বিজ্ঞানের আসর
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মঙ্গলে বিধ্বস্ত হলো ইউরোপের অবতরণ যান

মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে যাতে ভবিষ্যতে খুব সহজে অবতরণ করা যায় সেজন্যে পাঠানো হয়েছিলো স্কিয়াপারেল্লি নামের একটি যান।

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- ইসা এই যানটি পাঠিয়েছে।

ইসার লক্ষ্য হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে আগামী চার পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালে একটি ছয় চাকার রোভার পাঠানো।

তার আগে অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই ইউরোপের এই স্কিয়াপারেল্লি মিশন।

সবকিছুই ঠিকঠাক মতো চলছিলো। কন্ট্রোল রুমে ছিলো উল্লাসও।

কারণ সাত মাস আগে যাত্রা শুরু করে এটি ঢুকে পড়েছিলো মঙ্গলের কক্ষপথেও। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো চূড়ান্ত মুহূর্তে। স্কিয়াপারেল্লি ঠিক যেভাবে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেরকম হয়নি।

১৯শে অক্টোবর এই রোবটটির মঙ্গলে অবতরণ করার কথা ছিলো।

ছবির কপিরাইট NASA
Image caption নাসার স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি

টেলিমেট্রি তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, স্কিয়াপারেল্লি যখন ওপর থেকে মঙ্গলের পৃষ্ঠের দিকে নেমে আসছিলো তখন অনেক আগেই তার সাথে লাগানো প্যারাশুটটি ছুটে গেছে।

এছাড়াও যেসব রকেট এই যানটির গতি কমিয়ে তাকে স্থিতাবস্থায় নিয়ে আসার কথা ছিলো সেগুলোও ঠিকমতো কাজ করেনি।

অনেকেই ধারণা করছেন যে অবতরণ যানটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে খুব দ্রুত গতিতে ও জোরে আছড়ে পড়ে, সেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে এক কিম্বা দুই কিলোমিটার ওপর থেকে ল্যান্ডারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবিতেও এরকমই ধারণা পাওয়া যায়।

তবে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি বা ইসার বিজ্ঞানীরা এখনও ল্যান্ডারটির পরিণতি নিয়ে এধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছাতে রাজি নন।

তবে কন্ট্রোল রুমের মুড খুব একটা ইতিবাচকও নয়।

টেলিমেট্রি থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে বিজ্ঞানীরা এখন সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখছেন। বলা হচ্ছে, তারা স্কিয়াপারেল্লি মিশনে ফোনও করতে পারেন এই অন্ধ আশা নিয়ে যে ল্যান্ডারটি হয়তো ওই রেড প্ল্যানেটের ওপর ঠিকমতোই অবতরণ করেছে।

স্কিয়াপারেল্লি অবতরণ যানটিকে যে মাদারশিপে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিলো সেই ট্রেইস গ্যাস অরবিটারে ওসব তথ্য পাঠানো হয়েছে।

এখান থেকেই ল্যান্ডারটি মঙ্গলে অবতরণের চেষ্টা করেছে।

মঙ্গলের পৃষ্ঠে স্কিয়াপারেল্লির এই অবতরণ নিয়ে শুনুন নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার।

এই মঙ্গল গ্রহে মানুষের অভিযানের শখ বহু দিনেরই। বিজ্ঞানীরাও সেখানে প্রাণের সন্ধানে গবেষণা চালাচ্ছেন। মানুষের পক্ষেও এখনও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে এই দুর্ঘটনা বড়ো ধরনের একটি শিক্ষা হয়ে রইলো।

কিন্তু মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে এটি যে বড় ধরনের একটি আঘাত হয়ে রইলো সেনিয়েও কোন সন্দেহ নেই।

হারিয়ে যাচ্ছে তুষার চিতা

এশিয়ার পার্বত্য এলাকায় শিকারিরা প্রতি বছর কয়েকশো তুষার চিতাকে হত্যা করছে বলে নতুন এক রিপোর্টে বলা হয়েছে।

ধারণা করা হয় যে এই চিতাবাঘের সংখ্যা কমতে কমতে এখন মাত্র চার হাজারে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে চারটি তুষার চিতা মারা পড়ছে। বেশিরভাগেরই মৃত্যু হচ্ছে স্থানীয় লোকজনের হাতে।

ছবির কপিরাইট DAVID LAWSON
Image caption তুষার চিতা

এই বন্যপ্রাণীটির আক্রমণে তাদের গবাদি পশুর মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবেই তারা বিলুপ্ত প্রায় এই প্রাণীটিকে হত্যা করছে।

শুধু তাই নয়, তুষার চিতার চামড়া বেচা-কেনার অবৈধ ব্যবসাও এই প্রাণীটির জন্যে বড়ো রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, সাধারণত ১২টি দেশে এই তুষার চিতা দেখতে পাওয়া যায়।

বিরল এই প্রাণীটির বিচরণ মূলত হিমালায় এবং তিব্বতীয় মালভূমিতে। যেসব দেশে এই প্রাণীটির এখনও অস্তিত্ব রয়েছে সেই দেশগুলো হচ্ছে চীন, ভুটান, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান এবং রাশিয়া।

এই তুষার চিতা সাধারণত বসবাস করে সমুদ্রপৃষ্ঠের ১০০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার উপরে।

চরম ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে এই প্রাণীটির শরীরে রয়েছে মোটা পশম।

শুধু তাই নয়, তাদের শরীরের চেয়ে তিনগুণ ওজনের প্রাণীও তারা অনায়াসে শিকার করতে পারে।

একারণে ওসব এলাকায় বসবাসকারী কৃষকদের পক্ষে গবাদি পশু চড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০০৮ সালের পর থেকে প্রতি বছর ২২১টি থেকে ৪৫০টির মতো তুষার চিতা শিকারিদের হাতে মারা পড়ছে। তবে এই সংখ্যা আরো বেশিও হতে পারে।

"এসব হত্যার জন্যে মানুষের সাথে বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষও বড়ো একটি কারণ। তুষার চিতার হামলায় গবাদি পশুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই প্রাণীটিকে হত্যা করা হচ্ছে।"

বলা হচ্ছে, যতো শিকারের ঘটনা ঘটছে তার ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটছে মাত্র পাঁচটি দেশে- চীন, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ভারত এবং তাজিকিস্তানে। আর এর ২১ শতাংশ ঘটে প্রাণীটির চামড়া ও হাড় বেচা-কেনার অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।

ছবির কপিরাইট Roller Ma Ming
Image caption তুষার চিতার দাঁত

গবেষকরা বলছেন, বড় একটি উদ্বেগের কারণ হচ্ছে এর গোপন ব্যবসা আর সেটা পরিচালিত হয় সোশাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে।

এই প্রাণীটির চামড়া, হাড়, থাবা, দাঁত ইত্যাদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিক্রির জন্যে অনলাইনে আলাদা বাজারও রয়েছে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান