'কাজেও যাবোনা, মায়ের কাছেও যাবোনা, আমি এখানেই থাকতে চাই"

Image caption শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখাচ্ছিলো রুমা

"বাড়িতে গেলে মা আবার ওই বাড়িতে কাজে দেবে। নাইলে অন্য বাসায় দেবে। ওরা অনেক মারধোর করতো। আমি ওই বাড়িতেও যাবোনা,মার কাছেও যাবোনা। এখানেই থাকবো", এগার বছরের কিশোরী রুমা বিবিসিকে ফোনে যখন একথা বলছিলেন তখন তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে।

বাবা মা কোথায় জানতে চাইলে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার রুমার উত্তর ছিলো এমন-"আমার বাবা নাই, মাও নাই, তারা থাকলেও নাই। আমি এখানেই (আশ্রয় কেন্দ্র) থাকবো"।

বরিশালের এই কিশোরী থাকতো তার মা ও সৎ বাবার সাথে।

তার সৎ বাবা যেখানে তাকে কাজে দিয়েছিলো সেখান থেকে শুক্রবার রাতে পালিয়ে আসে রুমা।

পরে কয়েকজনের সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা যশোর রাইটস ও পুলিশের মাধ্যমে তার ঠিকানা হয় আশ্রয় কেন্দ্রে।

ছবির কপিরাইট UNK
Image caption রুমার মতো বহু মেয়েই কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় বাংলাদেশে (ছবিটি প্রতীকি)

যশোর রাইটস এর কর্মকর্তা বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বিবিসিকে বলেন রুমা যেখানে কাজ করতো সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছে।

মেয়েটিকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আশ্রয় কেন্দ্রের ম্যানেজার লাবনী সুলতানা বিবিসিকে বলেন তারা মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজন হলে তার কাউন্সেলিং করানো হবে।

তিনি বলেন পনের দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে রুমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবো।

"এরপর দেখবো কোন কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া যায় কি-না। সে যদি বাড়িতে ফিরতে না চায় সেক্ষেত্রে পরে কি করা যায় সেটি নির্ধারণ করা হবে"।

তিনি বলেন, "তবে মেয়েটি যদি ফিরে না যেতে চায় বা আমরা যদি মনে করি বাড়িতে সে নিরাপদ থাকবেনা তাহলে আমরা সেখানে তাকে দিবোনা"।

পালিয়ে আসার কারণ কি জানতে চাইলে রুমা জানায় পালিয়ে আসার আগের দিনও তাকে মারধোর করা হয়।

"কিছু না করলেই মারতো। একদিন নেট আনতে গেছি আর দেরী হলো। ফিরে আসছি এমন ভাবে মারলো হাত কেটে পাঁচটা সেলাই লাগলো। একদিন বেল দিয়ে বাড়ি দিলো। রক্ত পড়ছিলো তাও মারছিলো"।

রুমা জানায় এখন সে ফিরে গেলে আবারও তাকে ওই বাড়িতেই কাজে দেবে সৎ বাবা ও মা, আর সে কারণেই সে আর মায়ের কাছে ফিরবেনা বলে জানায় রুমা।

এর মধ্যে তার মা এসে তাকে নিতে চাইলেও তার সাথে যেতে রাজী হয়নি সে।