বাংলাদেশে কেন 'ইভ টিজিং' থামানো যাচ্ছে না

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রীর হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে সহপাঠীদের বিক্ষোভ ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে সহপাঠীদের বিক্ষোভ--ফাইল ফটো

বাংলাদেশে কিছুদিন আগেই উত্যক্তকারীর ছুরিকাঘাতে ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এক ছাত্রী নিহত হবার পর, গতকাল মাদারীপুরে এক স্কুল ছাত্রীকে একইভাবে হত্যা করা হয়।

ইভ টিজিং বন্ধে বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে চলছে নানা রকম সচেতনতামূলক প্রচারণা। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরণের ঘটনায় শান্তির বিধানও রয়েছে।

কিন্তু তারপরেও কেন থামানো যাচ্ছে না ইভ টিজিং?

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলছেন, ইভ টিজিং বা যৌন নিপীড়নের ঘটনা বন্ধে যে ধরণের আইন রয়েছে, তার প্রয়োগ হচ্ছে না।

ফলে অভিযুক্তদের শাস্তি হয় না, এবং অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা একটি বার্তা পায় যে অন্যায় করেও পার পেয়ে যাওয়া যায়।

আর এ কারণেই ইভ টিজিং থামছে।

ছবির কপিরাইট Thinkstock
Image caption বাংলাদেশ ইভ টিজিং এর কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীর

মিতু হত্যার ঘটনা বা তনুর হত্যার ঘটনায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সংস্থাটির সভাপতি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তনুর মায়ের প্রশ্ন আছে, নাগরিক সমাজেরও প্রশ্ন আছে।

কিন্তু সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা এবং জেন্ডার সংবেদনশীল হবার প্রয়োজন আছে। এবং সবারই আরো দায়বদ্ধ আচরণ করা প্রয়োজন।

মিসেস খানম বলছেন, সমাজের সব স্তরেই এজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে পরিবারগুলোকেও সন্তানদের এ বিষয়ে শিক্ষা দেয়া ও সচেতন করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইভ টিজিং এর ঘটনায় পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক হিসেব অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে সারাদেশে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ১৪৮জন।

এর মধ্যে ইভ টিজিং এর ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৫৭জন আহত হয়েছেন।

এজন্য স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে অন্তত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর।