ছেলের খোঁজে দিন কাটে ধ্বংসস্তূপের সামনে

ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption টাম্পাকোর অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে

বাংলাদেশের টঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত টাম্পাকো কারখানায় ১৬দিন পরেও সোমবার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৩৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলো।

এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আটজন।

এদিকে টাম্পাকো কারখানার মালিকের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

নিখোঁজদের একজন ২২বছর বয়সী রিয়াদ হোসেন-তিনি কারখানাটিতে হেলপারের কাজ করতেন। তার বাবা মোহাম্মদ আবু তাহের বিবিসিকে বলছিলেন, তার সারা দিন কাটে ধ্বংস স্তূপের সামনে বসে।

তিনি বলেন, ''আমার ছেলে সেদিন রাতের ডিউটি করার জন্য কারখানায় গিয়েছিল। এরপর থেকে গত ১৭দিন ধরেই প্রতিদিন সকালে যাই, সন্ধ্যায় আসি। ছেলের আশায় আশায় টাম্পাকোর সামনে বসে থাকি।''

ডিউটি যাবার আগে ছেলে রিয়াদ হোসেন টিফিন ক্যারিয়ার হাতে বাবাকে বলে যান, বাবা আমি ডিউটিতে গেলাম। এটাই বাবা-ছেলের শেষ আলাপ।

আবু তাহের বলছেন, ''সেই যে ডিউটিতে গেলো, আজ পর্যন্ত ছেলে আর ফিরে এলো না। এখন প্রতিদিন আশায় আশায় বসে থাকি, ছেলেটার লাশ না হোক একটা হাড্ডিও আল্লাহ যদি মিলিয়ে দিতো, তাহলেও মনকে সাত্বনা দিতে পারতাম।''

আগুন লাগার পর, কারখানা, ঢাকা, উত্তরা, টঙ্গির সব হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেছেন আবু তাহের। কিন্তু কোথাও তার ছেলের খোঁজ পাননি। এরপর থেকে প্রতিদিন এসে কারখানার সামনে বসে থাকেন।

উদ্ধারকারীরা তাকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেসব অসনাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে ডিএনএ টেস্টের জন্য তাদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ''তিন ছেলের মধ্যে এই ছেলেটাই পরিবারের বড় সহায় ছিলো। এ ঘটনা পর তাদের পুরো পরিবারই মুচড়ে পড়েছে।''