ভারতে ডেটিংয়ের জন্য জায়গা করে দিচ্ছে ‘স্টে-আঙ্কল’

ডেটিং ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতে বিয়ের আগে ঘনিষ্ঠ হওয়া রীতিমত সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ একটি রীতি।

রক্ষণশীল ভারতে একটু ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়া যে কতটা কঠিন তা প্রেমিক মাত্রই জানেন।

দেশটিতে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে জড়ানো বা উন্মুক্ত স্থানে একটু ঘনিষ্ঠ হওয়াকে এখনও সহজ চোখে দেখা হয় না।

ফলে অনেকেই ডেটিং করার জন্য বিকল্প স্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন হোটেলকে।

অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই তরুণী, যিনি ডেটিংয়ের জন্য হোটেলে যান, তিনি বলছেন, "কোন হোটেলে গেলে সেখানকার লোকজন এমনভাবে তাকিয়ে থাকবে যে আপনি খুব অস্বস্তি-বোধ করবেন। অথচ এ বিষয়ে নিজের কাছে বিরক্ত বা অস্বস্তি লাগার কিছু নয় এটা"।

এই তরুণীর মতো কাস্টমারদের সুবিধার জন্য নতুন এক ব্যবসা চালু করেছে একটি কোম্পানি, যেটি অবিবাহিত প্রেমিক যুগলদের নিভৃতে সময় কাটানোর জন্য হোটেল রুমের ব্যবস্থা করে দেয়।

এমন হোটেল যেখানে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও এই প্রেমিক-প্রেমিকাদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে।

অবশ্য 'স্টে-আঙ্কল' নামের এই কোম্পানিটি বলছে কাজটি অবৈধ না হলেও, হোটেলগুলোকে এ ব্যবসার আওতায় আনা সহজ হয়নি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রেমিক-প্রেমিকাদের এই সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ দেয়ার নতুন ব্যবসায়ী উদ্যোগ 'স্টে-আঙ্কল'।

কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা মি. সঞ্চিত বলছেন, "স্টে-আঙ্কলের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় সাত মাস হল। এখনও অনেক ধরনের সমস্যায় আমাদের পড়তে হয়"।

মি. সঞ্চিত বলছেন, সামাজিক নীতি নৈতিকতার কিছু বিষয়ে ভাবনার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে পুলিশ যেভাবে হোটেলে হানা দেয় এবং যুগলদের আটক করে, তাতে হোটেল মালিকেরা ভয় পায়।

গত বছর মুম্বাই পুলিশ সিটি হোটেল থেকে কুড়ি জনেরও বেশি দম্পতিকে আটক করে।

এখনও প্রায়ই শোনা যায় যে হোটেলগুলোতে গিয়ে দম্পতিদেরকে হয়রানি করছে পুলিশ।

আর এটাই এখনও হোটেল মালিক ও প্রেমিক-প্রেমিকাদের উদ্বেগের বিষয়।

কিন্তু লাভজনক হওয়ায় উদ্বেগ সত্ত্বেও এ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে হোটেল ব্যবসায়ীরা।

মুম্বাইয়ের কার্ল রেসিডেন্সি নামে একটি হোটেলের ম্যানেজার বলছেন, "আমাদের হোটেলে আমরা যুগলদের জন্য ব্যবস্থা করছি- আমরা করবো। এটা যে ভালো কাজ তাও আমরা মানি, আর এমন ব্যবস্থা করে ব্যবসাতেও আমাদের লাভ হচ্ছে"।

সম্পর্কিত বিষয়