মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কতটা দিতে পারবেন ওয়ালশ?

নব্বই এর দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে কিংবদন্তির খ্যাতি পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলার কোর্টনি ওয়ালশ। সতীর্থ ফাস্ট বোলার কার্টলি অ্যামব্রোস এবং তার জুটি বছরের পর বছর প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের মনে ভীতি তৈরি করেছে।

১৩২ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ঝুলিতে তার উইকেটের সংখ্যা ৫১৯ টি যার মধ্যে ২২টি ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। অধিনায়কত্ব করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মাস দুয়েক ধরে কথাবার্তার পর বুধবার রাতে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের সাথে তার চুক্তি হয়েছে আগামী তিন বছরের জন্য কোর্টনি ওয়ালশ জাতীয় দলের বোলিং কোচ হয়েছেন।

মে মাসে জিম্বাবুয়ের হিথ স্ট্রিক চলে যাবার পর থেকে বোলিং কোচের সন্ধান করছিল বিসিবি। কেন কোর্টনি ওয়ালশকেই তারা বাছলেন।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনসের প্রধান আকরাম খান বলছেন, অভিজ্ঞতা, সুনাম এবং খ্যাতির বিবেচনায় বোলিং কোচ হিসাবে ওয়ালশকে পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।

"যাদেরকে মানুষ আইকন হিসাবে দেখে, তাদের কথা শুনতেও তারা বেশি আগ্রহী হয়..সে কারণে আমি মনে করি, ওয়ালশের কাছ থেকে আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক কিছু শিখবে"।

কোর্টনি ওয়ালশের মত কিংবদন্তি-সম একজন বোলারকে কোচ হিসাবে পাওয়াটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কত বড় ঘটনা ?

কলকাতার ক্রিকেট গবেষক এবং ভাষ্যকার বরিয়া মজুমদারের বিবিসিকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক নম্বর সাফল্য তাদের ফাস্ট বোলিং, এবং সেই বিবেচনায় কোর্টনি ওয়ালশকে পাওয়া অনেক বড় ঘটনা।

"ওয়ালশ হয়তো অ্যামব্রোস বা অ্যালান ডোনাল্ডের মতো অত প্রতিভাবান নয়, কিন্তু তার কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা অতুলনীয় - এসবের বিচারে তিনি কিংবদন্তি"।

তবে কোচ হিসাবে ওয়ালশের অভিজ্ঞতার ঘাটতি অনস্বীকার্য। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ ছিলেন, কিন্তু কোনো জাতীয় দলের কোচ হওয়ার অভিজ্ঞতা তার নেই।

কিন্তু আকরাম খান সেটাকে সমস্যা হিসাবে দেখতে রাজী নন। --হিথ স্ট্রিকেরও কোচিংয়ের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিলো না, হাথুরাসিঙ্গেরও তাই, কিন্তু তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক পেয়েছি। --

বরিয়া মজুমদার অবশ্য অভিজ্ঞতার ঘাটতিকে উড়িয়ে দিতে রাজী নন।

"সেটি একটি সমস্যা হতে পারে...হিথ স্ট্রিকের কোনো ইগো ছিলোনা..কিন্তু কোর্টনি ওয়ালসের থাকবে... আর তাছাড়া ভালো ক্রিকেটার হলেই যে সফল কোচ হবেন, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।" উদাহরণ হিসাবে তিনি ভারতের কোচ হিসাবে গ্রেগ চ্যাপেলের রেকর্ডের কথা উল্লেখ করেন।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption pogba

প্রিমিয়ারশিপে রেকর্ড লেনদেন

ইংলিশ প্রিমিয়ারশিপ ফুটবল অনেকদিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবল লীগ, কিন্তু এবার গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার মৌসুমে ফুটবলার কিনতে টাকা পয়সার যে লেনদেন হয়েছে তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মোট প্রায় ১১৭ কোটি পাউন্ড খরচ করেছে ক্লাবগুলো যা আগের মৌসুমের চেয়ে সাড়ে ১৫ কোটি পাউন্ড বেশি। অধিকাংশ ক্লাবই ফুটবলার কিনতে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি টাকা ঢেলেছে।

টাকার লেনদেন, ফুটবলারদের দাম দেখে চেলসির ইটালিয়ান কোচ আন্তোনিও কোনটি বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেছেন, বাজারে পাগলামি চলছে, সাধারণ মাপের ফুটবলারদের জন্যও অবিশ্বাস্য দাম হাঁকা হচ্ছে।

এবার ইংলিশ ফুটবলে কেন এই টাকার ছড়াছড়ি?

ফুটবল বিশ্লেষক মিহির বোস বলেন প্রিমিয়ারশিপ নতুন টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব থেকে এবার অনেক বেশি টাকা পাচ্ছে। ফলে, ক্লাবগুলোর হিস্যা বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, প্রিমিয়ারশিপের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে যেভাবে বাড়ছে, তাতে সব পেশাদার ফুটবলার এখন ইংল্যান্ডে খেলতে চাইছে। "তারা জানে, তারা যখন মাঠে নামবে, চীন, জাপান সিঙ্গাপুর, আমেরিকাতে কোটি কোটি মানুষ টিভিতে তাদের খেলা দেখবে। যদি ভালো পারফরমেন্স করে, ঐ সব দেশে তারা তারকা হবে।"

প্রিমিয়ারশিপের এই পয়সা, এই আকর্ষণের ফলে কি ইউরোপের অন্যান্য লীগের পক্ষে ভালো ফুটবলার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে? মিহির বোস বলছেন, সেটা হচ্ছে। "রিয়েল মাদ্রিদ বা বার্সিলোনার হয়ত হচ্ছেনা, কিন্তু ছোট ক্লাবগুলোর হচ্ছে।"