মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম টেলিভিশন বিতর্কেই আগুনের ফুলকি ছড়ালেন হিলারি-ট্রাম্প

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে মঙ্গলবার অংশ নেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক পরস্পরকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বাক্যবাণ চালিয়েছেন দুই প্রধান প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নব্বই মিনিটের ওই বিতর্কে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, কর, বর্ণবাদ আর নিরাপত্তা ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই প্রার্থী পরস্পরকে লক্ষ্য করে বরং কাদা ছোড়ার চেষ্টাই বেশি করেছেন ।

দুই প্রার্থী পরস্পরের বক্তব্যের মাঝেই অন্যজনকে থামিয়ে পাল্টা জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিতর্ক নির্ধারিত বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণেও রূপ নেয়।

এই বিতর্কটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক হিসাবেও মনে করা হচ্ছে।

হিলারি ক্লিনটনের প্রতি উপহাস করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হবার যথেষ্ট ধৈর্য তাঁর নেই। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন মি. ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আয়করের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনেন।

পাল্টা জবাব হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ৩৩ হাজার ইমেইল তিনি প্রকাশ করলে তিনিও তাঁর আয়কর বিবরণী প্রকাশ করবেন।

হিলারি ক্লিনটন বলেন, তিনি তাঁর ওই ভুলের কোন অজুহাত দিতে চাননা এবং সেই কাজের দায়িত্ব তিনি বহন করেন।

Image caption মার্কিন নির্বাচনে প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক নিয়ে টুইটারে ছিল ব্যাপক আগ্রহ

হিলারি ক্লিনটনকে ব্যাঙ্গ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকেই আইসিসের (ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। পাল্টা উত্তরে হিলারি ক্লিনটন বলেন, আপনি তো মেয়েদের শুকর, অলস আর কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ আনেন মিসেস ক্লিনটন।

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করে দেয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের জের টেনে হিলারি ক্লিনটন বলেন, আমেরিকায় হ্যাকিং করার জন্যে প্রকাশ্যে পুতিনকে তিনি যে আহবান জানিয়েছেন, সেটা দেখে আমি হতবাক হয়েছি। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসাবে যোগ্য নন।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দেখা বিতর্ক অনুষ্ঠান বলে ধারণা করা হচ্ছে। সারাবিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেছেন।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় এই বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্ক উপস্থাপনা করেন এনবিসি টিভির লেস্টর হল্ট।

৮ই নভেম্বর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার আগে এই দুই প্রধান প্রার্থী আরো দুইটি টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবেন।