আওয়ামী লীগে কে হবেন শেখ হাসিনার উত্তরসূরী

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগে কে হতে পারেন শেখ হাসিনার উত্তরসূরী?

দলের জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে এখন যে বিরাট কান্ড ঘটছে ঢাকায়, সারাদেশ থেকে এসে জড়ো হয়েছেন যে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা, তাদের জটলাতে কিন্তু এ নিয়ে আলোচনা নেই।

সেখানে আলোচনা মূলত দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা নিয়ে।

গত ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব আছেন শেখ হাসিনা। এর আগে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়া বা দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি তিনি নিজেই তুলেছেন কয়েকবার।

কিন্তু প্রতিবারই দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সমস্বরে এমন কথাই জানিয়েছেন, আজীবন তাঁকেই দলের নেত্রী হিসেবে চান তারা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের অনেককেই জিজ্ঞেস করেছিলাম এর কারণ কি ?

পংকজ সাহা বলেন শেখ হাসিনা যেভাকে দল ও দেশ চালাচ্ছেন তাতে করে যতদিন তিনি কর্মক্ষম আছেন ততদিন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে প্রয়োজন হলে আর শেখ হাসিনা চাইলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে তারা পরবর্তী নেতা মেনে নেবেন।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের এরকম এক কাউন্সিলে যখন নেতা নির্বাচন নিয়ে প্রচন্ড অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিল দলটি, তখন প্রবাসে নির্বাসিত শেখ হাসিনাকেই দলীয় প্রধান নির্বাচন করা হয়।

এরপর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে তিনি দলের হাল ধরলেন। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় ফিরে আসে।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, বাংলাদেশের এই দুটি প্রধান দলের নেতৃত্বই দুটি পরিবারের উত্তরাধিকারের রাজনীতিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption সজীব ওয়াজেদ জয়কে এখনো আওয়ামী লীগে কোন আনুষ্ঠানিক ভূমিকায় দেখা যায় নি।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা মনে করেন, তাদের দলে খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী কে হবেন, সেই প্রশ্ন অনেকটাই মীমাংসিত। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান যদিও এখন লন্ডনে নির্বাসনে, দলে দ্বিতীয় প্রধান গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে তার অবস্থান এখন তর্কাতীত।

কিন্তু আওয়ামী লীগে সজীব ওয়াজেদ জয়কে এখনো সেরকম কোন আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখা যায়নি।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, শেখ হাসিনার পর তাহলে কে আওয়ামী লীগের হাল ধরবেন?

দলের একজন কর্মী দেলোয়ার হোসেনের কাছে এ প্রশ্ন রেখেছিলাম।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, " আল্লাহ যতদিন শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন তিনি আওয়ামী লীগ ও দেশকে পরিচালনা করবেন। তাঁর পর বঙ্গবন্ধু পরিবারে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো মেধাবী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, তাদের থেকেই নেতৃত্ব আসুক।"

এসএম খায়রুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন শেখ হাসিনার পর কে আসবে সময় এলে শেখ হাসিনাই সেটি বিবেচনা করবেন।

নরসিংদীর শিবপুর থেকে সম্মেলনে যোগ দিতে আসা অর্চনা রাণী ঘোষ নতুন কাউকে প্রয়োজন নেই। তবে তিনি যদি তার পরিবারের কাউকে দিতে চান তাহলে কেবল তারা তা মেনে নেবেন।

"আমরা অন্য কাউকে মেনে নিতে পারবোনা। আমরা ওনাকেই চাই। ওনি যদি মনে করেন ওনার পরিবারের নতুন কাউকে দেবেন তাহলে মানতে পারি। কিন্তু আবারো আমরা ওনাকেই চাই"।

ঝিনাইদহ থেকে আসা তরিকুল ইসলাম বলেন দলের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার বিকল্প কোন কিছু চিন্তারই সুযোগ নেই।

আর সভাপতি পদের প্রশ্নে বা এ পদে শেখ হাসিনার বিকল্প কিংবা তার পরে কে নেতৃত্ব দিবেন এমন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামতও প্রায় একই ধরনের।

দলটির বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হানিফ বলছেন দলের জন্য এ মূহুর্তে শেখ হাসিনাই শেষ কথা।

তিনি বলেন দলের সব কর্মী, সমর্থক, নেতা ও কাউন্সিলর চান শেখ হাসিনা আরও অবদান রাখবেন দেশের জন্য আর সেজন্যই বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই।