প্রথম বাঙালী কার্ডিনাল হলেন ঢাকার আর্চবিশপ

ছবির কপিরাইট Bangladesh Christian Association
Image caption ঢাকার আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি'রোজারিও

বাংলাদেশে রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু ঢাকার আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি'রোজারিওকে কার্ডিনাল পদবীর মর্যাদা দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

রবিবার ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যে ১৭ জন কার্ডিনালের নাম ঘোষণা করেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্যাট্রিক ডি'রোজারিও-র নাম রয়েছে।

মি: ডি'রোজারিও হচ্ছেন প্রথম বাঙালী যিনি কার্ডিনাল হলেন। সাধারণত পোপের খুবই ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্য হন কার্ডিনালরা । পৃথিবীজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের চার্চগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্ডিনালরা পোপকে সহায়তা করেন।

নতুন ঘোষিত ১৭ জন কার্ডিনালসহ বর্তমানে ভ্যাটিকানে কার্ডিনালের সংখ্যা ২০০'র মতো। আগামী ২১শে নভেম্বর ভ্যাটিকানে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কার্ডিনালদের দায়িত্ব দেয়া হবে।

ভ্যাটিকানের নিয়ম অনুযায়ী, কোন একটি দেশ থেকে কার্ডিনাল নির্বাচিত হতে হলে সে দেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা এবং চার্চের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়।

৭৩-বছর বয়সী প্যাট্রিক ডি'রোজারিও জন্ম বাংলাদেশের বরিশাল জেলার পাদ্রি শিবপুর এলাকায়। ১৯৭২ সালে তিনি ফাদার বা যাজক হয়েছিলেন। যাজক হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর মি: ডি'রোজারিও ১৯৯০ সালে বিশপ নির্বাচিত হন। বিশপ নির্বাচিত হবার পর তিনি রাজশাহীতে ধর্ম প্রদেশের দায়িত্ব নেন।

বাংলাদেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের এ ধরনের সাতটি ধর্ম প্রদেশ রয়েছে। প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের আওতায় বেশ কিছু গির্জা থাকে। রাজশাহীর পর মি: ডি'রোজারিও ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১০ সালে প্যাট্রিক ডি'রোজারিও ঢাকার আর্চবিশপ হিসেবে দায়িত্ব পান। আর্চবিশপ হচ্ছেন বাংলাদেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু।

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও জানান, কোন বাঙালী এর আগে কখনো কার্ডিনাল নির্বাচিত হতে পারেননি।

তিনি বলেন, বর্তমান পোপ ফ্রান্সিস শুধু ইউরোপ বা আমেরিকা নয়, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোকেও যে গুরুত্ব দিচ্ছেন, বাংলাদেশ থেকে কার্ডিনাল বাছাই করা তার একটি উদাহরণ।

মি: রোজারিও বলেন, "এটা বর্তমান পোপের দূরদর্শী চিন্তা। এটা আমাদের জন্য একটা অত্যন্ত মর্যাদা, আনন্দ ও গৌরবের বিষয়।"

বাংলাদেশের আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি'রোজারিওকে কার্ডিনাল হিসেবে ঘোষণার সপ্তাহ খানেক আগে পোপ ফ্রান্সিস জানিয়েছিলেন, সামনের বছর খুব সম্ভবত তিনি বাংলাদেশ সফরে আসবেন।