কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে ৫০ ঘন্টার বন্দুকযুদ্ধ

Image caption কাশ্মীরে উত্তেজনা চলছে কয়েক সপ্তাহ ধরে।

ভারত শাসিত কাশ্মীরের পাম্পোরে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এক সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত একজন 'জঙ্গি' মারা গেছেন বলে দাবী করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রায় ৫০ ঘণ্টা ধরে বন্দুকযুদ্ধের পরে কিছুক্ষণ আগে ওই ভবনটিতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশ করেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই যদিও বলছে যে একজন 'জঙ্গির' মৃত্যু হয়েছে, ভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভি সেনাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে একজন 'জঙ্গি' গতকাল এবং অন্যজন আজ সকালে, অর্থাৎ সব মিলিয়ে দু'জন জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

এই সংঘর্ষে একজন সেনাসদস্যও আহত হয়েছেন।

জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পাম্পোরের একটি সরকারী শিক্ষা কেন্দ্রে ওই সশস্ত্র 'জঙ্গিরা' ঢুকে পরে সোমবার ভোরে।

কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক আর সেনাবাহিনীর বিশেষ ফোর্স সাত তলা ওই বাড়িটি তখনই ঘিরে ফেলেছিল।

পঞ্চাশটিরও বেশী রকেট, প্রচুর গ্রেনেড আর মেশিনগানের গুলি চালাতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

স্থানীয় সংবাদদাতারা বলছেন, বুধবার সকালে ঘটনাস্থলের ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও গুলি আর গ্রেনেড বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে।

রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক (সমন্বয়) এস পি ভৈদ হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকাকে জানিয়েছেন, "এখন আর ভবনটি থেকে গুলি আসছে না। বাহিনীর সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেছেন, প্রতিটি ঘর খুঁজে দেখা হচ্ছে।"

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতেই গত ফেব্রুয়ারি মাসেও একবার সশস্ত্র জঙ্গিরা প্রবেশ করেছিল। সেই সংঘর্ষে তিনজন সেনাসদস্য, একজন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। তিনজন জঙ্গিও ঐ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

পাম্পোরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবারের হামলার সময়ে কোনও ক্লাস হচ্ছিল না বা কোনও শিক্ষার্থীও সেখানে ছিলেন না।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ সেনাবাহিনী রয়েছে ভারতের।

গত তিনমাস ধরে ভারত শাসিত কাশ্মীরে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলছে, তার প্রেক্ষিতে সেখানকার সব স্কুল কলেজের মতোই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ রয়েছে।

জুলাই মাসের গোড়ায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠীর কমান্ডার বুরহান ওয়ানির নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ভারত শাসিত কাশ্মীর।

কোথাও প্রতিবাদ জানাতে পথে নামা মানুষের ওপরে ছররা গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী, আবার স্থানীয় মানুষেরাও সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর পাথর ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত দু'জন পুলিশ কর্মী ও ৮২ জন বেসামরিক ব্যক্তি এইসব সংঘর্ষে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, যাঁদের অনেকের দেহেই ঢুকেছে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া ছররা। দৃষ্টিশক্তিও হারিয়েছেন বহু মানুষ।

গত ৯৬ দিন ধরে ওই রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ, বেশীরভাগ দোকান-বাজার, পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে বুধবারও রাজধানী শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় কার্ফু জারী রয়েছে, আর স্বাভাবিক চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে আরও কিছু এলাকায়।