স্কুলে শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্যে ড্রেসকোড নিষিদ্ধ

ছবির কপিরাইট Smriti Daniel
Image caption একটি স্কুলের সামনে ড্রেস-কোডের পোস্টার

শ্রীলঙ্কার কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মায়েরা কি ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন তার জন্যে সেসব স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি ড্রেস-কোড বেঁধে দিয়েছিলো।

এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর সরকার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সরকার বলছে, কোন স্কুলই অভিভাবকদের জন্যে এধরনের নির্দেশনা জারি করতে পারবে না।

প্রথমে একটি নামকরা স্কুলে এই ড্রেস-কোড চালু করা হয়। স্কুলের সামনে একটি পোস্টার ঝুলিয়ে দেওয়া হয় যেখানে ছবিসহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়ে ছাত্রছাত্রীদের মায়েরা কি ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন।

এই স্কুলে মূলত উচ্চবিত্তের সন্তানরাই লেখাপড়া করে।

ওই নোটিসে দেখা যায় মায়েরা শাড়ি কিম্বা ঢিলেঢালা পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন। কিন্তু স্কার্ট বা হাতা-কাটা জামা পরে স্কুলে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

খোলামেলা পোশাক পরে এলে স্কুলের ছেলেদের অনুভূতিতে পরিবর্তন আসতে পারে এই আশঙ্কায় স্কুলের তরফে এই ড্রেস-কোড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

ছবির কপিরাইট Thinkstock
Image caption শাড়ি পরিহিত এক নারী। শাড়ি পরে আসতে পারবেন ড্রেসকোড অনুসারে

এই নিয়ম চালু করার পর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রচুর অভিযোগ আসে ও সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।

শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে এধরনের ড্রেস-কোড চালু করা হয়েছিলো। সে অনুযায়ী পোশাক না পরে আসার কারণে অনেক মাকেই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

দেশটির শিক্ষামন্ত্রী আকিলা কারিয়াওয়াসাম বিবিসিকে বলেছেন, এরপর বহু অভিভাবক বিশেষ করে মায়েরা এই বিধিনিষেধের ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেছেন, "অভিভাবকরা কি পরে স্কুলে আসবেন স্কুল সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।"

"এই ড্রেস-কোডের জন্যে মায়েরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। কারণ বেশিরভাগ কর্মজীবী নারী সবসময় শাড়ি পরেন না। তাদের কারো কারো ইউনিফর্ম আছে যা পরে তাদেরকে কাজে যেতে হয়।"

"ফলে বাচ্চাদের শুধু স্কুলে দিতে আসতে গেলেই তারা শাড়ি পরতে বাধ্য হচ্ছেন। পরে আবার পোশাক বদলে তাদেরকে কাজে যেতে হচ্ছে," বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবিষয়ে তিনি সব স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একটি সার্কুলার পাঠিয়েছেন যেখানে বলা হয়েছে পিতামাতারা কী পরে স্কুলে আসবেন সেবিষয়ে স্কুলের বলার কিছু নেই।

তিনি বলেন, সব মা-ই জানেন কী কাপড় পরে স্কুলে যেতে হয় বা হয় না।

Image caption আলোচিত পোস্টার- কি পরা যাবে আর কি পরা যাবে না

রাজধানী কলম্বোর সেন্ট জোসেফ কলেজে গত সপ্তাহে ড্রেসকোডের পোস্টারটি লাগানো হয়েছিলো।

সেখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিহিত ১৬ জন নারীর ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এর কোনটার পাশে টিক চিহ্ন দেওয়া আবার কোনটার পাশে ক্রস বা কাটা চিহ্ন।

আরো একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্কুল সেন্ট পিটার্স কলেজেও গেটের সামনে প্রায় একই ধরনের ড্রেস-কোড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।

"এটা ছেলেদের স্কুল। ফলে মহিলাদের বোঝা দরকার কি তাদের পরা উচিত আর কি পরা উচিত নয়," বলেন স্কুলের একজন কর্মকর্তা।

এরপর সোশাল মিডিয়ায় এর তীব্র সমালোচনা হয়।

ফেসবুকে একজন লিখেছেন, "তারা কি বুঝতে পারে না যে আমরা একটা গরম আবহাওয়ার দেশে বাস করি। তাহলে শিক্ষার্থীদের পিতার জন্যে ড্রেস-কোড কোথায়?"

সম্পর্কিত বিষয়

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য