ডট বাংলা ডোমেইনের বরাদ্দ পেতে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো

ডট বাংলা ডোমেইনের বরাদ্দ পেতে বাংলাদেশের প্রতীক্ষার অবসান ছবির কপিরাইট RBS
Image caption ডট বাংলা ডোমেইনের বরাদ্দ পেতে বাংলাদেশের প্রতীক্ষার অবসান

ইন্টারনেট জগতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডোমেইন (ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেম-আইডিএন) ডট বাংলা (.বাংলা) ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ। ইন্টারনেট কর্পোরেশন অব এ্যাসাইন্ড নেমস এ্যান্ড নাম্বার' (আইসিএএনএন)- বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে এটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেটে একটি রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে এই ডোমেইন। এটি বাংলা ভাষায় ওয়েব ঠিকানা বোঝাতে পারবে। তবে এর আগে ২০১২ সালেও এই ডোমেনটি ব্যবহারের অনুমতি পেলে পরে তা সক্রিয় করতে পারেনি বাংলাদেশ।

কী সুবিধা হবে?:

আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলছিলেন ইন্টারনেটে "আমরা বাংলা ব্যবহার করি কিন্তু যে ডোমেইন নেমটা থাকে সেটা রোমান হরফ ব্যবহার করতে হয়। আমরা বাংলা হরফ ব্যবহার করতে পারি না। আমরা যখন ডট বাংলার যুগে প্রবেশ করলাম তখন বাংলায় ডোমেইন নাম লিখতে পারবো এটাই বড় সুবিধা"।

ইন্টারনেট ব্যবহার করছে বাংলাদেশ প্রায় দুদশক হলো। ২০১০ সালের ২১ শে ফেব্রয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ডোমেইন এর বিষয়ে আবেদন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এটি পরের বছর অনুমোদিত হয়েছিল। পরে টেলিকম বিভাগের কে এটার দায়িত্ব পালন করবে সেটা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকা এবং এটা ব্যবহার করার জন্য যে অবকাঠামো দরকার ছিল সেটা ছিল না । যার ফলে অনেক টা সময় নষ্ট হয়েছে।

মি. জব্বার বলছিলেন "বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর শতকরা ৯৬ ভাগের একমাত্র ভাষা হচ্ছে বাংলা। অতএব আমি যখন এই জনগোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই তখন আমাকে বাংলা ভাষাতেই করতে হবে। পৃথিবীতে কিন্তু এখন এই প্রবণতাটা কাজ করে যে মাতৃভাষা দিয়ে তার সমস্ত যোগাযোগ করা। চীন, জাপান, কোরিয়া বা ইউরোপের দেশ গুলোতে এমনটা হয়। আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়েছে যিনি বাংলা পড়তে পারেন তিনিই ডোমেইন নামটা পড়তে পারবেন"।

ভারত ও সিয়েরা লিওন একি ডোমেইন পেতে আবেদন করেছিলো আবার বাংলাদেশ ২০১২ সালে একবার অনুমতি পেয়েও সেটি সক্রিয় করতে পারেনি।