্প্রতিক এমন একটি খবরে, নাজিব মোল্লাহ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, "পুলিশের কথা আমরা কেন বিশ্বাস করব উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া? আমাদের দেশের বেশির ভাগ পুলিশ কেমন তাকি আমরা জানি না"!

Image caption জুলাই মাসের শেষ ভাগে কল্যাণপুরে যে বাড়িটিতে পুলিশের অভিযানে ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়, অভিযানের পর সেই বাড়িটির ভেতরের চিত্র।

ওই খবরটিতে রুবেল হোসাইন লিখেছেন, "আর কত নাটক চলবে দেশে?"

কল্যাণপুর অভিযান পরবর্তী জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানের খবরে এমনতর মন্তব্য করেছেন শত শত ব্যবহারকারী।

এমনকি নারায়ণগঞ্জের অভিযানে তামিম চৌধুরী নিহত হবার বেশ আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যখন তার সম্পর্কে এবং আরেক সন্দেহভাজন জঙ্গি নেতা বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হক সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের একটি প্রধান দৈনিক পত্রিকায় পর্যন্ত এমন খবর বেরিয়েছিল, যেখানে তারা ইঙ্গিত দিয়েছিল তামিম চৌধুরী ও জিয়াউল হক হয়তো পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে।

জুলাই মাসের শেষভাগে যখন কল্যাণপুর অভিযানের মাধ্যমে প্রথম বড় ও সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযানটি করে পুলিশ, তখন থেকেই এমন পুলিশকে সন্দেহ ও সমালোচনা করা শুরু হয়।

পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করে যে, এক পর্যায়ে এসব সমালোচনার জবাব দিতে পুলিশের নবগঠিত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইজি মি. হক বলেন, "এদেশে একুশে অগাস্টের হামলার মত ঘটনা ঘটেছে। সেই মামলা ধামাচাপা দেয়ার জন্য, অন্য খাতে নেয়ার জন্য জজ মিয়া তৈরি করা হয়েছে"।

"আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত যে আমাদের পূর্বসূরিরা এই জজ মিয়া তৈরিতে সহায়তা করেছে। ২০০৭ সালের পর থেকে পুলিশ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করছে"।

কল্যাণপুরের ঘটনাতেও পুলিশ শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করেছে উল্লেখ করে মি. হক বলেন, "না জেনে না বুঝে ঢালাওভাবে কথা বলা কোন দায়িত্বশীল আচরণ নয়। স্পর্শকাতর ব্যাপারে দায়িত্বহীন বক্তব্য দেবেন না"।