বিজ্ঞানের আসর
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে ঘোড়াও

ঘোড়াও মানুষকে বুঝতে পারে এবং সে কি চায় সেটাও সে মানুষকে জানাতে পারে- বলছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীতে অনেক প্রাণী আছে যারা মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে পারে।

অর্থাৎ তারা মানুষকে বুঝতে পারে এবং তারা কি বলছে সেটাও তারা মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করতে পারে।

এই গ্রুপে এখন যোগ দিয়েছে ঘোড়াও।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলছেন, এই প্রাণীটিও মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে পারে। আর এই কাজটি তারা করে বিভিন্ন প্রতীকের দিকে ইশারা করার মাধ্যমে।

এই পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

এসব ঘোড়াকে বলা হয়েছে তারা যদি গায়ে কম্বল পড়তে চায় তাহলে তাদের মুখে পড়ানো ঠুলি দিয়ে একটি বোর্ড স্পর্শ করে দেখাতে।

কোন জিনিসের দিকে ইঙ্গিত করার মাধ্যমে আরো যেসব প্রাণী মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে পারে তাদের মধ্যে রয়েছে গরিলা, শিম্পাঞ্জি ও বানর জাতীয় প্রাণী এবং ডলফিন।

নরওয়ের পশুরোগ বিষয়ক একটি ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী ড. সেসিলি মেডেল এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলছেন, এই গবেষণায় ঘোড়ার কাছে কিভাবে জানতে চাওয়া যায় যে সে কম্বল পড়তে চায় কীনা - তার একটি উপায় খুঁজে বের করা।

ছবির কপিরাইট Thinkstock
Image caption বিভিন্ন প্রজাতির ঘোড়ার ওপর এই গবেষণা চালানো হয়

নরওয়ের মতো নরডিক দেশগুলোতে সারা বছরেই ঘোড়ার গায়ে কম্বল পড়ানো থাকে।

এই পরীক্ষার বিষয়ে বিজ্ঞানী ড. সেসিলি মেডেল বলেছেন, "ঘোড়া কিভাবে অনুধাবন করে সেটা বোঝার জন্যে আমরা এই পরীক্ষাটি চালিয়েছি। দেখার চেষ্টা করেছি এই প্রাণীটির শেখার ক্ষমতা কি ধরনের, কি ধরনের জিনিস সে শিখতে পারে এবং ঘোড়া কিভাবে চিন্তা করে।"

"প্রায়শই মনে করা হয় যে ঘোড়া খুব বেশি বুদ্ধিমান প্রাণী নয়। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে তারা মানুষের সাথে ভালোভাবেই কমিউনিকেট করতে পারে। এবং তারা কি চায় সেটা তারা বোঝাতে পারে," বলেন তিনি।

এই গবেষণায় বিভিন্ন প্রজাতির ২৩টি ঘোড়ার আচরণ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।

প্রশিক্ষকের মাধ্যমে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরেই এসব পরীক্ষা চালানো হয়।

ঘোড়াগুলোকে প্রথমে শেখানো হয়েছে প্রাচীরের ওপর টাঙানো একটি বোর্ডে কিভাবে তাদের মুখে পরানো ঠুলির মাধ্যমে স্পর্শ করতে হবে।

তারপর তাদেরকে শেখানো হয়েছে বোর্ডে যেসব প্রতীক আছে সেগুলোর একটার সাথে আরেকটার তফাতকে কিভাবে প্রকাশ করতে হবে। যেমন কম্বল পড়তে চাইলে আড়াআড়িভাবে আঁকা রেখা স্পর্শ করা, কম্বল পড়তে না চাইলে খাড়া করে আঁকা রেখা স্পর্শ করা আর কোনটাই করতে না চাইলে যে জায়গাটায় কোন রেখা আঁকা নেই সেই জায়গাটি স্পর্শ করা।

আর সবশেষে শেখানো হয় নির্দিষ্ট কোন কাজের সাথে বিশেষ একটি প্রতীককে বেছে নিতে।

প্রশিক্ষণ শেষে দেখা গেছে, খুব বেশি ঠাণ্ডা বা গরম লাগলে ওই ঘোড়াগুলো সেটা আলাদা আলাদাভাবে বোঝাতে পারছে। অর্থাৎ তখন বলতে পারছে তারা কি গায়ে কম্বল পড়তে চায় কি চায় না।

