তুরস্কে অভ্যুত্থানের পর এরদোয়ানের শুদ্ধি অভিযানে সমাজে ওলটপালট

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption শিক্ষকদের বরখাস্ত করার প্রতিবাদে আঙ্কারায় বিক্ষোভ

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর ইস্তাম্বুলের স্বনামধন্য ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক খুলে নেওয়া হয়েছে।

বন্ধ মূল ফটকের পাশে প্রতিদিনই বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তারা দেখতে আসেন অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পাঠানো হলো।

তুরস্কের জুলাইয়ের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর ফাতিহ সহ ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য -- এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে আমেরিকা প্রবাসী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের সম্পর্ক রয়েছে।

শিক্ষা বিস্তারের আন্দোলনে তুরস্ক সহ বিশ্বর ১৪০টি দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন মি গুলেন। এখন তার সাথে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলেই যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর খড়গ নেমে আসছে তুরস্কে।

গত তিনমাসে এক লাখেরও বেশি লোককে হয় বরখাস্ত না হয় চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। আরো এক লাখ লোককে হয় আটক না হয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এমনকি তুরস্কের সবচেয়ে বিখ্যাত বাকলাভা (ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি) শেফকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আধুনিক কোনো রাষ্ট্রে এ ধরণের শুদ্ধি অভিযানের নজির বিরল।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption এরদোয়ান সমর্থকদের মিছিল। ব্যানারে লেখা -- "বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ফেতুল্লার সন্ত্রাসী সংঠনকে তাড়াতে হবে।"

কালো তালিকা

ফাতিহ ইউনিভার্সিটি যখন বন্ধ করে দেওয়া হয়, নিলুফার দেমিরসিওগলু রসায়ন শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪,০০০ শিক্ষার্থীর অনেককে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নিলুফারের এখনো কোথাও জায়গা হয়নি।

"আমি কখনো ফেতুল্লা গুলেনের সমর্থক ছিলাম না। আমি এখানে ভর্তি হয়েছিলাম কারণ আমি একটি বৃত্তি পেয়েছিলাম এবং ক্যাম্পাস আমার বাড়ি কাছে। সরকারি নেতারাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতেন।"

Image caption পড়া শেষ করতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কায় পড়েছেন নিলুফার

গুলেন সমর্থকের তকমা নিয়ে তার কি ভয় আছে?

নিলুফার শঙ্কিত। "এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভয় পাচ্ছে এখানকার সার্টিফিকেট নিয়ে কোথায় তাদের চাকরি হবে কিনা। এখানকার অনেক সাবেক গ্রাজুয়েটকে বরখাস্ত করা হয়েছে।"

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ক্ষমতাসীন একে পার্টির সমাবেশ

সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করার অজুহাতে যেভাবে গণহারে ধরপাকড় তুরস্কে চলছে, তাতে তুরস্কের বাইরেও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা-বিহীন ভ্রমনের সুবিধের প্রশ্নটি আটকে দিয়েছে ইইউ।

কুর্দিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর "গণহত্যা" নিন্দা করে যে ১১০০ শিক্ষাবিদ একটি ঘোষণায় ই করেছিলেন, তাদেরকে টার্গেট করছে সরকার।

বরখাস্ত হয়েছেন কোচেলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেরিয়া কেসকিন।

"আমরা যা বিশ্বাস করি - গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, ধর্মনিরপেক্ষতা, শান্তি -- গুলেনের চিন্তাভাবনা এগুলোর বিরোধী।"

কিন্তু কুর্দিদের ওপর ঐ ঘোষণায় সই করার পর থেকে তাকে সরানোর ছুতো খুঁজছিল সরকার। "কোনো বিরোধিতাই সরকার সহ্য করছে না।"

Image caption কুর্দিদের সাথে শান্তি স্থাপনের এক ঘোষণায় সই করে বরখাস্ত হয়েছেন প্রফেসর ডেরিয়া কেসকিন

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার এই শুদ্ধি অভিযানকে সমর্থন করে যাচ্ছেন। "সন্ত্রাসী সংগঠনের সহযোগীদের সরিয়ে ফেলতে হবে।"

তবে সরকার মেনে নিচ্ছে কিছু নিরপরাধ মানুষও এই শুধি অভিযানের অযথা শিকার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম ইঙ্গিত দিয়েছেন এরকম অভিযোগের দিকে নজর দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়