যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী বিতর্কে হিলারি ও ট্রাম্পের কাদা ছোঁড়াছুড়ি

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হিলারি ক্লিন্টন ও ডনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটন প্রথম মুখোমুখি টিভি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন।

তাদের ৯০ মিনিটের বাকযুদ্ধে, নীতির চেয়ে পরস্পরের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কটাক্ষ ও আক্রমণ করেছেন দু'জনেই।

ডনাল্ড ট্রাম্প বলার চেষ্টা করেছেন, মিসেস ক্লিনটন, তার ভাষায় "পঁচে যাওয়া" রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অংশ।

অন্যদিকে, হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, মি. ট্রাম্পের মত মানুষের হাতে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত তুলে দেওয়া ভীষণ বিপজ্জনক।

দুই ক্যাম্প থেকেই এই বিতর্কে বিজয় দাবি করা হচ্ছে।

এরকম একটা টেলিভিশন রিয়েলিটি শো দেখার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কমই হয়েছে। একদিকে, সাবেক ফার্স্ট লেডি, তুখোড় আইনজীবী হিসেবে যার নামডাক ছিল। অন্যদিকে, ম্যানহাটনের এক প্রপার্টি টাইকুন, যার খ্যাতি মূলত সেলসম্যান হিসেবে।

Image caption হিলারি ক্লিন্টন ও ডনাল্ড ট্রাম্প - কে কোথায় দাঁড়িয়ে

প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের টেলিভিশন বিতর্ক যে এতোটা আক্রমণাত্মক এবং ব্যক্তিগত লড়াই হয়ে উঠতে পারে, সেটা এই বিতর্ক না দেখলে হয়তো বিশ্বাস হতো না।

হিলারি ক্লিনটন ডনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বলেছেন, তিনি তার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করেন নি।

হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, "আমি এটা বিশ্বাস করার কোন কারণ দেখি না যে তিনি কখনো তার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করবেন। কারণ তিনি কিছু একটা গোপন করছেন। আমরা অনুমান করার চেষ্টাই শুধু করে যাব, তিনি আসলে কি গোপন করছেন।"

এর জবাবে ডনাল্ড ট্রাম্পও পাল্টা আক্রমণে যান হিলারি ক্লিনটনের প্রাইভেট ইমেল সার্ভার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে হিলারি এই কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।

ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "এটা কেবল ভুল নয়, তার চাইতেও বড় কিছু। এই ভুল ইচ্ছাকৃত। পঞ্চম সংশোধনীর সুযোগ নিয়ে আপনার কর্মীরা নিজেদের বিচারের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। এটা খুবই অবমাননাকর।"

বিতর্ক যেন এরপর আরও বেশি ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে গড়ালো।

ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশ্ন তুললেন প্রেসিডেন্ট হবার মতো স্ট্যামিনা এবং মেজাজ হিলারি ক্লিনটনের আদৌ আছে কিনা।

তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনাকে বহু ভিন্ন ধরনের কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আমার মনে হয় না হিলারির সেই স্ট্যামিনা আছে।"

এই ব্যক্তিগত আক্রমণের উত্তরে হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে তার ব্যস্ত সময়ের রেকর্ড তুলে ধরেন।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption সারা বিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেছেন।

তিনি বলেছেন, "আমার স্ট্যামিনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে বিশ্বের ১১২টা দেশ ঘুরে আসেন,শান্তি চুক্তি করে দেখান, অন্য দেশের ভিন্নমতাবলম্বীদের মুক্ত করে আনুন, কিংবা কংগ্রেসের সামনে ১১ ঘণ্টা ধরে শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়ে আসুন। তারপর আমার স্ট্যামিনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।"

হিলারি ক্লিনটনকে ব্যঙ্গ করে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকেই আইসিসের (ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।"

পাল্টা উত্তরে হিলারি ক্লিনটন বলেন, "আপনি তো মেয়েদের শুকর, অলস আর কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।"

ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ আনেন মিসেস ক্লিনটন।

এসব ব্যক্তিগত ইস্যুর বাইরে মার্কিন অর্থনীতি, বিশ্ব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়েও তারা তর্কে লিপ্ত হন।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দেখা বিতর্ক অনুষ্ঠান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারা বিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেছেন।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় এই বিতর্ক শুরু হয়।

বিতর্ক উপস্থাপনা করেন এনবিসি টিভির লেস্টর হল্ট।

সম্পর্কিত বিষয়