‘বাচ্চাদের আঙ্গুল তুলে দেখানো হয় ব্লগার বলে তাদের বাবাকে হত্যা করা হয়েছে’

শাহবাগে হামলায় নিহত প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption শাহবাগে হামলায় নিহত প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন

বাংলাদেশে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কর্ণধারকে গত বছরের এই দিনে শাহবাগে তার নিজ কার্যালয়ে হত্যা করা হয়।

মামলাটির তদন্ত এখনও চলছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজন আটক হয়েছে। তবে বিচারকাজ এখনো শুরু হয়নি।

এই এক বছর কিভাবে কাটিয়েছে তাঁর পরিবার?

ফয়সাল আরেফিন দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান জলি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "এই এক বছর চলে গেছে কষ্টটা সহ্য করে, নিজেদের সামলাতে আর বাচ্চা আর অন্য দায়িত্ব পালন করতে করতে। তদন্ত আর বিচারকাজ কতটা এগিয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি"।

তিনি বলছেন, "এ ধরনের একটা ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের বোধবুদ্ধি থাকে না নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার। নিজের উঠে দাড়ানো, জাগৃতিকে দেখা, বাচ্চাদের দেখা, বয়োজ্যেষ্ঠরা যেভাবে মুষড়ে পড়েছিলেন-তাদের সামলানো-এভাবেই একটা বছর চলে গেছে"।

এই এক বছরে পথ চলতে যেমন সমর্থন পেয়েছেন তেমনি প্রতিবন্ধকতার মুখেও পড়তে হয়েছে মি: দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমানকে।

মিসেস রহমানের ভাষায় "পদে পদে বুঝেছি যুদ্ধটা কতটা কঠিন। একজনের অনুপস্থিতি যখন নিজের আত্মপরিচয় হয়ে দাড়ায় তখন যুদ্ধ করাটাতো কঠিন"।

"আমার সন্তানেরা এমন কোথাও যেতে পছন্দ করে না যেখানে তাদের আঙ্গুল তুলে দেখানো হয় যে ওদের বাবা ব্লগার ছিল বলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আসলে কষ্টকর যাত্রা, ছোট করে বলে বুঝানো যাবে না"-বলছিলেন মিসেস রহমান।

ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption ফয়সাল আরেফিন দীপনের মরদেহ দেখে স্বজনদের কান্না।

মাত্র দুদিন আগেই তদন্তের অগ্রগতি ও আটকের খবর ডিবি অফিস থেকে রাজিয়া রহমানকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি বলছেন, তাঁর সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ না হলেও ফয়সাল আরেফিন দীপনের বাবা আবুল কাসেম ফজলুল হকের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা যোগাযোগটা হয়তো বেশি রাখতে পারেন।

মিসেস রহমান মনে করছেন, হোলি আর্টিজানে হামলার পর সরকারের পক্ষ থেকে একটা তাগিদ বেশি কাজ করছে।

"যদি নিশ্চিত হওয়া যায় গ্রেফতারকৃতরাই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে, তাহলে বিচারটা দ্রুত হওয়া উচিত, পরিবারের দাবী শুধু নয়-জাতীয় স্বার্থেই দ্রুত বিচার হওয়া উচিত"-বলেন রাজিয়া রহমান।