Image caption ঘোড়ার ওপর এই গবেষণা চালানো হয় নরওয়েতে

গবেষকরা বলছেন, যখন খুব বৃষ্টি হচ্ছে বা জোরে বাতাস বইছে অথবা খুব ঠাণ্ডা পড়েছে- এরকম আবহাওয়াতেই ঘোড়াগুলো কম্বল পড়তে চেয়েছে।

কিন্তু যখন খুব গরম পড়েছে তখন তারা কম্বল ছাড়াই বাইরে হেঁটে গেছে।

এথেকে বোঝা যায়, নিজেদের প্রয়োজন ও ইচ্ছা অনুসারেই এসব ঘোড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারছে এবং সেটা প্রকাশ করছে।

এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে মাত্র দুই সপ্তাহ। আর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

গবেষকরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এখন ঘোড়াকে আরো অনেক প্রশ্ন করতে পারেন। এবং এই গবেষণাকে পশু-প্রাণীর কল্যাণেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মহাসমুদ্রের উষ্ণতা

মহাসমুদ্রের পানি উষ্ণ হয়ে যাওয়ার ওপর একটি গবেষণায় চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, এর ফলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক রকমের প্রভাব পড়ছে। যে ধরনের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়েছে সেগুলোকেও গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়নি, বলছেন বিজ্ঞানীরা।

Image caption মহাসমুদ্রের পানির উষ্ণতা বাড়ছে

সারা বিশ্বের ১২টি দেশের ৮০ জনের মতো বিজ্ঞানীদের একটি দল এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

এই গবেষণায় তারা বলেছেন, মহাসাগরের পানি গরম হয়ে যাওয়ার কারণে পানিতে যেসব জীবাণু বা প্ল্যাঙ্কটন আছে, সেসবসহ জেলিফিশ, কচ্ছপ, সমুদ্রের পাখি - এসব এক জায়গা থেকে অনেক জায়গার দিকে সরে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এর ফলে সমুদ্রে মৎস্য প্রজাতির বর্তমান স্থিতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা আরো সতর্ক করে দিয়েছেন যে এর ফলে উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোতে নানা ধরনের অসুখ বিসুখ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছড়িয়ে পড়তে পারে নানা রকমের ক্ষতিকর জীবাণু।

এসব নিয়েই শুনুন সমুদ্র বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার।

সানগ্লাসে ক্যামেরা

বার্তা আদান প্রদানের একটি অ্যাপ - স্ন্যাপচ্যাট। তরুণদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

কোম্পানিটি এই প্রথম তাদের একটি গেজেট বাজারে ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছে।

ছবির কপিরাইট SNAP
Image caption এই ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করা যাবে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও

এটি একটি সানগ্লাস- তাতে ক্যামেরা বসানো। এবছরেই এটি বাজারে আসবে।

কোম্পানি বলছে, স্পেকটাকেলস নামের এই সানগ্লাসে বসানো ছোট্ট ক্যামেরার সাহায্যে তিরিশ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করা যাবে। যা সরাসরি তাদের অ্যাপে ডাওনলোড করার মাধ্যমে অন্যান্যদের সাথেও শেয়ার করতে পারবে।

বলা হচ্ছে যে এর ফলে মানুষ খুব সহজেই তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে পারবেন।

এই যন্ত্রটিতে যে ব্যাটারি বসানো থাকবে সেটির চার্জ থাকবে একদিনের মতো।

আর যখন কোন কিছু রেকর্ড করা হবে তখন এর সামনের দিকে জ্বলে ওঠা আলো থেকেই আশেপাশের লোকজন বুঝতে পারবেন যে এই সানগ্লাসে কিছু রেকর্ড করা হচ্ছে।

তবে এই গ্লাসটি কিভাবে কাজ করবে সেবিষেয় স্ন্যাপচ্যাট থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান।