যে ছবি সামনে রেখে শাসন করা হচ্ছে ভারতের তামিলনাডু রাজ্য

তামিলনাডুতে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জয়াললিতার ছবি। ছবির কপিরাইট PTI
Image caption তামিলনাডুতে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জয়াললিতার ছবি।

তামিলনাডুর গুরতর অসুস্থ মূখ্যমন্ত্রী জয়ারাম জয়াললিতার অনুপস্থিতিতে কিভাবে চলছে সেখানকার সরকার?

গত ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে জয়াললিতা হাসপাতালে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য কেউ দিচ্ছে না।

জয়াললিতার দল এআইডিএমকে জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সব দায়িত্ব তাঁর ডেপুটি ও পি পান্নিরসেলভামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। কিন্ত জয়াললিতাই যে এখনো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি সেটি তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

কিভাবে আসলে হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ জয়াললিতার নামেই এখনো পরিচালিত হচ্ছে তামিলনাডু?

এআইডিএমকের নেতারা একটা সহজ উপায় খুঁজে বের করেছেন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক থেকে শুরু করে সরকারের বা দলের যে কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই সামনে রাখা হচ্ছে জয়াললিতার ছবি।

মিস্টার পান্নিরসেলভাম এর আগেও জয়াললিতার অনুপস্থিতিতে দুবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যখন দুর্নীতির অভিযোগে জয়াললিতা কারাগারে ছিলেন। কিন্তু মিস্টার পান্নিরসেলভাম সবসময় এটা প্রদর্শনে সতর্ক ছিলেন যে, তিনি জয়াললিতার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন না।

মিস্টার পান্নিরসেলভাম কখনো জয়াললিতার চেয়ারে বসেন নি। কারণ তিনি মনে করেন, জয়াললিতাই এখনো ঐ চেয়ারে আছেন।

তবে এবার তিনি তার আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য জয়াললিতার ছবি নিয়ে এসেছেন কেবিনেট মিটিং এ। প্রতিটি বৈঠকে সামনে রাখা হচ্ছে জয়াললিতার ছবি। যেন তিনিই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন।

"আমাদের সংস্কৃতিটাই এরকম। আমরা যখনই যা করি, আমাদের মাননীয় মূখ্যমন্ত্রীর ছবি সামনে রেখেই তা করি। তখন আমরা অনুভব করতে পারি যে তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন। আমাদের মনে হয় তাঁর উপস্থিতিতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি", বলছিলেন দলের মুখপাত্র সারস্বতী।

Image caption তামিলনাডুর কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকেও জয়ললিতার ছবি

তবে এই বিষয়টিকে চাটুকারিতার চুড়ান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জি সত্যমূর্তি।

"এরা যে কথাটা বলার চেষ্টা করছে, তা হলো, তারা সংবিধান অনুসারে নয়, বরং 'আম্মা'র (জয়াললিতা) নামে তাদের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছে।"

তামিলনাডুর প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে বলেছে, এভাবে ছবি সামনে রেখে রাজ্য শাসন দেখে মনে হচ্ছে পুরো রাজ্যের জনগণ থেকে যেন এক ব্যক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দলের মুখপাত্র মানুরাজ সানমুঘম বলেন, রাজ্যের রাজনীতির জন্য এবং দেশের সংবিধানের জন্য এটা অমর্যাদাকর।