মসুল পুনর্দখলের লড়াই কতটা সহজ হবে?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মসুলের দিকে অভিযানে ইরাকি বাহিনী

ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল থেকে ইসলামিক স্টেটকে উৎখাতের অভিযানে ইরাকে বাহিনী বেশ কিছু এলাকার নিংন্ত্রণ দখল করেছে।

এ অভিযানে যোগ দিয়েছে ৩০ হাজার ইরাকি সৈন্য, শিয়া মিলিশিয়া এবং হাজার চারেক কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা। মার্কিন সেনা কর্মকর্তারাও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

পাশাপাশি, মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোও আকাশ থেকে আইএস অবস্থানগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে মূল মসুল শহর দখল যে রক্তাক্ত এবং সময়সাপেক্ষ হবে তা নিয়ে কেউই সন্দেহ করছে না।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মসুলে ইরাকি বাহিনীর অভিযান

মসুলে আট হাজারের মত আইএস যোদ্ধা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে রামাদি, তিকরিত এবং বাইজি শহর পতনের পর সেখানকার আইএস যোদ্ধারাও পালিয়ে মসুলে অবস্থান নিয়েছে।

ইরাকের তেলসমৃদ্ধ নিনেভেহ প্রদেশের এই রাজধানী শহর থেকে দু'বছর আগে সরকারি সৈনদের তাড়িয়ে আইএস তাদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিলো ।

এখান থেকেই ইসলামিক স্টেটের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে এই শহরটি পুনর্দখলের একটি বড় ধরণের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

তবে এ কাজ যে সহজ হবে সেটা কেউ জোর দিয়ে বলছেন না।

মার্কিন এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, মসুল পুনর্দখলের এই অভিযান হবে দুরূহ, এবং এতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে।

অনেকে আশংকা করেনন, পেশমার্গা যোদ্ধারা যদি মসুলে ঢোকে তাহলে একে কেন্দ্র করে প্রতিশোধমুলক হামলা হতে পারে। এটা যাতে না হয় সেজন্য মসুল শহরে সরকারি সৈন্য ছাড়া মিলিশিয়াদের ঢোকা আগে থেকেই নিষিদ্ধ করেছে ইরাকের সরকার।

ইরাকী বাহিনী মসুল শহরে ঢুকে পড়লে তাদের সাথে লড়াই করার জন্য শহরের বাসিন্দাদেরও উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে আই এস।

এই শহরে এখনো বসবাস করছে প্রায় ১৫ লাখ লোক । নানা জাতিগোষ্ঠীর লোকজন এরা - সুন্নি আরব, কুর্দি, তুর্কমেন, আসিরিয়সহ বিভিন্ন ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠী।

ফলে এখানে লড়াই হবে অত্যন্ত জটিল, এমনটাই বলেছেন একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ইরাক সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে মসুল আক্রান্ত হলে লোকজন যাতে পালাতে পারে - সে জন্য কিছু পথ খোলা রাখা হবে। তা ছাড়া শহরের ভেতরে কামানের গোলা বর্ষণ করা হবে না এ আশ্বাসও দেয়া হয়েছে।

মসুলের বাসিন্দাদের জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ত্রাণ সংস্থাগুলো সাবধান করে দিয়েছে যে এই অভিযানে ১০ লাখের মত লোক বাস্তচ্যুত হতে পারে। তাদের জন্য তাঁবু ও রসদপত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি বলেছেন, তার যোদ্ধারা এগিযে যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন মসুল যেন একটি আলেপ্পোতে পরিণত না হয়।