রেস্টুরেন্ট বাণিজ্যে সেলফির প্রভাব কতটুকু?

রেস্টরেন্ট, সেলফি ছবির কপিরাইট গেটি ইমেজ
Image caption রেস্টরেন্টে গেলে এখন সেলফি তোলা যেন এক অবশ্যম্ভাবী বিষয়

স্মার্টফোনের কল্যাণে রেস্টুরেন্টগুলোতে এখন দেখা যায় খাওয়ার পাশাপাশি চলে সেলফি তোলার ধুম।

ফলে রেস্টুরেন্ট গুলোও পরিচিতি পেয়ে যাচ্ছে দ্রুত। কিন্তু রেস্টুরেন্ট বাণিজ্যে সেলফির প্রভাব কতটুকু?

রেস্টুরেন্টে খেতে আসা ইরফানুল হাসান বলছিলেন, "সেলফির কারণে অনেক অজানা রেস্টুরেন্ট পপুলার হয়ে যাচ্ছে। ভালো রেস্টুরেন্ট যেমন হচ্ছে বাজে রেস্টুরেন্ট ও হচ্ছে। জানানোর জন্য জাস্ট শো -অফ আর কি। অনেকের সেলফির ফ্রিক আছে। অনেক সময় ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আসছে দেখাচ্ছে খাচ্ছে। অভ্যাস হয়ে গেছে আমাদের।"

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন শেহনাজ মাসুদ, বান্ধবীরা মিলে খেতে এসেছেন রেস্টুরেন্ট। "ফেইসবুক একটা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, সো সোশ্যাল হওয়ার জন্যই করি আমরা। এখানে আসছি এখানের খাওয়া খাচ্ছি এটা জানানোর জন্যই সেলফি আপলোড করি। নতুন খাওয়ার জায়গা খুললে তখন ছবি দেখলে চেক-ইন দেখলে আমার মনে হয় যে এখানে আমার যাওয়া উচিত।"

ছবির কপিরাইট শাকিলা সিমকি
Image caption ঢাকার নস্টালজিক কাফে

রেস্টুরেন্ট বাণিজ্যে সেলফির প্রভাব কতটুকু?

নস্টালজিক কাফের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন নিলয় জানান, যেহেতু এখন সবাই অনেক বেশি ফেসবুক ওরিয়েন্টেড চেক-ইন দেয়া, সেলফি তোলা এক্ষেত্রে তারা রেস্টুরেন্টকে অনেক প্রায়োরিটি দেয়।

সেলফির প্রভাবে রেস্টুরেন্টের পরিবেশেও এসেছে নিত্য নতুন সাঁজ। এখন খাবারের পাশাপাশি বিনোদনেরও ব্যবস্থা রাখছে কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু খাবারের গুনগত মান ডেকোরেশনের কারণে কোন রকমের কম্প্রোমাইজ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ভূত রেস্টুরেন্ট এর ম্যানেজার, নোমান মাহমুদ বলেন, এখন মানুষ শুধু খেতেই আসেনা পাশাপাশি বিনোদনের জন্যও আসে।

অন্যদিকে, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো সুস্বাদু এবং নির্দিষ্ট এক শ্রেণির কাস্টমারের কাছে জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও সেখানে থাকেনা কোন সেলফির প্রভাব। এটা কি শুধু ডেকরেশনের দৈনতা?

হোটেল রাব্বানির ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুল্লাহ চোওধুরি বলেন, "খাবারের মান ঠিক রেখে পরিষ্কার পরিছন্নতা আর ভালো ব্যবহার থাকলে কাস্টমার এমনিতেই আসবে।"

তবে, সেলফির প্রভাব থাকুক না থাকুক খাবারের মান নিয়ে 'নো কম্প্রমাইস' এমনটাই মনে করেন রেস্টুরেন্ট মালিকেরা।