টাম্পাকোর অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption টাম্পাকোর অগ্নিকান্ড

বাংলাদেশে গাজীপুরের টঙ্গিতে টাম্পাকো ফয়েল কারখানার অগ্নি দুর্ঘটনায় প্রেক্ষিতে করা এক রিটের পর দেয়া আদেশে কারখানাটি এবং মালিকের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

হতাহত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

টঙ্গির টাম্পাকো কারখানায় দূর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩৯ জনের মৃতদেহ। নিঁখোজ রয়েছেন আরো কয়েজন।

বড় সংখ্যায় শ্রমিকের এই মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনায় আবারো আলোচনায় এসেছে দূর্ঘটনায় শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি।

শ্রম গবেষণা সংস্থা বিলসের সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শ্রমিকদের যে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে তাকে দূর্বল বলাও সমীচিন নয়।

"বলা উচিত যে কোন ব্যবস্থাই বিদ্যমান নেই, একটি খয়রাতি ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে। আইনে বলা হচ্ছে যে, যদি কোন দূর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে তাহলে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে।"

ছবির কপিরাইট FARJANA KHAN GODHULY
Image caption বাংলাদেশ হাইকোর্ট

মি. আহমেদ বলেন, মারাত্মক দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা মামলা করতে পারেন। কিন্তু সেটিও একটি জটিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

"ছোট ঘটনার ক্ষেত্রে আইনে যেটুকু আছে সেটুকুও পায় না। নির্মাণ শিল্পেতো শুধু লাশটা বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া, মিলাদ পড়ার জন্য টাকা দেয়া এমন ঘটনাও আছে"। বলেন মি. আহমেদ।

বড় কিছু দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে বা সরকারীভাবে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয়েছে গার্মেন্টস খাতে, বিশেষ করে রানা প্লাজা দূর্ঘটনার পর। যেখানে আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠাণও ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল।

কিন্তু সার্বিকভাবে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আইনী কাঠামোর মধ্যে আসেনি।

রানা প্লাজায় শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য গঠিত একটি উপকমিটির প্রধান ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, তারা তখন শ্রমিকদের জীবদ্দশায় তাদের আয় কি হতে পারতো সেটি বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু মারাত্মক দূর্ঘটনার ক্ষেত্রেও আইনীভাবে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাটা শ্রমিকদের পক্ষে কঠিন।

"রংফুল অ্যাক্ট বা ক্রিমিনাল নেগলিজেন্সের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ কি হবে সেটা নির্ধারণ করে আদালত। তারপর সেটা দিতে হয়। কিন্তু যেহেতু শ্রমিকদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বা এস্টিমেট দেয়ার আইন নেই সেজন্যে এখানে আসলে কিছুই হয় না"।

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের আইন সংস্কারের বিষয়ে অধ্যাপক আকাশ বলেন, "এখন পার্লামেন্টে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সংখ্যায় অনেক বেশি। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গার্মেন্টস মালিক এবং অন্যান্য মালিক যোগ করলে প্রায় অর্ধেকের মতো। সুতরাং মালিকরা যদি রাজী না হন বা এনলাইনটেন্ড মালিক না হন তাহলে এটা সরকার করবে না"।

রানা প্লাজা ধসের পর সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও-র উপস্থিতিতে মালিক এবং শ্রমিকদের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছিল, যেখানে তারা ক্ষতিপূরণের একটি জাতীয় মাণদণ্ড তৈরী করার অঙ্গিকার করেছিল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption টাম্পাকোর অগ্নিদগ্ধ ভবন থেকে সোমবারও মৃতদেহ পাওয়া গেছে

তবে সরকার বলছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এখন সেটি তৈরি করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন।

"আইএলও যে ফর্মূলা অনুযায়ী এটা করে আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কোন মালিকের পক্ষেই এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না দেখে এধরণের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি না"। বলেন শ্রম সচিব মিকাইল শিপার।

তিনি বলেন, আইনী কাঠামোর বাইরেও তারা তহবিলের মাধ্যমে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করছেন। "আইনে যদিও পরিমাণটা কম, আমরা সেটা বাড়ানোর চিন্তা এখনো পর্যন্ত করিনি। তবে শ্রমিক কল্যাণের যেসব তহবিল আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা সেটি বাড়ানোর চেষ্টা করছি"।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারনের পাশাপাশি প্রতিবার দূর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়।

মি. শিপার বলছেন, তারা গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের ডাটাবেস তৈরির একটি কার্যক্রম তারা এরই মধ্যে নিয়েছেন। তবে অন্যান্য খাতে এখনো এটি করা হয়নি।

শ্রমিকদের একটি ডাটাবেস তৈরি হলে ক্ষতিপূরণ নিয়েও জটিলতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত বিষয়